আজকে

  • ৯ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২৩শে জুন, ২০১৮ ইং
  • ৮ই শাওয়াল, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

ঈদ আসলে কাদের?

Pub: রবিবার, জুন ১০, ২০১৮ ৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, জুন ১০, ২০১৮ ৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

হাবীবাহ্ নাসরীন:
সাম্য আর একতার বার্তা নিয়ে ঈদ আসে প্রতিবছরই। আমরা তুমুল আনন্দ নিয়ে ঈদও পালন করি। কিন্তু সাম্য আর আসে না। একতা থাকে না কোথাও। ধনী-গরিব বৈষম্যহীনতার যে ঈদ তার সঙ্গে আমাদের দেখা হয় না। বরং ধনীর টাকার ঝলকানি আর দরিদ্রের জীর্ণতা আরো বেশি স্পষ্ট হয়ে ধরা দেয়। ঈদ এলেই বড় বড় শপিংমলগুলো যে ঝলমলে আলোয় সেজে ওঠে তার আড়ালেই ঢাকা পড়ে যায় হাজারো অভাবগ্রস্ত মানুষের গল্প।

প্রতি ঈদে মিডিয়া যাদের নিয়ে ব্যস্ত থাকে তারা ‘তারকা’। রোজা রাখুক বা না রাখুক, ঈদ তাদের কেমন কাটবে, সম্ভাব্য সাজগোজ, পোশাক, খাবার আর বেড়ানোর জায়গার তালিকা দিয়ে পাঠককে চমকে দেয়াতেই যেন আনন্দ! অথচ ঈদ মুমিনদের জন্য আল্লাহর তরফ থেকে উপহার। যদি বলতে চান ‘উৎসব সবার’, তবে সেটাও প্রতিষ্ঠা হোক। উৎসব যদি সবারই হয় তবে যারা সত্যিকারের রোজাদার অথচ সারাদিন পরে দুই মুঠো শুকনো মুড়ি আর পানি খেয়ে ইফতার করেন, তাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই কেনো? রমজান সংযমের মাস। অথচ নামী দামী রেস্টুরেন্টগুলোতে আগে থেকে বুকিং না থাকলে আপনি সেখানে ইফতারই করতে পারবেন না, এতটাই ভিড়! নামাজ আদায় হোক বা না হোক, কোনোমতে উপোস থেকে বা না থেকে সন্ধ্যা হতেই একগাদা খাবারের ওপর হামলে পড়াকে নিশ্চয়ই সংযম বলে না!

সেদিন সকালে নামী একটি কনফেকশনারীতে দেখলাম ট্রে ভরা গাদা গাদা মিষ্টি ডাস্টবিনে ফেলে দিচ্ছে। কারণ জিজ্ঞেস করতে বললেন, ‘বিক্রি না হলে আগেরদিনের মিষ্টি এভাবেই ফেলে দেয়া হয়। দামী ক্রেতাদের নিশ্চয়ই বাসি মিষ্টি খাওয়ানো যায় না!’ তা বটে! বললাম, ‘কিন্তু কত মানুষ তো মিষ্টি দূরে থাক, তিনবেলা ঠিকমতো খেতেই পায় না। আমি অনেককে চিনি যারা এসব মানুষের জন্য কাজ করেন। নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ান আর কী! আপনারা চাইলে যোগাযোগ করিয়ে দিতে পারি। আপনারা একটা ফোন করলেই তারা ছুটে চলে আসবে। আর যেসব খাবার আপনারা ফেলে দিচ্ছেন, তারা সেসব নিয়ে তুলে দেবে অনাহারী মানুষের মুখে।’ তখন একটাই উত্তর এলো, ‘ম্যাডাম, আমাদের অনুমতি নেই।’ ফেলে দেয়ার অনুমতি আছে, দান করার অনুমতি নেই, হায়রে সাম্য!

প্রতি ঈদের আগে ‘জাকাতের কাপড়’ আনতে গিয়ে ডজন ডজন মানুষের মৃত্যুর খবর নতুন কিছু নয়। বরং এমনকিছু না ঘটলে কেমন খালি খালি লাগে। যেন ঈদের প্যাকেজ থেকে কিছু একটা বাদ পড়লো! অথচ ইসলামের কোথাও ‘জাকাতের কাপড়’ বস্তুটির কোনো অস্তিত্ব নেই। যেটি আছে, সেটি হলো ‘জাকাত’। নিয়ম হলো এমনভাবে জাকাত আদায় করার যেন যাকে জাকাত দেয়া হলো তাকে আর পরবর্তীতে জাকাত নিতে না হয়। অর্থাৎ ‘স্বাবলম্বী’ করে দেয়া। স্বাবলম্বী তো দূরে থাক, অতি নিম্নমানের লুঙ্গি আর শাড়ির জন্য মরতে হয় অসংখ্য হতভাগ্যদের! আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই যদি লক্ষ্য হয়, তবে এটি নিশ্চয়ই তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের সঠিক উপায় নয়!

এত বৈষম্যের দেশেও ঈদ আসে! আমরা নির্লজ্জের মতো নতুন পোশাক পরে ঘুরে বেড়াই। ফিরনি, পায়েশ, পোলাও, কোর্মা খাই। আমাদেরই দেশের আনাচে কানাচে ঈদে নতুন জামা না পাওয়ার দুঃখে ছোট্ট বুকে একবুক কষ্ট নিয়ে কত শিশু ঘুমাতে যায় সে হিসাব রাখার সময় আমাদের কোথায়!

হাবীবাহ্ নাসরীন , কবি ও সাংবাদিক

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1075 বার

 
 
 
 
জুন ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« মে    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
 
 
 
 
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com