ফেসবুক, শহিদুল আলম ও ক্ষমতার বয়ান

Pub: শুক্রবার, আগস্ট ১৭, ২০১৮ ১:১৫ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: শুক্রবার, আগস্ট ১৭, ২০১৮ ১:১৫ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

মিনা ফারাহ :
প্রতিক্রিয়া হবে জেনেই কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পাবলিক মন্তব্য করে থাকেন। এই কাজে বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করা হয়। ইদানীং সফল জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বরা ভেরিফাইড ফেসবুককেই মতপ্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তবে কারো বক্তব্য জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হলে, সেটা রুখে দেয়া প্রতিটি সুনাগরিকের দায়িত্ব। এই ধরনের একটি ঘটনা, বাংলাদেশের রাজনীতিকে সন্ত্রাসের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

ভেরিফাইড ফেসবুকে মন্তব্যের সাথে সাথে, যথারীতি ছাত্র আন্দোলনেরও মোড় ঘুরে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল ব্যক্তির মন্তব্য। প্রতিটি ঘটনার সাথে সাথে মন্তব্য করার দায়িত্ব কেন নিজের কাঁধে নিলেন? অথচ নন কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, নন কোনো বৈধ সরকারের উপদেষ্টা। তারপরও তার হাতে অনেক ক্ষমতা। ভেরিফাইড পেজে তার বক্তব্যকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়। অনেকেই বলেন, তার অনুমতি ছাড়া ক্ষমতাসীনদের সুতা নড়ে না। তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে- অতীতে ইরান, লিবিয়া, হাইতির পাপাডকের ছেলে বেবিডকের বেলায়। বিষয়টির চুলচেরা বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

মন্তব্যের সুস্পষ্ট ধারাবাহিকতা লক্ষণীয়। শহিদুল আলমকেও গ্রেফতারের পরেই যথারীতি পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে ফেসবুকে একাধিক মন্তব্য। বিষয়টি এরকম। নোবেল লরিয়েট থেকে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি কিংবা সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান, প্রত্যেকেই তার বিচারে দোষী। নির্দোষ শুধুই অনির্বাচিত সরকার, যার সাথে পারিবারিক সম্পর্ক। পাশ্চাত্যের শিক্ষার দাবি করলেও, আচরণে প্রতিফলন না থাকার অভিযোগে উত্তাল সোস্যাল মিডিয়া। মন্তব্যের মাধ্যমে আইনের গতি পাল্টে দেয়ার ক্ষমতা আছে তার।

রাতের অন্ধকারের সব অগ্রিম খবর জানার দাবি। সুতরাং, সুজন-এর বাড়িতে মিটিংয়ের খবরও অগ্রিম জানতেন। শহিদুল আলমকে ডিবির তুলে নেয়ার বিষয়টিও দায়িত্ব নিয়েই বলেছেন। যেন সবকিছুই অগ্রিম জানেন। তাহলে বার্নিকাটের গাড়িতে হামলা হওয়ার আগেই প্রতিহত করা হলো না কেন? প্রত্যেকেই দোষী হলে, ফেসবুকের অ্যাডমিন তার ডিফেন্স মূল্য হারিয়েছেন।

ভেরিফাইড ফেসবুক থেকে, ‘শুধু সফল ও জনপ্রিয় হওয়ার জন্যই কি আজ শহিদুল আমলকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখার কথা বলা হচ্ছে? তাহলে কি আমিসহ সব সফল ও জনপ্রিয় মানুষই আইনের ঊর্ধ্বে?’ বক্তব্যের ভেরিফাইড উত্তর লেখাটির গন্তব্য।


সরকারকে বছরের পর বছর ডিফেন্ড করছেন। দীর্ঘ দিন আমেরিকা প্রবাসী হওয়ায় গণতান্ত্রিক ও বৈধ সরকারের ডেফিনেশন জানার কথা। তারপরেও মনে করিয়ে দিচ্ছি- সরকার তারাই, যারা ভোটে নির্বাচিত। রাগ, অনুরাগ বিবর্জিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার শপথ নেয়ার অধিকার শুধু তাদেরই।

আন্দোলন অনির্বাচিত দখলদারদের বিরুদ্ধে হলে, সেটাও লাইসেন্সবিহীন ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনের মতোই বৈধ। ট্রাকচালক বা রাষ্ট্রচালক, ‘অবৈধ লাইসেন্স’ বলে কিছু নেই। বরং রাষ্ট্রচালকের লাইসেন্সের বৈধতার বিষয়টি খুব গুরুত্বসহকারে। অ্যাডমিন জানেন, চার মাসের কথা বলে পাঁচ বছরেও অবৈধ কাগজপত্র বৈধ করতে ন্যূনতম চেষ্টা করা হয়নি। উল্টা প্রতিপক্ষকেই ফাঁসিয়ে দেয়া হলো।

