ডিসি সুলতানাসহ ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মধ্যরাতে বাড়ি থেকে সাংবাদিককে তুলে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনসহ তার কার্যালয়ের সাবেক ৩ জন সহকারী কমিশনারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে সরকার। একইসঙ্গে তাদের কেন চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না, তা জানতে চেয়ে নোটিশও পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। 

তিনি জানান, আগের কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে ওই ৪ কর্মকর্তাকে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত রাখা হয়েছে। তাই তারা এখন বেতন-ভাত পাচ্ছেন না। ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করার পর থেকে তারা বেতন-ভাতা পাবেন। 

গত ১৩ মার্চ গভীর রাতে বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগানকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মাদক রাখার অভিযোগে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই অভিযান পরিচালনা করেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার নাজিম উদ্দিন ও সহকারী কমিশনার এস এম রাহতুল ইসলাম। পরে অভিযোগ উঠে, ডিসি সুলতানার নির্দেশেই মধ্যরাতে আরিফুলকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে সাজা দেয়া হয়।

শুধু সাজাই নয়, এমনকি আরিফকে তুলে নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চোখ বেঁধে বিবস্ত্র করে অকথ্য নির্যাতন করে সেই নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করা হয়। চোখ বেঁধে তার কাছ থেকে স্বাক্ষরও নেয়া হয়। ওই ভিডিও প্রকাশ হলে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে। 

মূলত ডিসি সুলতানা কুড়িগ্রাম শহরের একটি সরকারি পুকুর সংস্কারের পর নিজের নামে ওই পুকুরের নাম ‘সুলতানা সরোবর’ রাখতে চেয়েছিলেন উল্লেখ করে বাংলা ট্রিবিউনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন সাংবাদিক আরিফুল। ওই সংবাদ প্রকাশের প্রায় ১০ মাস পর জেলা প্রশাসন আরিফের বাড়িতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে মধ্যরাতে তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে সাজা দেয়।

এ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ডিসি সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দিন, সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এস এম রাহাতুল ইসলামকে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন থেকে অপসারণ করে সরকার। 

এ ঘটনায় সাংবাদিক আরিফুল গত ১৯ মার্চ ডিসি সুলতানা ও সাবেক তিন সহকারী কমিশনারসহ ৩৫-৪০ জনের বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম সদর থানায় অভিযোগ করেন। এরপর উচ্চ আদালত সেই অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ডের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতে আরিফকে দেয়া সাজা স্থগিত করা হয়।

Hits: 23


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফোনঃ +৪৪-৭৫৩৬-৫৭৪৪৪১
Email: [email protected]
স্বত্বাধিকারী কর্তৃক sheershakhobor.com এর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত