পুরনো পাওনার খতিয়ান

Pub: শুক্রবার, এপ্রিল ১৩, ২০১৮ ৪:০৬ অপরাহ্ণ   |   Upd: শুক্রবার, এপ্রিল ১৩, ২০১৮ ৪:০৬ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

গোলাম মাওলা রনি:
বরাবরের মতো এবার যে দিন পয়লা বৈশাখ, এ উপলক্ষে প্রকৃতিতে দুটো পরিবর্তন লক্ষ করা যাবে। প্রথমত আগের দিন ঋতুরাজ বসন্তের বিদায় সম্পন্ন হবে চৈত্রসংক্রান্তির মাধ্যমে এবং দ্বিতীয়ত গ্রীষ্মকালের সূচনা হবে নববর্ষের প্রথম দিনটির সুবাদে। আদিকালে যখন বাংলা নববর্ষ চালু হয়েছিল, তদানীন্তন বাংলার অর্থনীতির শতকরা পঁচানব্বই ভাগ আবর্তিত হতো কৃষিকে কেন্দ্র করে। মানুষের কর্মকাণ্ড, লেনদেন এবং সরকারি রাজস্ব আয় কৃষি ছাড়া কল্পনাও করা যেত না। টাকা-পয়সার পরিবর্তে হাটবাজারে, সরকারি অফিসে এবং ব্যক্তিগত লেনদেনে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে উৎপন্ন ফসলকে বাট্টা হিসেবে ব্যবহার করা হতো। আবহমান বাংলায় ঐতিহ্যগতভাবে বছরে দুটো ফসল উৎপন্ন হতো এবং চৈত্র মাসকে সরকারি রাজস্ব আদায়ের সময় করে সম্রাট আকবর সরকারিভাবে বাংলা নববর্ষ চালু করেছিলেন এ কারণে যে, তখন কৃষকদের হাতে নগদ টাকা অথবা ফসল থাকত বছরের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।

বাংলা নববর্ষের আদিকালের ঐতিহ্য পর্যালোচনা করলে দিনটির মধ্যে আনন্দ উল্লাস করার মতো উপকরণ পাওয়া যায় না। অধিকন্তু সরকারের রাজস্ব কর্মকর্তা, ঋণদাতা মহাজন, আড়তদার, মজুতদারসহ ধনিক শ্রেণী সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওনা আদায়ের জন্য চৈত্র মাসজুড়ে যে তাণ্ডব চালাত, তাতে ঋণগ্রস্ত অভাবী মানুষেরা বিভীষিকার মধ্যে দিন কাটাত। চৈত্র মাসের শেষ দিনে হালখাতার মাধ্যমে পুরনো বছরের দায় শোধ অথবা ধারদেনা সমন্বয় করে পয়লা বৈশাখ দেনা-পাওনার নতুন খতিয়ান রচিত হতো। ফলে পুরো মুঘল আমল এবং ব্রিটিশ আমলে বাংলা নববর্ষে আনন্দ উল্লাস করার কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ নেই।

কালের বিবর্তনে বাংলার অর্থনৈতিক ভিত্তি কৃষির পরিবর্তে শিল্প ও বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল হতে থাকে। বিশেষ করে পাকিস্তান আমলে পঞ্চাশের দশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে তৎকালীন পূর্ববাংলায় রীতিমতো শিল্প বিল্পব ঘটে যায়। শিল্প খাতে কর্মসংস্থান, আয় রোজগার এবং ব্যবসাবাণিজ্যে পুরো পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে আমাদের বর্তমান বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে ছিল। ফলে বাঙালির জাতীয় জীবনে চৈত্র মাসের দেনা-পাওনার চাপ কমে যেতে থাকে। অনেক স্থানে তাই চৈত্র মাসের শেষ এবং বৈশাখ মাসের প্রথম সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন মেলা, আনন্দ উৎসব, খেলাধুলার প্রতিযোগিতা ইত্যাদি শুরু হয়ে যায়। মানুষের হৃদয়ের অন্তর্নিহিত আনন্দ ও উল্লাস যখন অর্থনৈতিক তাপ ও চাপ থেকে কিছুটা হলেও নিষ্কৃতি লাভ করতে থাকে, তখন তা উৎসব আকারে আমাদের সমাজ-সংসার ও রাষ্ট্রে বিস্তার লাভ করে।

