আজকে

  • ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২৬শে মে, ২০১৮ ইং
  • ১০ই রমযান, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

জেল-জুলুম সত্যি কি কোন আদর্শের কবর রচনা করতে পারে?

Pub: মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮ ৬:৩৮ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮ ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

পৃথিবীর ইতিহাস বলে- আদর্শের মৃত্যু নেই। প্রজ্জলিত শিখার ন্যায় তা জলে উঠবেই, আলো ছড়াবেই।
আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে ১৯৬২ সালে যখন আফ্রিকার বর্নবাদী সরকার শ্রমিক ধর্মঘটে নেতৃত্ব দেওয়া এবং তথাকথিত বেআইনি ভাবে দেশ ত্যাগের অভিযোগে নেলসন মেন্ডেলাকে প্রথম পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়। তারপর রিভোনিয়ার মামলা থেকে শুরু করে দেশদ্রোহ সহ ভিবিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তার জীবনের একটা দীর্ঘ সময় অর্থাৎ ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত কারারুদ্ধ করে রাখে। কারাবন্দী অবস্থায় তার বেশীরভাগ সময়টাই নির্বাসনে কেটেছে রবেন দ্বীপে। বর্ণবাদী সরকারের মুল উদ্দেশ্য ছিল মেন্ডেলাকে আটকিয়ে রেখে বর্নবাদ বিরোধী আন্দোলন এবং গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠাকে ব্যাহত করা। নেলসন মেন্ডেলা তার জবানবন্দীতে বলেন- “During my lifetime I have dedicated myself to the struggle of the African people. I have fought against white domination, and I have fought against black domination. I have cherished the ideal of a democratic and free society in which all persons live together in harmony and with equal opportunities. It is an ideal which I hope to live for and to achieve. But if needs be, it is an ideal for which I am prepared to die.”
১৯৮৫ সালে সরকার মেন্ডেলাকে মুক্তি দিতে রাজি হয়, তবে তারা শর্ত জুড়ে দেয়- “ মেন্ডেলার দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের আন্দোলন বন্দ করে দিতে হবে। মেন্ডেলা তা প্রত্যাখ্যান করেন।
১৯৯০ সালে মুক্তির পর শ্বেতাঙ্গ সরকারের সাথে আলোচোনায় বসেন এবং অনেক ঘটনার পরিক্রমার পর ১৯৯৪ সালে বর্নবাদের অবসান ঘটিয়ে সম্মিলিত ভাবে তাঁর দেশের মধ্যে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।
নেলসন মেন্ডেলার জীবনের আর একটি প্যাথেটিক ঘটনা হচ্ছে- রবেন দ্বীপে বন্দীর পাঁচ বছরের মাথায় তাঁর ছেলের মৃত্যু সংবাদ। যা তাঁর বন্দী জীবনের ব্যথার আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছিল।
একটু খেয়াল করে দেখন- বেগম জিয়ার জীবনের সাথে কি করে মিলে গেল। ১৯৮২ সালে বেগম জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দিয়ে দেশে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যে স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। আন্দোলনকে চাঙ্গা করতে বেগম জিয়া ১৯৮৩ সালের আগস্ট মাসে ১২ দফা দাবী নিয়ে ৭ দলীয় জোট তৈরি করেন। যদিও শেখ হাসিনা ১৫ দলীয় জোট করেছিলেন এবং এরশাদ পতনের আন্দোলনের পন করে রনে ভঙ্গ দিয়ে ১৯৮৬ সালের ৭ মে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহন করে নিজের খোঁড়া খাদে নিজেই পা দিয়ে ‘জাতীয় বেইমানে’র খেতাব ও কুড়িয়েছিলেন। এর পেছনে অবশ্য যুক্তিও ছিল, কেননা -শেখ হাসিনা বলেছিলেন- এই সরকারের অধীনে যে নির্বাচনে যাবে সে হবে “জাতীয় বেইমান”।
বেগম জিয়া রয়ে গেলেন অনড়, বেইমানীর ছিটেফোঁটা, ক্ষমতার লোভ তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। তিনি রয়ে গেলেন জনতার সাথে, প্রতিজ্ঞা করলেন- প্রকৃত গনতন্ত্র যদি ফিরে না আসে এ আন্দোলন কোনদিন থামবেনা। বেগম জিয়ার শক্ত অবস্থানের জন্য ৯০এর ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার এরশাদের পতন হল, বেগম জিয়া অর্জন করলেন জনতার আস্থা আর জনতা তাঁকে উপাদী দিল- ‘আপোষহীন দেশনেত্রী’। আপোষহীন দেশনেত্রী বাংলাদেশের মাটিতে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করলেন, ফিরিয়ে দিলেন জনতার ক্ষমতা জনতার হাতে। নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী।
আপনাদের নিশ্চই মনে আছে- ১/১১ এর সরকার ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই শেখ হাসিনা এবং ৩রা সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া গ্রেফতার হন। প্রায় এক বছর পর সেনা সমর্থিত সরকার শেখ হাসিনা এবং বেগম জিয়াকে অফার করলেন- আপনাদেরকে ছাড়া যেতে পারে যদি আপনারা দেশ থেকে বাহিরে চলে যান। (আপনাদের নিশ্চই মনে আছে মাইনাস ২ ফর্মুলার কথা)। তখন শেখ হাসিনা; বাংলাদেশের প্রতি যে তাঁর গভীর ভালবাসা তা প্রদর্শন করেছিলেন, ১১ জুন ২০০৮ নির্বিঘ্নে ছাড়া পেয়ে যান, বাংলাদেশের কপালে ঝাঁটা দিয়ে চিকিৎসার নাম করে পাড়ি জমান ছেলের কাছে, সুদুর আমেরিকায়। আর বেগম জিয়া দেশ ত্যাগে রাজি না হওয়াতে, তখনো তাঁকে বন্দী থাকতে হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন- “এদেশের মানুষ, এ দেশের মাটি ছেড়ে আমি কোথাও যাবনা”।
