বাংলাদেশের ক্যান্সার ‘দুর্ণীতি’ : পর্ব-২

Pub: রবিবার, অক্টোবর ৭, ২০১৮ ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, অক্টোবর ৭, ২০১৮ ৩:৫৩ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

(ইসলাম ধর্মের আলোকে)

ম. তানজুম:

“ঘুষ, দুর্ণীতি বা অসৎ উপায়ে অর্জিত অর্থে কেনা গরুর গোস্ত খাওয়াও হারাম’ এ সহজ-সরল সত্যটা বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই হৃদয়াঙ্গম করতে পারেননি । যদিও এ বিষয়ে পবিত্র কোরান ও হাদিসে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে । বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ট মানুষ মুসলমান । বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী আমাদের রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম । তাই এ পর্বে ইসলাম ধর্মের আলোকে ঘুষ, দুর্ণীতি বর্জনের আবশ্যকতা নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করবো । প্রয়োজন একটু অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখা । কয়েক বছর আগেও সততার মর্যাদা ছিল সবার উপরে । সময়ের বিবর্তনে ও বিবিধ পারিপার্শ্বিক কারণে মানুষ বদলে যায়, এখন সততার অপর নাম বোকামী । তাই আজকাল জরাজীর্ণতা বেষ্টিত সমাজে সৎ ও গুণীজনেরা উপেক্ষিত হয়, সমাদৃত হয় ঘুষখোর, দুর্ণীতিবাজ ও অযোগ্যরা ।অসাধু লেবাসধারীরা আনুষ্ঠানিকতায় একাকার হয়ে যায়, আবার ঘুষ, দুর্ণীতিতেও নিমজ্জিত থাকে, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের এ এক অদ্ভুত ভন্ডামী এবং তামাশা । ইসলামের প্রথম রোকন হলো নামায যা আল্লাহপাকের ঘোষণা অনুযায়ী “নিশ্চয়ই নামাজ খারাপ ও নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত রাখে (আল-কুরআন-২৯:৪৫)।” নামাজে পঠিত প্রতিটি আরবী বাক্যে বান্দা মহান আল্লাহ্’র দরবারে পুনঃ পুনঃ এ স্বীকৃতিই প্রদান করে যে, সে ভাল ও কল্যাণকর নীতির পক্ষে ও দুর্নীতির বিপক্ষে কাজ করে।একজন প্রকৃত ঈমানদার ও নামাজী কখনো ঘুষখোর কিংবা দুর্ণীতি পরায়ন হতে পারেননা ।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,” আমি মানব এবং জিন জাতিকে একমাত্র আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।” (সূরা যারিয়াত; আয়াত নং ৫৬) । ইসলামের বিধিবদ্ধ ‘ইবাদত’ তথা নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত প্রভৃতি কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত হলো- সৎ পথে আয়-উপার্জন বা হালাল রুজি। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘হে মানবজাতি! পৃথিবীতে যা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্যবস্তু রয়েছে, তা থেকে তোমরা আহার করো।’ -সূরা বাকারা : ১৬৮ ।

হারাম রুজি দু’ভাবে হতে পারে, একটি বস্তুগত এবং অপরটি পদ্ধতিগত।
১. বস্তুগত :
কিছু কিছু বস্তু রয়েছে যা মূলগতভাবেই হারাম। এগুলোকে কোনভাবেই হালাল করার সুযোগ নেই। যেমন: মাদক দ্রব্য, চুরি, ডাকাতি, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা, শুকরের গোশত, মৃত প্রাণির গোশত ইত্যাদি।
২. পদ্ধতিগত :
কিছু কিছু বস্তু রয়েছে যা মূলগত হারাম নয় বরং পদ্ধতির কারণে হারাম। যেমন সুদ, ঘুষ, উপরি আয়, বখশিস,স্পীড মানি, জুয়া, লটারী, ধোঁকা, প্রতারণা, মজুতদারী, কালোবাজারী, মুনাফাখোরী, ফটকাবাজারী, চোরাচালান, ওজন ও পরিমাপে কম দেয়া, দ্রব্যে ভেজাল মেশানো, ভেজাল পণ্য বিক্রি করা, পতিতাবৃত্তি, খেয়ানত, ধাপ্পাবাজি, অশ্লীলতা প্রসারকারী ব্যবসা, অশ্লীল নাচ-গান, মাদক দ্রব্যের উৎপাদন ও বিপনন, জবরদখল, লুন্ঠন, ডাকাতি, রাহাজানি, সন্ত্রাস, মাস্তানী, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ছিনতাই, আত্মসাৎ, মূর্তি বানানো ও মূর্তির ব্যবসা, ভাগ্য গণনার ব্যবসা, চোরাইমাল ক্রয়-বিক্রয়, সিন্ডিকেট করে জিনিসপত্রের দাম বাড়ানো ইত্যাদি।