আমেরিকা প্রবাসী ভালোভাবেই জানেন, ৫ জানুয়ারিমার্কা নির্বাচন হলে মার্কিনিদের প্রতিক্রিয়া কী হতো! জানেন, বিভিন্ন ইস্যুতে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে কয় শ’ মামলা আদালতে এবং ট্রাম্প-রাশিয়া কানেকশন তদন্তে মুলার ইনভেস্টিগেশনের ক্ষমতা কতটা। এই তদন্ত বন্ধ করার ধৃষ্টতা আজ অব্দি দেখাননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। অথচ বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট, ৩১ ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপির পরিচালকও। প্রেসিডেন্টের হাতে অসীম ক্ষমতা সত্ত্বেও আইনের কাছে তিনি ক্ষমতাহীন। এত কিছু জেনেও সুবুদ্ধি দেয়ার বদলে, ভেরিফাইড ফেসবুকে যা চলছে, অবশ্যই আইন নিয়ে খেলা। শহিদুল কেন, কেউ সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তবে ১৯৭৫ সলে যারাই নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করেছিল, প্রত্যেককেই গ্রেফতার করা উচিত। খুনিদের অনেকেই এখন শীর্ষ ব্যক্তি আশপাশে। এমন ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা কঠিন নয়। ভাইরাল হওয়া ট্যাংকের ওপর লুঙ্গি ড্যান্সের ছবি অবশ্যই দেখেছেন। তারপরেও নির্বাচিত সরকারের খুনিদের এড়িয়ে গিয়ে শহিদুলকে গ্রেফতার? এর মানে আইসিটি আইনে শুধু তারাই কথা বলবেন।

আলজাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে অনির্বাচিতদের সমালোচনা করা সাংবিধানিক অধিকার। টকশোতে যে বিষয়গুলোতে যে ভাষায় ‘আন-ইলেকটেন্ড’ সরকারের সমালোচনা, শহিদুল এর ধারেকাছেও নেই।

আরো লেখা হয়েছে, ‘নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগে শহিদুল অভিনয় করছে।’ ‘অভিনয়?’ তার বক্তব্য মিডিয়া দমন করলেও, প্রত্যেকেরই আমলে নেয়া উচিত, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না হওয়ায়, এই ধরনের বক্তব্য দেয়ার অধিকার নেই। ৮ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডের সাক্ষাৎকারে শহিদুলের বক্তব্য ২ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড থেকে ৬ মিনিট ২৫ সেকেন্ড পর্যন্ত। সাড়ে ৩ মিনিটের বক্তব্য কয়েকবার শুনেছি। এর সাথে জ্যাকসন হাইটসের ফুটপাথ থেকে সদরঘাটের লঞ্চ, সমালোচকদের ভাষা এক।

প্রশ্ন, আমি কেন ৫৭ ধারার পক্ষে! সন্ত্রাসবাদকে উসকে দিয়ে, যেভাবে আইসিটি আইনের অপব্যবহার, ডাণ্ডাবেড়ি পরাতে হলে শহিদুলদের মতো আরো কিছু আন্তর্জাতিক ব্যক্তিকে তা পরানো দেখতে চাই। এ ছাড়া সোজা আঙুলে ঘি উঠবে না। উদাহরণস্বরূপ, বার্নিকাটের গাড়িতে হামলার পরেও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার নিয়ে মাথাব্যথা নেই ওয়াশিংটনের।
অথচ একজন আমেরিকান যাজককে মুক্তি না দেয়ায়, এরদোগানের ওপর দুই দফা নিষেধাজ্ঞায় লণ্ডভণ্ড তুরস্কের অর্থনীতি। বিদেশীদের দৃষ্টি আকর্ষণ ছাড়া সম্ভব নয়। আলজাজিরার সাথে সাক্ষাৎকারে এটাই প্রমাণ করতে পেরেছেন শহিদুল। এর পরেই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক।


কে এই ‘বিখ্যাত’ এবং ‘কুখ্যাত’ শহিদুল আলম? তার মতো অনেকেরই নিদ্রা ভেঙেছে। ফলে কেউ রিমান্ডে, কেউ মামলায়, কেউ দেশছাড়া, কাউকে দেশ ছাড়ার আগেই চ্যাংদোলা করে প্লেন থেকে ধরে আনছে সাদা পোশাকধারী। এদের ঘাড়ের ওপরেই ভর করে ক্ষমতায়। আওয়ামী শুকতারাদের অনেকেই এখন কুখ্যাত থেকে বিখ্যাত শহিদুল।

