fbpx
 

নিরাপত্তা শঙ্কা: সৌন্দর্য হারিয়েছে ৪০০ বছরের তাজিয়া মিছিল

Pub: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯ ৪:২০ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯ ৪:২০ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

৪০০ বছরের ঐতিহ্যেবাহী তাজিয়া মিছিলের জৌলুস হারিয়েছে। এর কারণ হিসেবে অনেকেই বলছেন, অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করার কারণে আগের সেই জৌলুস এখন আর নেই বললেই চলে। ২০১৫ সালে ঢাকায় তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে বোমা হামলার পর এই মিছিলের ধরন কিছুটা বদলে ফেলা হয়েছে। এমনকি মিছিলে পাইকদের অংশ নেয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, নিরাপত্তায় তাজিয়া মিছিলের জৌলুস হারানোর বিষয়টি কারও ব্যক্তিগত হলে তাদের কিছু বলার নেই। আগে জননিরাপত্তা তারপর উৎসব।

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পুরান ঢাকার চানখাঁরপুল এলাকার হোসেনি দালান থেকে ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ ধ্বনি তুলে শোকের মাতমে রাজধানীতে বের হওয়া তাজিয়া মিছিলে হাজারো মানুষের ঢল নামে।

সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করে নবীজীর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) এর কারবালার প্রান্তরে শহীদ হওয়ার বিয়োগাত্মক ঘটনা স্মরণে প্রতিবছর তাজিয়া মিছিলে শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলিমরা শোক আর আহাজারির রোল তোলেন।

হোসনি দালান ইমামবাড়ার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মির্জা মোহাম্মদ নাকি আসলাম জানান, ৪০০ বছর ধরে পুরান ঢাকায় শোকের মাতম অর্থাৎ তাজিয়া মিছিল বের করা হয়। কারবালায় ইমাম হোসেনসহ তার পরিবারকে হত্যার মধ্যদিয়ে যে বিষাদময় ঘটনা ঘটেছে ইতিহাসে তার পুনরাবৃত্তি হবে না। মিছিলে বিভিন্ন ধর্ম ও গোষ্ঠীর মানুষ অংশ নিয়েছে।

আয়োজকদের একজন জালালী মোহাম্মদ আবদুল নাসিম বলেন, ‘অন্যান্য বছর মিছিলে পাইকরা অংশ নিতো। দিনটি উপলক্ষে তারা শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি করত। দিনটির শোক স্মরণ করে নিজেদের নিজেরাই আঘাত করে জর্জরিত করতো। কিন্তু এবার সেটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সেইসঙ্গে এবার পাঞ্জাও করা যাবে না। যেটি মিছিলের একটা মূল উপাদান ছিলো।’

শিয়া সম্প্রদায়ের এক মুসল্লি জাবেদ আল আমিন ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘আজ থেকে তিন চার বছর আগেও মিছিলে পাইকরা ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ ধ্বনিতে নিজেদের শরীর রক্তাক্ত করে মিছিল করতেন আর মানুষকে জানান দিতেন কেন দিনটি এতোটা শোকের। কিন্তু এখন নিরাপত্তার কারণে সেটি আর হয় না। এমনকি মিছিলে পাইকদের অংশ নেয়াও নিষিদ্ধ। এটা আমাদের সবার জন্য দুঃখজনক।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে নিরাপত্তার অজুহাতে মিছিলের প্রকৃত জৌলুস হারাচ্ছি আমরা। যদিও বলা হচ্ছে নিরাপত্তার কারণেই অনেককিছু বন্ধ করা হচ্ছে। তাই এখন শুধু কালো জামা-পায়জামা আর নিশান-ঘোড়া নিয়েই মিছিল করতে হচ্ছে।’

তাজিয়া মিছিলে অংশ নেয়া শরীফ কায়সার বলেন, ‘আগে যেভাবে মিছিল করতাম এখন আর সেভাবে পারছি না। কারণ চারদিকে র‌্যাব-পুলিশ। তাদের মাঝে কি সেই আগের মত সানন্দে মিছিল করা যায়? তার ওপর বর্ষা, বল্লম, কাঁচি, ছোরা এসবও নিষিদ্ধ। কিন্তু এসব দিয়েই তো শরীরে আঘাত করে মিছিলের প্রকৃত সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হতো। শোকের আবহ ফুটে উঠতো। এসবের মাধ্যমেই কারবালার বিয়োগাত্মক ঘটনা স্মরণ করা হতো। কিন্তু যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মিছিলের নিরাপত্তার দায়িত্বে আছে, তবুও কেন জানি মনে হচ্ছে জৌলুস হারাচ্ছে এ তাজিয়া মিছিলের প্রকৃত সৌন্দর্য।’

মিছিলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘আগে পাইকরা মিছিলে অংশ নিয়ে নিজেদের শরীর রক্তাক্ত করে কারবালার বিয়োগাত্মক ঘটনাকে স্মরণ করতো। কিন্তু এটি প্রকৃতপক্ষে যেমন নিজেদের জন্য ক্ষতি তেমনই মিছিলে অংশ নেয়া শিশু-কিশোরদের জন্যও। কারণ ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা এতে ভীতির শিকার হতো।’

এছাড়াও নানান দিক বিবেচনা করে বিশেষত জননিরাপত্তার কারণে পাইক, পাঞ্জা, কাঁচি, ছুরি, বর্ষা, বল্লম এগুলো তাজিয়া মিছিলে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলেও যোগ করেন ডিএমপির এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। 


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