স্বাধীন বাংলাদেশে বিশেষত আশির দশকে যখন রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তি খাতে ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটে, তখন মানুষের জীবনযাত্রায়ও ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। পোশাক-আশাক, গল্প-কবিতা-উপন্যাস, বাহারি উৎসব, নানা বর্ণের পার্বণ এবং সঙ্গীতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ করা গিয়েছিল আশির দশকে। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের ছাত্রছাত্রীরা পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করেন, যা পরে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে পালিত হতে থাকে। এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হতে হতে যখন চূড়ান্তপর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল, তখনো মানুষের উৎসাহ-উদ্দীপনা, উৎসব-আনন্দ ইত্যাদিতে কোনো ভাটা পড়েনি। কারণ রাষ্ট্র ও সরকারের যেসব কর্ম নাগরিকদের ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, হতোদ্যম ও হতাশার মধ্যে ফেলে দেয়, সেসব কর্ম তখনো আমাদের রাজনীতিকে গ্রাস করেনি।

তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের আন্দোলনের পুরোটাই ছিল রাজনৈতিক। ব্যক্তিগতভাবে সে সরকারকে অভিসম্পাতকারীদের সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় বহুলাংশে কম হওয়ায় জনজীবনে যেমন উৎসব ছিল, তেমনি প্রতিটি উৎসব ছিল তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং আশঙ্কাবিহীন।

বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে গত সাড়ে তিন দশকের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের আমেজ এখন আর তেমন অবশিষ্ট নেই। সন্দেহ-অবিশ্বাস-ভয় এবং বহুমুখী চক্রান্ত আমাদের উৎসবের আমেজকে গত দুই দশক ধরে তিলে তিলে শেষ করে আজ একেবারে প্রান্তসীমায় নিয়ে এসেছে। বর্তমানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের বড় বড় কর্তা এবং ক্ষমতাবানেরা পয়লা বৈশাখের উৎসব নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে চলেছেন। তারা একবার বলছেন- যেকোনো মূল্যে পয়লা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা এবং রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য স্থানে অনুষ্ঠিতব্য মেলা-পান্তা ইলিশ পর্ব নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হবে। তারা জঙ্গিবাদী সংগঠন এবং ইসলামপন্থী দল-মতের লোকদেরকে- যারা পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ বিরোধিতা করে কিংবা সমালোচনা করে- তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণের পাশাপাশি উৎসবকারীদের পক্ষে সুদৃঢ়ভাবে সর্বশক্তি নিয়ে অবস্থান নেয়ার ব্যাপারে আশ্বাস বাণী শুনিয়ে চলছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পুলিশের কর্তাব্যক্তিরা উল্লিখিত বক্তৃতা বিবৃতির পাশাপাশি আবার এমনসব কথাবার্তা বলছেন, যাতে উৎসবের আমেজ উল্টো আতঙ্কে পরিণত হচ্ছে। তারা বলছেন- ‘উৎসব করা যাবে কিন্তু মুখোশ পরা যাবে না। পয়লা বৈশাখ বিকাল ৫টার মধ্যে উৎসব শেষ করতে হবে এবং বিকাল ৫টার পরপরই ঘরে ফিরে যেতে হবে।’ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের নিরাপত্তাবলয়, তল্লাশি এবং জননিরাপত্তার দোহাই দিয়ে বিভিন্ন স্থানে জনগণ ও যানবাহন চলাচল সীমিত কিংবা নিষিদ্ধকরণের তোড়জোড় দেখিয়ে অনেক কিছু করা গেলেও উৎসব করা যায় না। গত কয়েক সপ্তাহের নানাবিধ বাধা বিপত্তির সঙ্গে সর্বশেষ ছাত্র আন্দোলন এবারের পয়লা বৈশাখের উৎসব পালনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। চৈত্র মাসের সাতাশ তারিখ, এই নিবন্ধটি লিখছি, যা ত্রিশে চৈত্র শুক্রবার প্রকাশিত হচ্ছে। আজকের দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কার্যত অচল হয়ে আছে ছাত্রদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের কারণে। আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় তা এই মুহূর্তে বলা মুশকিল। যদি ধরেও নেই যে, শুক্রবারের মধ্যে অর্থাৎ পয়লা বৈশাখের আগেই সমস্যাটির সমাধান হয়ে যাবে, তবুও আন্দোলনের রেশে এবারের উৎসব আগের তুলনায় ম্লান হয়ে যেতে পারে।