মতে না মিললেই ‘রাজাকার’ আবিষ্কার করা অসুখের মতো। শাহবাগীদের অন্যতম, বিচারপতি সিনহা এবং ইমরান সরকারের চামড়াতেও রাজাকার! তাহলে কি রাজাকাররাই মেজরিটি? একবার শাহবাগের প্রশংসায় সংসদ কাঁপিয়ে তোলা হয়। আবার রাজাকার খুঁজতে গিয়ে শাহবাগী গ্রেফতার করে। আসল কথা- চোরের মন পুলিশ পুলিশ।

ডিবির উল্লেখযোগ্য বক্তব্য, ‘কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন শহিদুল আলম। রিমান্ডে তাকে অনুতপ্ত মনে হয়েছে’ (যুগান্তর ৯ আগস্ট)। ক্ষমা চেয়েছেন? বিষয়টির ভেরিফিকেশন খুব প্রয়োজন। এই কাজে ভেরিফাইড ফেসবুক যথেষ্ট নয়। ডিবিকে বলছি, এত সমালোচক রাখবেন কোথায়? তবে আইসিটি আইনের সত্যিকারের প্রয়োগ চাইলে- ১৫ আগস্টের সমর্থকদের এখনই গ্রেফতার করুণ।

প্রসঙ্গ, অবাধ ক্ষমতা বনাম কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট। সরকারের উপদেষ্টা হওয়ায়, কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট প্রশ্নে, এটিএন-এর সাংবাদিককে বলেছেন, ‘আমার কোনো রিস্ক নাই, কারণ আমি এই দেশে খুব কমই থাকি।’ কথা ঠিক। তবে আসলেই কোথায় থাকেন, বিষয়টি অদৃশ্য গডের মতো।

অবৈধ সরকারের সমালোচনা করলেই আমেরিকার সাথে তুলনা করা তাদের রুটিন। সব বলেন কিন্তু একটি বাদে। সেটা হলো-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাকস্বাধীনতা এবং সরকারবিরোধী সমালোচনার অধিকার। আমেরিকা প্রবাসী বলেই জানেন, কার্টুন আঁকা তো বটেই, প্রেসিডেন্টের স্ট্যাচু বানিয়ে জুতা মারলেও গ্রেফতারের আইন নেই। এমনকি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকেও ট্রাম্পের অবস্থা করা হলেও মমতাকে গ্রেফতার করেননি নরেন্দ্র মোদি।

সুতরাং, যে ক্ষমতাবলে নিজেই আইসিটি উপদেষ্টা হয়ে ৫৭ ধারায় সমালোচকদের ডাণ্ডা মেরে ঠাণ্ডা করছেন, আমরাও সে ক্ষমতার প্রমাণ চাই। ৫৭ ধারার প্রয়োজনীয়তা এবং বিশেষ কারো কার্টুন আঁকলে ১৪ বছরের জেল কেন, সেটাও জানতে হবে। (ঈশ্বরের সমালোচনাই নিষিদ্ধ।) সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কোন অধিকারবলে অবৈধ কর্মকাণ্ডকে বৈধ বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলে? সবচেয়ে বড় সমস্যা, কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট।

এ জন্য পাবলিক বা আদালত কারোরই মতামত চাওয়া হয়নি। শোনা যায়, তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় টাকা এবং দুর্নীতির গোডাউন। পাবলিকের টাকা কোথায় খরচ করছে, পাবলিককে জানানো দায়িত্ব। জানে কয়েকজন। আমেরিকা প্রবাসী মাত্র জানেন, পাবলিকের টাকা খরচ করার আগে পাবলিককে জানাতে হয়। উদাহরণস্বরূপ, স্যাটেলাইটের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও, নয়-ছয়ের কথা পাবলিক শুনেছে।


এবার মূল্যবান বক্তব্যের উত্তর। বলেছেন, ‘…তাহলে কি আমিসহ সব সফল ও জনপ্রিয় মানুষ আইনের ঊর্ধ্বে?’ কিন্তু সত্য হলো, আইনের ঊর্ধ্বে থাকার প্রমাণ নিজেরাই দিয়েছেন। মাসিক এক লাখ ৮০ হাজার ডলার বেতন, যা একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের অর্ধেক বার্ষিক বেতনের সমান। না জানিয়ে পাবলিকের টাকায় পকেট ভরলেও আইনের বেলায় কেন প্রযোজ্য হবে না? বরং পরবর্তীতে ক্ষমতা আরো সম্প্রসারিত করে, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কথা একাই বলছেন। এর অনেক প্রমাণ মিডিয়ায়।

১৯৯১ থেকে ১/১১ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি জোট গণতান্ত্রিক সম্পর্কেই ছিল। পাল্টাপাল্টি একবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়, আরেকবার বিরোধী দলে। জামায়াত কয়েকদফা বিরোধী জোটে থাকলেও তখন এসব প্রশ্ন অপ্রয়োজনীয়। প্রসঙ্গ হাইকমান্ডের ৩৬০ ডিগ্রি পরিবর্তন যেভাবে!

