ওয়েলস-গ্লিকের সফরের বার্তা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন মার্কিন সংস্থা ইউএসএইডের সহকারী পরিচালক বনি গ্লিক ও যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস। বাংলাদেশ সফর শেষে এ নিয়ে ইউএসএইডের ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক, বাণিজ্যিক ও সামরিক সম্পর্ক বৃদ্ধিই ছিল এই সফরের উদ্দেশ্য। সফরকালে তারা বাংলাদেশ বিনিয়োগ ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তারা বাংলাদেশে ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাওয়ার যে অঙ্গীকার ইউএসএইড করেছিল তা পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা এখানে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে এলিস ওয়েলস বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও বেসরকারি খাতে ইউএসএইডের অংশীদারিত্ব এদেশের অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে এবং এর গতি বৃদ্ধি করেছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এরমধ্যে রয়েছে, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, হালকা প্রকৌশল, পর্যটন, স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাত। ইউএসএইড মনে করে, এসব খাতে বিনিয়োগ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প নির্ভর অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করে তুলবে।

বিবৃতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন, পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভির সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করা হয়। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট, প্রতিরক্ষা কার্যক্রম জোরদার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ নিশ্চিতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়। সফরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে বৈঠক করেন এলিস ওয়েলস। বৈঠকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বাংলাদেশকে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া তিনি বৈঠক করেছেন জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সঙ্গে। এ সময় তিনি বাংলাদেশে বিশ্বাসযোগ্য ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, সফরের শেষ অংশে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন বনি গ্লিক ও এলিস ওয়েলস। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত প্রোগ্রামগুলোর খবরাখবর নেন তারা। কর্মরত জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তারা। এ ছাড়া, স্থানীয় বাংলাদেশিদের সঙ্গে দেখা করেন বনি গ্লিক। বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গা সংকটে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলেও পুনরায় অঙ্গীকার করেন এলিস ওয়েলস ও বনি গ্লিক। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, রোহিঙ্গা সংকটে সবথেকে বেশি সাহায্য পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৭ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র যে সাহায্য পাঠিয়েছে তার পরিমাণ ৬৬৯ মিলিয়ন ডলার। এরমধ্যে ৫৫৩ মিলিয়ন ডলার খরচ করা হয়েছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রোগ্রামে। একইসঙ্গে কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহায্যেও যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয় ওই বিবৃতিতে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফোনঃ +৪৪-৭৫৩৬-৫৭৪৪৪১
Email: [email protected]
স্বত্বাধিকারী কর্তৃক sheershakhobor.com এর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত