পাশ্চাত্যের পাতা ফাঁদে- মধ্যপ্রাচ্য কাঁদে

Pub: সোমবার, মার্চ ১২, ২০১৮ ৩:২৯ অপরাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, মার্চ ১২, ২০১৮ ৩:২৯ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জাফর পাঠান : জাতিসংঘ সনদ ও আইন-কানুনকে অস্বীকার করে পরদেশে হামলে পরার ও দখল করার প্রতিযোগীতা যেন শুরু হয়েছে বিশ্বব্যপী।দূর্বল দেশগুলি যেন পিৎজার ন্যায় কেটে কেটে ও ছিঁড়ে খাওয়ার সুস্বাদু খাবারে পরিণত হয়েছে! যার বা যেই দেশের বাহুবল আছে তারাই হামলে পড়ছে দুর্বল দেশগুলির উপর।দখল করে নিচ্ছে বিশাল বিশাল এলাকা আর বিভিন্ন ঠুনকো অজুহাতে হত্যা করা হচ্ছে বেসামরিক নাগরিকদের গণহারে।শত্রু শনাক্তে উন্নত প্রযুক্তি হাতে থাকা সত্বেও এমনটি হচ্ছে।দুর্বল রাষ্ট্রগুলির বৈধ সরকারের অনুমতি ছাড়াই একের পর এক হামলা আর দখলের প্রতিযোগীতা চলছে।প্রাধান্য বিস্তারের বৈশ্বয়িক, আঞ্চলিক ও রাষ্ট্রিক স্বার্থে যেন অন্ধ হয়ে গেছে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলি।অথচ চলমান শিক্ষিতের হার ও উন্নত প্রযুক্তির বিচারে বর্তমান প্রজন্মকে বলা হচ্ছে সভ্য-ভব্য প্রজন্ম! প্রাগৈতিহাসিক প্রস্তর যুগে যেমন গায়ের জোর বা বাহুবলকে প্রাধান্য দেয়া হতো একেবারে অন্ধভাবে। উচ্চ শিক্ষিতের এই আধুনিক যুগেও পাল্লা দিয়ে তাই পালন হচ্ছে আরো জোড়ালোভাবে।এখন নৈতিকগতভাবে মনকে জিজ্ঞাসা করলে প্রশ্ন এসে যায়- তাহলে অতীত আর বর্তমানের মধ্যে ব্যবহারগত বা নীতিগত পার্থক্যটা কোথায় ? দেখা যাচ্ছে কোনো ব্যবধান বা পার্থক্য তৈরী হয়নি মন-মানসিকতায়! পঞ্চইন্দ্রীয়ের সহজাত বন্য প্রবৃত্তির কাছে আজো বিবেকবোধ, মনুষ্যত্ববোধ বন্দি! তবে পার্থক্য একটা সৃষ্টি হয়েছে ব্যপক ব্যবধানে, আর তা হচ্ছে উচ্চ প্রযুক্তি বা বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষতা! এই বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষকতাকে মঙ্গলের চেয়ে অমঙ্গলের পথে কাজে লাগিয়ে আরো নৃশংস ও প্রলয়ংকরী অস্ত্রের আবিস্কার হচ্ছে মানুষ নিধনের মানসে! হামলে পড়ছে নিরীহ, শান্তিপ্রিয়, বিবেকবান, দেশপ্রেমিক মানুষদের উপর।
নিছক ধার্মিক, রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে বৃহৎ শক্তিগুলির মাঝে নির্লজ্জ প্রতিযোগীতা চলছে।বিভিন্ন জনপদ পেরিয়ে এখন এই প্রতিযোগীতার কেন্দ্রবিন্দুর নাম হচ্ছে মুসলিম জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত ‘মধ্যপ্রাচ্য’।ক্ষণে সাম্প্রদায়িক কুপ্রবৃত্তিবশে আগ্রাসন চালানো হচ্ছে ও হত্যা করা হচ্ছে গণহারে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে, ক্ষণে রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক স্বার্থে সরকার উচ্ছেদ ও দখল করা হচ্ছে দেশ, ক্ষণে পুরোনো সীমান্ত চিহ্ন মুছে দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে মনগড়া রাষ্ট্র সীমান্ত।শতবার সাহায্য সহযোগীতা চেয়েও পাচ্ছেনা বিশ্বফোরাম জাতিসংঘের কাছে, যা ইতিমধ্যে পকেটস্থ হয়ে গেছে পরাশক্তিদের কাছে! আর সাম্রাজ্যবাদীদের জিহ্বা আরো প্রসারিত করে দিচ্ছে আঞ্চলিক কিছু জনসমর্থনহীন মুসলিম নামধারী রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা।শুধু নিজেদের ক্ষমতা অটুট রাখার স্বার্থে এরা জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে অঙ্গার করে দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের পবিত্র বুককে।এরা পাশ্চাত্যের সাথে মিলে ক্ষমতান্ধ হয়ে মুসলিম অধ্যুষিত ইয়েমেনকে নরকের ধ্বংসস্তুপে পরিনত করছে স্বৈরাচারী মানসিকতা চরিতার্থের স্বার্থে।মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, হাসপাতালগুলি যেন কোনো ভূমিকম্পউত্তর ধ্বংযজ্ঞের সাক্ষ্য দিচ্ছে।আর অভূক্ত, অপুষ্টি, মহামারীর মিছিল জাতিসংঘের দ্বারে দ্বারে মাথা ঠুকড়িয়েও ওদের ঘুম ভাঙ্গাতে পারছেনা!
