৩০ ডিসেম্বর আসছে আর নির্বাচনী সহিংসতাও বাড়ছে

Pub: মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৮ ২:১৮ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৮ ২:১৮ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আফসান চৌধুরী:
নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতা অনেক বেড়েছে এবং আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এটা অপ্রত্যাশিত কিছু নয় কিন্তু মাত্রাটা অনেক বেশি। গ্রেফতার, মামলা এবং সমাবেশ ও মোটর যাত্রার উপর হামলা সবসময়ই চলছে। নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি, এ অবস্থায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে যে, ২০১৮ সালের নির্বাচন বহু বছরের মধ্যে সহিংসতম নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

সহিংসতার ঘটনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে এবং মিডিয়া রিপোর্ট অনুসারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়েই এর শিকার হচ্ছে। বেশ কিছু নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এতে বোঝা গেছে যে নির্বাচনে পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে রয়েছে।

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার আশঙ্কা কি নির্বাচন-পূর্ব সহিংসতা উসকে দিচ্ছে?

এই সহিংসতার একটি কারণ হলো বিজয়ীর সব কিছুতেই জেতার মানসিকতা। অনেকেই মনে করেন যে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার মাত্রাটা বিজয়ী পক্ষই বেশি করে। হয় প্রতিশোধ, না হলে শাস্তি হিসেবে এটা করা হয়। ফল প্রকাশের পর পরাজিত পক্ষ অনেকটাই কোনঠাসা থাকে।

আরো পড়ুন ঃ বাংলাদেশে দরিদ্র রাজনীতিবিদের কোন মূল্য নেই

আওয়ামী লীগ মোটেই গোপন রাখেনি যে তারা মনে করে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ব্যাপক মাত্রায় হত্যাযজ্ঞ চালাবে এবং শেখ হাসিনা থেকে নিয়ে দলটির সবাই এ কথা বলেছে। এই অবস্থানের উপর ভিত্তি করেই প্রচারণা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি বিজয়ী হলে কি পরিমাণ রক্তপাত হবে, সে ব্যাপারেই তারা জনগণকে সতর্ক করার চেষ্টা করছে।

বিএনপি অবশ্য বলেছে যে, এটা একটা নির্বাচনি কৌশল মাত্র কারণ গত এক দশক ধরে তারা আওয়ামী লীগের নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে, এর উল্টাটা ঘটেনি। তারা বলেছে তাদেরকে বিভিন্নভাবে দুর্ভোগে ফেলা হচ্ছে এবং এর মধ্যে একটি হলো তাদেরকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এই মাত্রাটা এতটাই বেড়েছে যে, নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরুর পরও নেতাদের তুলে নিয়ে কারাগারে রাখা হচ্ছে। বিএনপি বলছে যে, এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের আচরণ ফুটে উঠেছে।

দলটি আরও বলেছে যে, তাদের দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া তার ম্যানিফেস্টোতে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি সব ধরণের প্রতিহিংসামূলক আচরণ এড়িয়ে চলবেন এবং সে কারণেই প্রতিহিংসার যত কথা বলা হচ্ছে, এগুলি আসলে আওয়ামী লীগের সৃষ্টি এবং ভোটারদের ভয় দেখিয়ে আওয়ামী লীগে ভেড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ।

তবে, অনেকেই মনে করেন যে, নির্বাচনে বিজয়ী হলে এই প্রতিশ্রুতি হয়তো পুরোপুরি রাখা হবে না। আওয়ামী লীগ-বিএনপি সঙ্ঘাত গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে এবং দুই দলই এটা করতে এমন যেমনটা ঘটছে, শুধু মাত্রাটা সেখানে বাড়বে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে যে দলই জিতুক না কেন পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে বলে আশঙ্কা হয়। অতিমাত্রায় সহিংসতা, সঙ্ঘাত, কোর্ট-কাচারি, আইনি অভিযোগ, জামিনের মতো বিষয়গুলো বাংলাদেশের রাজনীতির স্থায়ী উপাদান হয়ে গেছে সম্ভবত।

একে অন্যকে দোষারোপ এবং অসহায় ইসি

যাই হোক, দুই দলই সহিংসতার জন্য একে অন্যকে দোষারোপ করছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের বাসায় হামলা হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ বলেছে যে, বিএনপি নিজেই এটা করেছে। আওয়ামী লীগ আরও বলেছে যে, তাদের ক্যাডাররাই এইসব সহিংসতার শিকার হচ্ছে বেশি এবং তাদের বেশ কয়েকজন ক্যাডার নিহতও হয়েছে।