এবার এ লেখার শিরোনাম প্রসঙ্গে কিছু বলি। পয়লা বৈশাখ ১৪২৫ সনে বাঙালির জীবন কতটা তাৎপর্যময় হয়ে উঠবে অথবা কতটা অস্থিরতাময় আশঙ্কার কবলে পড়বে তা বাংলাদেশের গত একটি বছরের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়াদি বিবেচনা করলেই বলে দিতে পারবেন। আমাদের দেশে দৃশ্যমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট হয়েছে- এ কথা স্বীকার না করে উপায় নেই। আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, জনগণের ক্রয়ক্ষমতা, অভ্যন্তরীণ ভোগ্যপণ্যের উৎপাদন এবং ভোগ করার সামর্থ্য যথেষ্ট বেড়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, রাষ্ট্রযন্ত্রের কোনো কোনো সংস্থার নিয়ন্ত্রণহীন আধিপত্য, দুর্নীতির নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হওয়া, কিছু স্পর্শকাতর বিষয়ে বিচারহীনতা, ধনী ও দরিদ্রের মারাত্মক বৈষম্য, সামাজিক ও রাজনৈতিক বৈষম্য এবং লুটেরা শ্রেণীর অতীব দাপট ও তাণ্ডবের কারণে সাধারণ ও নিরীহ জনগণ ক্রমেই নিজেদের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা হারিয়ে ফেলতে শুরু করেছেন।

একটি দেশ ও জাতির সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও সুখময় আনন্দের নাম জনগণের আত্মপ্রত্যয়ী মনোভাব। তারা দেশের সামগ্রিক অবস্থার কারণে স্বদেশের সব কিছুর জন্য গর্ব করে এবং দেশকে সেভাবে অন্তর থেকে ভালোবাসতে আরম্ভ করে। তারা কোনো অবস্থাতেই দেশত্যাগ করতে চায় না এবং দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, রাষ্ট্রীয় প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ইত্যাদির ওপর আস্থাশীল থাকে। তারা তাদের রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে বিতর্কে জড়ায় না, বড়দেরকে সম্মান করে এবং মর্যাদাকর পদ ও পদবিকে ভুলেও অসম্মান করে কথা বলে না। এভাবে করতে করতে একটা সময় তাদের হৃদয় বৃহৎ আকার ধারণ করে এবং চিত্ত প্রশান্ত হয়ে ওঠে। ফলে জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবোধ জাগ্রত হতে থাকে। মানুষের অবিভক্ত জাতীয়তাবোধ এবং প্রশান্ত চিত্তই কেবল নির্মল আনন্দ উৎসব ও উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করতে পারে যা বর্তমান বাংলাদেশে কল্পনা করা অসম্ভব।