আল্লাহ্ তায়ালা আমাদেরকে অপরিসীম-অগণিত নিয়ামতের মধ্যে ডুবিয়ে রেখেছেন। খাদ্য-পানীয়, আলো-বাতাস সবই তিনি সুচারুরূপে দান করেছেন । একজন মানুষ জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মহান আল্লাহ্ তায়ালার অগণিত নেয়ামতে লালিত-পালিত হয়। জীবনধারণের উপকরণ সন্ধান করা ইসলামি শরিয়তের একটি স্পষ্ট নির্দেশ। মানব আত্মা প্রকৃতিগতভাবে রিজিক অন্বেষণের পেছনে ছুটে চলে। আর আল্লাহ্ তায়ালা মানুষকে নির্দেশ দিয়েছেন ভূপৃষ্ঠে বিচরণ করতে এবং তার দেয়া রিজিক ভোগ করতে। হালাল রিজিক উপার্জন করে বেঁচে থাকা বিশাল সম্মান ও মর্যাদার বিষয়। আল-কোরআনে হালাল রিজিক উপার্জন প্রসঙ্গে বিভিন্ন ভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে : (১) “আর পৃথিবীতে কোনো বিচরণশীল নেই, তবে সবার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ নিয়েছেন, তিনি জানেন তারা কোথায় থাকে এবং কোথায় সমাপিত হয়। সবকিছুই এক সুবিন্যস্ত কিতাবে রয়েছে।”-সুরা-হুদ, আয়াত-৬ (২) “অতঃপর নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর,তোমরা সফলকাম হবে।”-সুরা-আল-জুমা, আয়াত-১০ । (৩) “হে বিশ্ববাসীগণ,তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। আর সুদের যা বকেয়া আছে তা পরিহার করো; যদি তোমরা বিশ্বাসী হও। কিন্তু যদি তোমরা তা না করো তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও।”-সুরা বাকারা-২৭৯ । (৪) “হে রাসুলগণ, তোমরা পবিত্র ও ভালো বস্তু থেকে খাও এবং সৎকর্ম কর। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আমি সম্যক জ্ঞাত।”-সুরা আল-মুমিনুন :৫১ । (৫) “হে মুমিনগণ, আহার কর আমি তোমাদের যে হালাল রিজিক দিয়েছি তা থেকে এবং আল্লাহর জন্য শোকর কর, যদি তোমরা তারই ইবাদত কর।”-সুরা বাকারা:১৭২ ।

ইসলামে জীবিকা অন্বেষণের জন্য ও সৎ পথে প্রয়োজনীয় অর্থ উপার্জনের বিষয়ে জোরালো তাগিদ দেয়া হয়েছে। আল্লাহতায়ালা সমগ্র সৃষ্টিকুলের জীবিকা প্রদান করেন, তবে অক্লান্ত পরিশ্রম ও সর্বাত্মক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বান্দাকে হালাল ভাবে বৈধ রুজি-রোজগার করতে হয়, এটাই ইসলামের বিধান। ইসলামি জীবনব্যবস্থায় জীবনোপকরণ অর্জনের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখাকে ফরজ ইবাদত হিসেবে গণ্য করে মহানবী (সাঃ) ঘোষণা করেছেন,

(১) “হালাল রুজি অন্বেষণ করা ফরজের পরেও একটি ফরজ।” –বায়হাকি

(২) ইসলামের নির্দেশনার আলোকে ঘুষ দেয়া, নেয়া বা এর সাথে কোনো ধরণের সম্পৃক্ততা রাখার কোনো সুযোগ নেই। কেননা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে,
‘‘আবদুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহণকারী উভয়কে লানত দিয়েছেন’’।

(৩) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আল্লাহ তা‘আলা পবিত্রতা ছাড়া কোনো সালাত কবুল করেন না, আর হারাম উপার্জনের দানও আল্লাহ তা‘আলা কবুল করেন না।’’