রাজনীতিতে কারো প্রবেশের পরেই ভৌতিক ঘটনাগুলো ঘটছে। ধারণা করা যায়, এই কারণে বাংলাদেশ আজ দ্বিখণ্ডিত। ক্ষমতার অপব্যবহারের অবাধ সুযোগ। ওয়াশিংটনের ‘কে-স্ট্রিটের’ পরিচিত মুখ। আন্তর্জাতিক দালাল সম্প্রদায় এই সুযোগই নিলো। ২০১৩ সালে ‘স্টেটসমেন্ট’ পত্রিকাকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন- ‘এই সরকারকে উৎখাতের ক্ষমতা কারোরই নেই। চেষ্টা করলে, রক্তের নদীর ওপর দিয়ে হেঁটে মায়ের কাছে পৌঁছাতে হবে।’

এখানে কিছু ঐতিহাসিক এবং সমান্তরাল উদাহরণ। জিনপিং, ক্যাস্ট্রো… এদের চোখে গণতন্ত্র হচ্ছে দুশমন। কমিউনিজমই একমাত্র উপযুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা। ক্ষমতাসীনরা অবশ্যই কাউকে অনুসরণ করেন। যে কারণে মাহমুদুর রহমান থেকে শহিদুল আলমের ঘটনা, থামছেই না। এদের বহু অ্যাকশনে কমিউনিজমের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ।

যে ‘বিপ্লব’ ঘটল চীনে। চেয়ারম্যান মাওয়ের সমান মর্যাদা দিয়ে আমৃত্যু প্রেসিডেন্ট লি জিনপিং। সহিসালামতে থাকলে আরো ৬০ বছর প্রেসিডেন্ট। সমালোচনা করলেই গ্রেফতার। বই-পুস্তকে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, জীবনী বাধ্যতামূলক। রাস্তায় স্ট্যাচু-পোস্টার বাধ্যতামূলক। বিরোধী দলের চিহ্নও নেই। ধর্মগ্রন্থ এবং ধর্মাঙ্গনের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আক্রমণ। বরং ঈশ্বরের মর্যাদা দেয়া হয়েছে জিনপিংকে। স্ট্যাচুর সামনে আরাধনা করার ব্যবস্থা করেছে বেইজিং। মা-বাবারা ছোটছোট বাচ্চাদের পকেটে ইচ্ছে করেই জিনপিংয়ের ছবি ঢুকিয়ে দেয়। তবে দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়া সত্ত্বেও চীনারাই সর্বোচ্চ সংখ্যায় দেশত্যাগী। পশ্চিমে অ্যাসাইলাম প্রার্থীদের, বার্ষিক ফাঁসির সংখ্যাতে এবং গোপন ক্যাম্পে আটকদেরও এক নম্বরে।

জিনপিংয়ের জন্য কোনো আইন লাগে না। কারণ, তিনি নিজেই আইন। সেই ক্ষমতাবলে বন্দুকের নলে দেশশাসন। ৫৭ ধারায় বিশেষ কারো সমালোচনা করে, কার্টুন এঁকে, অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি জেলে। বহু সমালোচকের জীবন লণ্ডভণ্ড। কত হাজার মামলা আদালতে, বিচারকরাও অসহায়।

ঈশ্বর ও মানুষের দূরত্ব বুঝতে চাই। ৫৭ ধারায় কোনো কোনো পরিবারের সাথে ঈশ্বরের দূরত্ব কমেছে। শহিদুলদের মতো অনেকেই আন-ইলেকটেডদের সমালোচনা করে জেলে।

ইমেইল: farahmina@gmail.com

ফেসবুক: minafarahfacebook

ওয়েবসাইট : www.minafarah.com
এখানে প্রকাশিত সব মতামত লেখকের ব্যক্তিগত, শীর্ষ খবর ডটকম’র সম্পাদকীয় নীতির আওতাভুক্ত নয়।

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1153 বার

আজকে

  • ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
  • ১৩ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

 
 
 
 
 
আগষ্ট ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« জুলাই   সেপ্টেম্বর »
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
 
 
 
 
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com