বিশ্বময় অশান্তির জনক যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় এবং মধ্যপ্রাচ্যয়ীয় দোসরেরা নেপথ্যে থেকে একের পর এক সন্ত্রাসীগোষ্ঠী তৈরী করে চলেছে মধ্যপ্রাচ্যজুরে ওদের নীলনক্সা বাস্তবায়নের উদ্যেশ্যে।অনেক প্রলয়ের পর যখন সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলি চূড়ান্ত পরাজয়ের সম্মুক্ষীণ, ঠিক তখনি নেপথ্য থেকে প্রকাশ্যে এসে সন্ত্রাসীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে- সিরিয়া ও ইরাকে ঘাঁটি গেড়ে প্রমান করে দিলো নিজেদের চরিত্রকে, আসলে এরা কোন্ প্রকৃতির মানবতার ধারক!!! এখন প্রকাশ্যেই এরা একের পর এক আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে দেশে দেশে মোতায়েন করছে সৈন্যবাহিনী এবং জবরদস্তীমূলকভাবে তৈরী করছে সামরিক ঘাঁটি।ওদের আরেক দোসর ইসরাইল দেদারসে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করে, ভূমি দখল করে বৃদ্ধি করে চলেছে ওর সীমান্ত আকার! আর তা শুধু তাকিয়ে দেখছে ঠুটো জাতিসংঘ! এই জাতিসংঘ আবার সক্রীয় হয়ে উঠে তখন, যখন পরাশক্তিগুলির কোনো আইন বা প্রস্তাব পাশের প্রয়োজন পড়ে কোনো দেশের উপর হামলে পড়তে! ইরাক, সিরিয়া, লেবানন ও লিবিয়াকে জাতিগত ও গোত্রগত বিভাজনে ফেলে খন্ড খন্ড করার মানসে এখন ওরা মরণ কামড় বসিয়েছে দেশগুলির উপর।আর লুটে নিচ্ছে রাষ্ট্রিীয় সম্পদ।
উক্ত নীলনক্সা বাস্তবায়নের বাহিরেও ওদের আরেকটি বৃহৎ পরিকল্পনা কাজ করছে, আর তা হলো ক্রমবর্ধমান মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, তুরস্ক, লেবানন বা হিজবুল্লাহর প্রভাবকে ভেঙ্গে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে করতলগত করা এবং ইসরাইল ও সৌদি আরবকে নিরাপদ রাখা। আর তরল সোনার উপর একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা।তবে ওদের আশায় গুড়ে-বালি পড়েছে। রাশিয়া, চীন, ইরান, তুরস্ক, লেবানন বা হিজবুল্লাহ, সিরিয়া ও ইরাক একই কাতারে এসে লড়াই করাতে সাম্রাজ্যবাদীদের নীলনক্সার ঘর একে একে ভেঙ্গে পরছে।পিছু হটছে যাবতীয় পরিকল্পনা।যতই ব্যর্থ হচ্ছে ওদের পরিকল্পনা- আর ততই ভয়ংকররূপে ফণা তুলছে ওরা।কারন পাশ্চাত্যের ক্ষয়িষ্ণু অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এবং ধরে রাখতে মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্যপ্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই ওদের সামনে।বিশ্বময় আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় ওরা এখন অন্ধ প্রায়।তবে পাশ্চাত্যের প্রতিপক্ষ দ্রত বর্ধনশীল সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিগুলি সেই প্রচেষ্টায় চীনের প্রাচীর হয়ে রুখে দাঁড়িয়েছে।
তবে সার্বিক পর্যালোচনা ও বাস্তবতার আলোকে বলা যায় পাশ্চাত্য এবং তার দোসরেরা আর একক আধিপত্য কায়েম করতে পারবেনা মধ্যপ্রাচ্যে এবং বিশ্বের বিভিন্নপ্রান্তে।তবে ওদের চক্রান্ত চলতে থাকবে বিভিন্ন পন্থায়।আর এই চালিয়ে যাওয়ার মাঝে যদি কোনো দুঃসাহসিক সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে নেয় কোনো প্রতিষ্ঠিত শক্তির বিরুদ্ধে- তবে তা বড় কোনো ভয়াবহ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যা একসময় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ অবধি গড়াতে পারে! তবে সেই বোকামি পাশ্চাত্য করবেনা বলেই মনে হয়।বিশ্বের শক্তির নয়া মেরুকরণকে এখন পাশ্চাত্যের মেনে নিয়েই চলতে হবে, নচেৎ নিজেদের ধ্বংসের খেলা খেলতে হবে।যতভাবেই সামরিক সজ্জা বিশ্বব্যাপী ওরা বিন্যাস করুকনা কেন, অপরকে আঘাত করলে নিজ ধ্বংস থেকে ওদের আর রেহাই নেই। এটাই এখন বাস্তব ও চরম সত্য।আর সাক্ষীগোপাল জাতিসংঘ ? উত্তাল দরিয়ায় পরাশক্তিগুলির দেয়া লাইফ জ্যাকেট পরেই বেঁচে থাকতে হবে হাবুডুবু খেয়ে খেয়ে।
লেখক : কবি ও আন্তর্জাতিক কলাম লেখক ।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1222 বার