(৪) হারাম পথে উপার্জন করা মাল নিজের কাছে গচ্ছিত রাখার সুযোগ নেই। বরং তা সওয়াবের আশা না করে কেবল দায়মুক্তির আশায় জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করে ফেলতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘হে মুমিনগণ, তোমরা ব্যয় কর উত্তম বস্তু, তোমরা যা অর্জন করেছ এবং আমি যমীন থেকে তোমাদের জন্য যা উৎপন্ন করেছি তা থেকে এবং নিকৃষ্ট বস্তুর ইচ্ছা করো না যে, তা থেকে তোমরা ব্যয় করবে। অথচ চোখ বন্ধ করা ছাড়া যা তোমরা গ্রহণ করো না। আর জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিত’’।

(৫) কারো কোনো মাল খেয়ে ফেলার পর যদি তা ফেরত দেওয়ার সামর্থ না থাকে, তবে সে মাফ চেয়ে নিবে। কেননা হাদীসে এসেছে, আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যদি কেউ তার ভাইয়ের ওপর জুলুম করে থাকে, হোক তা মান-ইজ্জত অথবা সম্পদ বিষয়ক, সে যেন আজই তা থেকে দায়মুক্ত হয়ে নেয়, সে দিন আসার পূর্বে যখন কোনো টাকা পয়সার লেনদেন হবে না। সেদিন যদি তার নেক আমল থেকে থাকে তবে জুলুম পরিমাণ নেক আমল তার কাছ থেকে নিয়ে নেওয়া হবে। আর যদি নেক আমল না থাকে তবে মাযলুম ব্যক্তির গুনাহ নিয়ে তার ওপর চাপানো হবে’।

(৬) ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহর নির্ধারিত রিজিক পূর্ণমাত্রায় লাভ না করা পর্যন্ত কোনো জীবজন্তুই মারা যায় না। সাবধান! আল্লাহকে ভয় কর এবং বৈধ পন্থায় আয়-উপার্জনের চেষ্টা কর। রিজিক প্রাপ্তিতে বিলম্ব যেন তোমাদের তা উপার্জনে অবৈধ পন্থা অবলম্বনে প্ররোচিত না করে। কেননা আল্লাহর কাছে যা রয়েছে, তা কেবল তার আনুগত্যের মাধ্যমেই লাভ করা যায়। (ইবনে মাজা)

(৭) আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত,মহানবী (সাঃ) বলেন, কোনো ব্যক্তি হারাম পন্থায় সম্পদ উপার্জন করে, তা থেকে দান-খয়রাত করলে তা কবুল করা হবে না এবং সে তার এ সম্পদে বরকত প্রাপ্ত হবে এরূপ কখনো হতে পারে না। তার পরিত্যক্ত হারাম মাল কেবল তার জন্য দোজখের পাথেয় হতে পারে (তা দিয়ে আখেরাতের সৌভাগ্য ও সাফল্য অর্জন করা যায় না)। আল্লাহতায়ালার নিয়ম হচ্ছে, তিনি মন্দের দ্বারা মন্দকে নিশ্চিহ্ন করেন না (হারাম মালের দান দ্বারা গুনাহ মাফ করেন না)। বরং ভালো দ্বারা মন্দ নিশ্চিহ্ন করেন (হালাল মালের দান দ্বারা গুনাহ মাফ করেন। নাপাক দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা যায় না। (মুসনাদে আহমাদ)।

(৮) শরিয়তের দৃষ্টিতে রিজিক অন্বেষণে শ্রম ব্যয়ের গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে নবিজি (সাঃ) বলেছেন, ‘নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্য সর্বোত্তম খাদ্য’।

হালাল উপার্জন তথা জীবিকা নির্বাহের মূলধারাকে ইসলাম সুনির্দিষ্ট নীতিমালা দ্বারা নিয়ন্ত্রণযোগ্য করে দিয়েছে, যাতে আয়-উপার্জনের ক্ষেত্রে মানুষ জীবন আর জীবিকার আবর্তে তার মানবিক গুণাবলী বিসর্জন দিয়ে অমানুষে পরিণত না হয়। যদিও নৈতিক অবক্ষয় ও ইসলামি মূল্যবোধ বিবর্জিত ভোগলিপ্সা আমাদেরকে চরম দুনিয়ামুখী করে তুলেছে। হাদিসে বলা হয়েছে যে, ‘মানবজাতির কাছে এমন একটি সময় আসবে, যখন মানুষ কামাই-রোজগারের ব্যাপারে হালাল-হারামের কোনো বাছ-বিচার করবে না।’ –সহিহ বোখারি