বিদায়ী বাংলা সনে আমাদের জাতীয় জীবনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এবং বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যে কারণে জাতি হিসেবে অনাগত দিনে আমাদেরকে বিরাট দায় শোধ করতে হবে। অভ্যন্তরীণ নাজুক রাজনীতির কারণে চীন-ভারত বিরোধের উপলক্ষ হিসেবে আমাদের অনেক দায়-দেনার ভার বহন করতে হচ্ছে। একই কারণে, মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে রাষ্ট্র হিসেবে আমরা যে দায় বহন করছি, তেমনি বাংলা নতুন বছরে লাখ লাখ ভারতীয় মুসলমান যারা বংশপরম্পরায় আসাম রাজ্যে বসবাস করছে তাদের বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মতো পুশইন করার ভারতীয় হুমকির মুখে আমরা যে কিরূপ অসহায় তা কাউকে বোঝাতে হবে না। এমনিতেই বাংলাদেশ অধিক জনসংখ্যার ভারে মানব ইতিহাসের সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত। তার ওপর যদি রোহিঙ্গা ও অসমীয়দের আগমনে হঠাৎ করে কয়েক লাখ নতুন সংখ্যা যোগ হয় তবে তা কী পরিমাণ বিপর্যয় সৃষ্টি করবে সে কথা ভাবলে নববর্ষের শোভাযাত্রার আনন্দ ছাপিয়ে হৃদয়কে বেদনায় ভারাক্রান্ত করে তোলে।

বিদায়ী বছরে ঘটে যাওয়া বড় বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শ্রমজীবী মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া এবং বেসরকারি খাতে নতুন কর্মসংস্থান না হওয়ায় জাতীয় দায়-দেনার কারণে বাংলা নববর্ষে আমাদের আনন্দ অনেকাংশে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। সরকার সমর্থক এবং সরকারবিরোধী গোষ্ঠীর বিভেদ বিসংবাদ, পারস্পরিক ক্ষোভ-ঘৃণা এবং এমনকি, একে অপরকে ধ্বংস করার মনমানসিকতার কারণেও আমাদের বর্ষবরণের আনন্দ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অনাগত দিনের দুশ্চিন্তা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং হতাশার কারণে দেশের বিরাট জনগোষ্ঠী প্রাণখুলে হাসতে ভুলে গিয়েছে। তারা নববর্ষের দিনে কী ধরনের মুখোশ পরে কিভাবে বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে আনন্দ নৃত্যে রাজপথ মাতিয়ে ‘মালিক-মালকিনে’র প্রশংসায় পঞ্চমুখ হবেন, তা অনেকের মাথায় ঢুকছে না।

আমার মতে, বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ সন বাংলাদেশে ভিন্নতর এবং যুগান্তকারী কিছু উদাহরণ সৃষ্টি করবে। এই বছরের অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে জাতির রাজনৈতিক ভাগ্য যেভাবে গড়বে, ঠিক সেভাবে পরবর্তী সিকি শতাব্দী চলতে থাকবে। বর্তমান সরকার যদি তাদের মতো করে পৌষ মাসের নির্বাচনে জিতে যায় তবে যে ইতিহাস রচিত হবে, তা আমাদের জাতীয় জীবনকে যেদিকে পরিচালিত করবে, তার ঠিক বিপরীত ঘটনা ঘটবে যদি সরকারের ইচ্ছা বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে কিছু ঘটে যায়। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের রজানীতি কতগুলো ‘সাধারণ ব্যাকরণ’ মেনে চলে; কিন্তু পয়লা বৈশাখের দেশে রাজনীতির কোনো ব্যাকরণ নেই। নেই সুনির্দিষ্ট কোনো নীতি ও আদর্শ। বছরের ছয়টি ঋতুর মতো আমরাও বছরে অন্তত ছয়বার মত পরিবর্তন করি। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে আমরা যেমন নববর্ষের আনন্দে রাজপথে উল্লাস করি, তেমনি কালবৈশাখীর প্রচণ্ড তাণ্ডব সহ্য করে আমরা দাঁড়িয়ে থাকি।

বর্ষা আমাদের ভিজিয়ে নরম করে। শরৎ আমাদের নির্মল করে। হেমন্তে আমরা উজ্জীবিত হই এবং শীতে জেগে উঠি বিস্ময়কর উষ্ণতা নিয়ে। সবার শেষে শীতের উষ্ণতার আবেশ নিয়ে আমরা বসন্তকে বরণ করে নিই এবং পুনরায় নতুন একটি বর্ষে প্রবেশ করার আগে অতীতের দায়-দেনার হিসাব-নিকাশ করি নতুন হালখাতা রচনার মাধ্যমে।
লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1130 বার