fbpx
 

তিস্তা অধরাই, তবু কেন ফেনী নদীর পানি দিল বাংলাদেশ?

Pub: Sunday, October 6, 2019 10:27 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিবিসি বাংলা : নরেন্দ্র মোদি ও শেখ হাসিনার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যে ৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে তার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশের ফেনী নদী থেকে পানি প্রত্যাহার করতে পারবে ভারত। এই পানি তারা ত্রিপুরা রাজ্যর সাবরুম শহরে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পে ব্যবহার করবে। ফেনী নদী থেকে ১.৮২ কিউসেক (প্রতি সেকেন্ড) পানি প্রত্যাহার করতে পারবে ভারত।

মনু, মুহুরি, খোয়াই, গোমতী, ধরলা ও দুধকুমার—এই ছয়টি নদীর পানিবণ্টনে অন্তর্বর্তী চুক্তি সইয়ের জন্যও জেআরসির কারিগরি কমিটিকে দ্রুত তথ্য-উপাত্ত বিনিময় ও চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করতে শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি তাগিদ দিয়েছেন।

বাংলাদেশের ফেনী নদীর উৎপত্তি নিয়ে একাধিক তথ্য রয়েছে। সরকারি ওয়েব সাইটে ফেনী নদীর উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এর উৎপত্তিস্থল খাগড়াছড়ি জেলার পার্বত্য এলাকা। 

তবে ফেনী নদীর উৎপত্তিস্থল নিয়ে ভিন্ন তথ্য দেয়া হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়াতে। সেখানে বলা হয়েছে যে, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে অবস্থিত পর্বত শ্রেণিতে ২৩°২০´ উত্তর অক্ষাংশ ও ৯১°৪৭´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে উৎপন্ন হয়েছে।

বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নদীটি। নদীটি ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী, খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা এবং চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া এটি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যেও প্রবাহিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মধ্যে সীমানা চিহ্নিতকারী ফেনী নদী বাংলাদেশের অন্তর্গত। কিন্তু ১৯৬০ সাল থেকে ভারত সরকার নদীটির মধ্যভাগ পর্যন্ত নিজেদের দাবি করে আসছে।

নদীর পানি পরিমাপের দুটি একক রয়েছে। একটি কিউসেক এবং অপরটি কিউমেক। অর্থাৎ একটি হিসাব করা হয় প্রতি সেকেন্ডে কত ঘনফুট পানি যাচ্ছে কোন একটা জায়গায় সেটার উপর। আর অপরটি হচ্ছে প্রতি সেকেন্ডে কত ঘনমিটার পানি প্রবাহিত হয় সে অনুযায়ী। বাংলাদেশের সাথে ভারতের নতুন চুক্তি অনুযায়ী, ফেনী নদী থেকে ১.৮২ কিউসেক পানি ভারত তুলে নিতে পারবে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেছেন, ‘সম্পূর্ণ মানবিক কারণেই প্রধানমন্ত্রী হাসিনা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সীমান্ত দিয়ে বয়ে চলা ফেনীর পানি পেলে ওই অঞ্চলের মানুষের জলকষ্ট মেটে, ভারতের এই অনুরোধের পটভূমিতেই প্রধানমন্ত্রী হাসিনা সম্পূর্ণ মানবিক কারণে ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, যেহেতু দুদেশের যৌথ নদী কমিশন বা জেআরসি বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু করেছে তাই তিস্তা নিয়েও আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ঠ কারণ আছে।

তবে ফেনী নদী থেকে ত্রিপুরাতে সামান্য পানি যাবে ভারতে। বাংলাদেশ সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এই দাবি করেছে।

তাদের দাবি, ‘দুই দেশের মধ্যে চারটি এমওইউ সই হয়। এর মধ্যে ফেনী নদী থেকে ত্রিপুরায় সাবরুম শহরে পানি সরবরাহ প্রকল্পে পানি সরবরাহের বিষয়টি সই হয়। এ পানি (১ দশমিক ৮২ কিউসেক) শুধুমাত্রই পান করার জন্য। বিধায় মানবিকতা ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বিবেচনা করে তাতে সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই নদীর যাবে ত্রিপুরার সাবরুম মূলত একটি স্থলবেষ্টিত শহরে। পানীয় জল হিসেবে সাবরুমে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহার করা হয়। যাতে আয়রনের পরিমাণ অনেক বেশি। এসব কারণ মিলিয়ে ওই অঞ্চলটিতে দীর্ঘদিন ধরেই পানি সংকট চলছিল। এই চুক্তির পর ওই অঞ্চলটির পানীয় জলের অভাব অনেকাংশেই পূরণ হবে বলে জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।

সাবরুমের বাসিন্দা এবং লেখক ও গবেষক অশোকানন্দ রায়বর্ধন বলেন, ফেনী নদীর পানি নিয়ে সমঝোতা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ।

অশোকানন্দ রায়বর্ধন বলেন, ‘আগে থেকেই ফেনী নদীর পাড়ে পানি শোধনাগার তৈরির কাজ অনেক দিন ধরেই চলছিল। কিন্তু দুই দেশের মধ্যে নদীর পানি ব্যবহার নিয়ে কোন ধরণের সমঝোতা চুক্তি না থাকায় জলের উৎস নির্ধারিত হচ্ছিল না। যার কারণে এই শোধনাগারের কাজ আটকে ছিল। এই চুক্তির মাধ্যমে এই কাজ এখন থেকে পুরো দমে এগিয়ে যাবে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