তবে বিএনপির কয়েকজন সহিংসতায় নিহত হয়েছে এবং সারা দেশেই তাদের সমাবেশে হামলা হয়েছে। সহিংসতা খুব গণতান্ত্রিকভাবে ছড়িয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

নির্বাচনের আগের দিনগুলোর উপর নজর রাখা এবং একটা সহিংসতামুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করাটা মূলত নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব কিন্তু কেউই মনে করে না যে, তাদের পক্ষে খুব বেশি কিছু করা সম্ভব। নির্বাচন কমিশন নিজেই বলেছে যে, অতিমাত্রায় সহিংসতার জন্য তারা বিব্রত, কিন্তু এর অর্থ কি সেটা কেউই জানে না। এর অর্থ হতে পারে যে, এটা নিয়ন্ত্রণে তাদের ক্ষমতা সীমিত। বিব্রতবোধ দিয়ে সহিংসতামুক্ত অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

রাজনৈতিক ও অন্যান্য অনেক শক্তি সহিংসতায় জড়িয়ে গেছে এবং সেটা হয়তো যে কারো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। নির্বাচন কমিশনকে অনেকটাই অসহায় দেখাচ্ছে এবং বিরোধী নেতা, মিডিয়া এবং সাধারণ মানুষ এ বিষয়ে একমত হবে।

নির্বাচনের জন্য দায়বদ্ধ রিটার্নিং অফিসারদের জেলার প্রধান হিসেবে কাজ করার কথা। কিন্তু তাদের নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। আদেশের জন্য একদিকে অপেক্ষা চলছে, অন্যদিকে বাস্তবতা হলো জনগণের অংশগ্রহণের চেয়েও এই নির্বাচনে আইন শৃঙ্খলা বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।

সারা দেশ থেকেই উভয় দলের কর্মীদের মধ্যে সহিংসতার ব্যাপক রিপোর্ট পাওয়া গেছে। দলীয় নেতারা এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আহ্বান জানাননি তাই সহিংসতার মাত্রা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। তারা যদি আহ্বান জানানও, নিশ্চিত হওয়ার কোন উপায় নেই যে সহিংসতা কমবে, বন্ধ হওয়াতো দূরে থাক। স্থানীয় পর্যায়ে তাপটা আরও বেশি।

ষড়যন্ত্র তত্ত্ব?

এদিকে, ঢাকার ষড়যন্ত্র তত্ত্ববিদরা এখন পুরোপুরি ব্যস্ত এবং এই সহিংসতা বৃদ্ধির পেছনের নানা কারণ তারা বের করেছেন। আওয়ামী লীগ-পন্থীরা বলছেন যে বিএনপি নির্বাচনকে কঠিন করে তোলার জন্য এটা করছে এবং তাদের নেতাদের ভাষায় ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের’ চেষ্টা করছে তারা। যদিও কেউ নিশ্চিত বলতে পারবেন না এর অর্থ কি, তবে এখানে সম্ভবত আইন-বহির্ভূত ক্ষমতা হস্তান্তরের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বিএনপি পক্ষ বলেছে যে, এই সহিংসতা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ যাতে তারা নির্বাচন বাতিল করার একটা অজুহাত খুঁজে পায়। বিএনপির দাবি হলো, আওয়ামী লীগ জানে যে, ৫০ শতাংশ ভোটও যদি সুষ্ঠু হয়, তাহলে বিএনপি জিতে যাবে। তাই নির্বাচনে হেরে যাওয়ার কথা ভেবে আওয়ামী লীগ নির্বাচন হতে দিতে চায় না। দুই দলের অবস্থান বর্তমানে এই পর্যায়ে।

এদিকে, ৩০ ডিসেম্বর নিরাপদ ভোটগ্রহণের জন্য ২৩ ডিসেম্বর থেকে সেনা মোতায়েনের যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, সেটাকে স্বাগত জানানো হয়েছে। এখন যা পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে, প্রতিদিন একটা অনিশ্চিত তারিখের দিনগণনা চলছে। এখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে যে সংবাদ প্রকাশিত হযেছে, সেটা রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নয়, কিন্তু শেষ বিচারে যেটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হলো সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা।সূত্র:সাউথ এশিয়ান মনিটর


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1091 বার