১/১১ এর সরকার শেখ হাসিনার নামে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে ১১ টি মামলা করেন, তাঁর মধ্যে নাইকো দুর্নীতি, মিগ-২৯ ক্রয় দুর্নীতি, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট এর অর্থ আত্মসাৎ, মেঘনা ঘাট বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুর্নীতি, ব্যবসায়ী আজম জে চৌধুরী ও তাজুল ইসলামের কাছ থেকে চাঁদা সহ সব মিলে সেখানে টাকার পরিমান ছিল প্রায় ১৫ হাজার কোটি। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট, নাইকো দুর্নীতি, গেটকো দুর্নীতি সহ মোট পাঁচটি মামলা হয়।
ফখরুল – মইনুল কে সেইফ এক্সিট দেয়ার চুক্তির ভিত্তিতে, প্রনব বাবুর তত্ত্বাবধানে, তামাশার নির্বাচন দিয়ে ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করে। মামলা গুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ প্রনোধিত এই স্লোগান তুলে – শেখ হাসিনার নামের সকল মামলা খারিজ করে দেয়া হয়। আর যেঁ মামলা গুলো ছিল খালেদা জিয়ার নাম, সেই সব মামলার পরিনতি আজ আপনারা দেখছেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে কত টাকা এসেছে, টাকাটা কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, খালেদা জিয়া ট্রাস্ট এর কেউ কিনা এবং সেই টাকাটা এখনো আছে কিনা, এইসব বিবেচনা করলে দেখা যায় – এ মামলা ধোপে টিকে না। আরো সহজ ভাবে যাওয়া যেতে পারে- শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার নামে মাললা হল, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হয়ে মামলাগুলো খারিজ করে দিলেন, খালেদা জিয়ার মামলা চলতে থাকলো এবং আজকে তাঁর শাস্তি হল। এই মামলার রায় যে উদ্দেশ্য প্রনোধিত, এটা বুঝার জন্যে এই সহজ সমিকরনটা কি যথেষ্ট নয়? তা না হলে শেখ হাসিনার মামলাগুলো বাতাসে উবে গেলো কেন?
উদ্দেশ্য একটাই – আপনারা দেখেন বাংলাদেশ থেকে এই আওয়ামী সরকারের আমলে আড়াই লক্ষ কোটি টাকারও বেশী লুট হয়েছে, ব্যাংক গুলো খালী হয়েছে, রিজার্ভ ব্যাংক থেকে টাকা চুরি হয়েছে, শেয়ার মার্কেট লুট করেছে, শুধু মাত্র বিএনপি নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে প্রায় ৮০ হাজার মামলা আর তার আসামীর সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ। শুধু মাত্র বিএনপির নেতাকর্মী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সরাসরি ৫২০ জন খুন, অপহরণের সংখ্যা ৭৪৭ এবং এখন পর্যন্ত নিখোঁজ ১৫৭ জন। সাংবাদিকতার উপর খরগহস্ত, সাংবাদিক হত্যা, ধর্ষন; ধর্ষনের পর হত্যা, ধর্ষিত নারীর আত্মহত্যা সহ সীমাহীন দুর্নীতির বিচার করার মত কোন লোক যদি থাকেন, তিনি বেগম খালেদা জিয়া। সুতরাং খালেদা জিয়াকে যদি সাজানো নাটকের মাধ্যমে বন্দী করা যায়, তবে- উলট পালট করে দে মা লুটে পুটে খাই- লুটে খেয়ে এই দেশটাকে ধংস করতে পারবে।
শুরুতেই মেন্ডেলার কথা বলেছি, আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা চিন্তা করে দেখেন; সত্যের বিজয় হয়েছে, জনতা জিতেছে- প্রিথিবীর ইতিহাস তাই বলে। যদি তাই হয়- বেগম জিয়াকে গ্রেফতারের পর বাংলাদেশের কত মানুষ যে কেঁদেছে; একজনের সাথে আমার দেখা হল রাত সাড়ে দশটার সময়, কথা শুরু হওয়ার একটু পরেই উনি কেঁদে দিলেন, সেকি কান্না আজোর ধারায়। বিশ্বাস করুন তাকে কোন দিন বিএনপির মিছিল – মিটিং এ যেতে দেখিনি, বিএনপির পক্ষে কোনদিন কথাও বলতে শুনিনি, এর নাম ভালবাসা। বাংলাদেশের মানুষ খালেদা জিয়াকে ভালবাসে। ভালোবাসে তাঁর দেশপ্রেমের জন্যে, সততার জন্যে, তাঁর পরিশীলিত ভাষার জন্যে, সদাচরনের জন্যে, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দানের ক্ষমতার জন্যে। সুতরাং যে আগুন নিয়ে খেলা শুরু করেছেন পুড়ে যাবেন, থেমে যান। কেননা- বিশ্বাস কোনদিন পোড়ে না, আদর্শের কবর কোন দিন রচনা হয়না।

ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান
কলামিস্ট (অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী)

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1142 বার

 
 
 
 
ফেব্রুয়ারি ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« জানুয়ারি   মার্চ »
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮  
 
 
 
 
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com