হালাল রিজিক অন্বেষণ করাও একটি ইবাদত । আল্লাহই রিজিকের মালিক। পবিত্র ও হালাল রিজিক অন্বেষণ-উপার্জন করা আদৌ কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয় রবং এটি একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও আবশ্যিক বিষয়। কারণ কেয়ামতের ময়দানে বান্দাকে তার জায়গা থেকে এক চুল পরিমাণও নড়তে দেয়া হবে না, যতক্ষণ না সে এই প্রশ্নের উত্তর প্রদান করতে পারবে যে, সে তার জীবিকা কীভাবে অর্জন করেছে এবং কোথায় তা ব্যয় করেছে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ” যে ব্যক্তি হারাম মালের এক লোকমা তার পেটে ঢোকাবে, ৪০ দিন পর্যন্ত তার নামাজ-রোজা, ইবাদত-বন্দেগি কবুল হবে না ।”- তিরবানি শরিফ ।দুনিয়ার মোহে অন্ধ হয়ে হালাল-হারামের বাছবিচার না করে, হক-হালাল না চিনে যে যেভাবে পারছি অর্থ উপার্জনের পেছনে ছুটছি। সুদ, ঘুষ, চুরি, বাটপারী, খুন, হত্যা, রাহাজানি, জবরদখল- এমন কোনো ঘৃণ্য পন্থা নেই, যা আমরা অবলম্বন করছি না। একবারও ভেবে দেখছি না, এ হারাম উপার্জনের কারণে আমাদের ইবাদত-বন্দেগি, নামাজ-রোজা, দান-খয়রাত সব বরবাদ হয়ে যাচ্ছে।

ইসলামী নীতিমালায় দুটি দিক রয়েছে- একটি হক্কুল্লাহ মানে আল্লাহর হক বা অধিকার, যা আদায় করা ফরজ। তবে আল্লাহর হক যেমন, নামাজ-রোজা-হজ্জ ইত্যাদি পালন করা না করার দায়বদ্ধতা শুধুই আল্লাহর কাছে। আল্লাহ এসব পালন করলেও কাউকে মাফ করতে পারেন, আবার পালন না করলেও মাফ করতে পারেন। অন্যটি হচ্ছে হক্কুল ইবাদ বা বান্দার হক। আল্লাহর হকের বিষয়ে আল্লাহর তরফ থেকে হয়তো ক্ষমা পাওয়া যেতে পারে ; কিন্তু কোনো বান্দার হক কোনো মানুষ যদি সামান্যতম নষ্ট, খেয়ানত বা আত্মসাৎ করে, তারা পার পাবে না। অর্থাৎ তারা মুক্তি পাবে তখনই, যখন যার হক নষ্ট বা অন্যায়ভাবে গ্রাস করা হয়েছে, তার হাতে-পায়ে ধরে দাবি ছাড়িয়ে নেয়া ও ক্ষমা পাওয়া যায়।দুর্ণীতি, সুদ, ঘুষজনিত কারণে যে ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা যদি ক্ষমা করে দেয়, তবেই ক্ষমা পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া বিকল্প আর কোনো পথ নেই। ঘুষখোর লোক মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানাসহ বিভিন্ন পবিত্র প্রতিষ্ঠানে বা অনুষ্ঠানে দান করে সাধারণের বাহবা কুড়ায়, যা অর্থহীন । সরকারী কোন উন্নয়নমূলক কাজে যে অর্থ বা সম্পদ বরাদ্দ দেয়া হয়, সেই রাষ্ট্রীয় সম্পদের মালিক দেশের আঠার কোটি জনগণ । যদি কেউ ওখান থেকে কিঞ্চিৎ পরিমান অর্থ বা সম্পদ আত্মসাৎ করে তবে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের কাছে ক্ষমাপ্রাপ্ত না হলে শেষ বিচারে তার বা তাদের কোন ক্ষমা নেই !

পরিশেষে বলা যায়, আল্লাহ্ আমাদের সৃষ্টি করেছেন শুধুমাত্র তাঁর ইবাদতের জন্য এবং ইবাদত কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত হালাল রুজি । হালাল রুজি অর্জন ছাড়া (আল্লাহর অনুগ্রহ ব্যতীত) জান্নাতে যাওয়া অসম্ভব। কারণ, হালাল রুজি অর্জন ছাড়া কোন আমলই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। সকল আমল, সকল ইবাদত কবুলের জন্য, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ও জান্নাত লাভের জন্য আল্লাহ আমাদের সকলকে হালাল রুজি-উপার্জনের তাওফিক দান করুন।আমীন।

(চলবে)


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1267 বার