ভোট কারচুপি অভিযোগের জবাব নেই, তৃতীয় মেয়াদে হাসিনা বিজয়ী

Pub: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ৩, ২০১৯ ১:১১ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ৩, ২০১৯ ১:১১ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফয়সাল মাহমুদ : বাংলাদেশজুড়ে ব্যাপক ভোট কারচুপির অভিযোগ তদন্ত করবে বলে দেশটির নির্বাচন কমিশন জানালেও এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধিন জোটকে বিপুলভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

১৯৮১ সাল থেকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন হাসিনা। এক দশক ধরে আকর্ষনীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পোশক খাতের বিকাশ তুলে ধরে নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। তিনি তার সমর্থকদের একটি ভূমিধস বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি কথা রেখেছেন।

টানা তৃতীয় বারের মতো ক্ষমতায় যেতে তার ক্ষমতাসীন দল ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮৮টিতেই বিজয়ী হয়েছে বলে ফলাফলে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এই ফলাফলকে ‘প্রহসন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি)’র নেতৃত্বাধিন বিরোধী জোট। সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক জালিয়াতি ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনে তারা। ভোটের দিন সংঘর্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছে।

ভোট গণনার মাঝ পথেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যজোট ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে। ভোট গণনা চলাকালে ৫৭ জনের মতো বিরোধী প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। বিবিসি’র এক সংবাদদাতা চট্টগ্রামের এক ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখতে পান যে ভোটকেন্দ্র খোলার আগেই ব্যালটবাক্স ভর্তি হয়ে আছে।

সরকার বিরোধীরা মাত্র সাতটি আসনে বিজয়ী বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ১৯৯১ সালের পর এরশাদ-পরবর্তী যুগে এবার সবচেয়ে দুর্বল বিরোধী দল নিয়ে সংসদ গঠিত হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছে পাঁচটি আসন। ২২১টি আসনে অনিয়মের অভিযোগ এনে সেগুলোতে পুন:নির্বাচন দাবি করেছে ঐক্যফ্রন্ট।

বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সাংবাদিকদের বলেন, আামদের পোলিং এজেন্টদের ভয় দেখানো হয়, তাদেরকে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। কোথাও কোথাও তাদেরকে ভোট কেন্দ্র থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে বা গ্রেফতার করা হয়েছে।

ফলাফল বাতিল করতে হবে

বিরোধী জোটের নেতা কামাল হোসেন নির্বাচন কমিশনের প্রতি ফলাফল বাতিলেল দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা শিগগিরই একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবি করছি।

তবে ইসির এক মুখপাত্র রয়টার্সকে জানান যে তাদের নিজস্ব তদন্তে কোথাও ভোট কারচুপির প্রমাণ পেলে সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কিন্তু ইসি’র বিরুদ্ধেই সরকারের পক্ষে পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ করার অভিযোগ রয়েছে। তাই ঘোষিত ফলাফল বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তেমন নেই। ভোটের ফলাফল প্রকাশের সময় ইসি সচিবালয়ের সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

বিরোধী নেতারা সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের সহায়তা করার অভিযোগ আনেন। এক আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বিএনপি জানায়, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা, পোলিং ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সহায়তায় ব্যালটে সিল মারা হয়েছে।

ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার জানায় যে কয়েকটি এলাকায় জনগণকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রতীক ‘নৌকায়’ ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে।

ভীতি প্রদর্শন, দুর্নীতি

ঢাকার গুলশান এলাকার ভোটার মারুফ আহমেদ এশিয়া টাইমসকে বলেন যে তিনি ভোট দিতে গিয়ে দেখেন সরকারি দলের সমর্থকরা ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করছে। তিনি বলেন, আমি নিজের চোখে এটা দেখেছি। পুলিশ সেখানে থাকলেও কিছু বলেনি। বুঝলাম, আমার ভোটের কোন মূল্য নেই।

ঢাকার আরেকটি ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের তিন ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশ একবারে ১০ জন করে ভোটারকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেয় এবং লীগের কর্মীরা বেছে বেছে শুধু তাদের সমর্থকদের ভোট দিতে দেয়। ফলে ক্লান্ত ও ক্ষুব্ধ হয়ে অনেক ভোটার ভোট না দিয়েই বাড়ি চলে যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েল আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্রে বিরোধী জোটের কোন পোলিং এজেন্ট ছিলো না। তাদেরকে আইন প্রয়োগকারী বাহিনী বা ক্ষমতাসীন দলের এক্টিভিস্টরা তাড়িয়ে দেয়।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ এত বোকা নয়। কেমন নির্বাচন হয়েছে তা তারা জানে।

সিইসি নুরুল হুদা দাবি করেন যে বিরোধী দলের এজেন্টরা ভোটকেন্দ্রে যায়নি কারণ তারা নিজেদেরকে দেখাতে চায়নি।

তিনি বলেন, এটা তাদের ইচ্ছা। তারা যদি না আসে তাহলে কিভাবে তাদেরকে দেখা যাবে? এক-দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে বলেও দাবি করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনারদের একজন মাহবুব তালুকদারকে সাংবাদিকরা যখন এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেন তখন তিনি জবাব দেন: নিজের মনকেই প্রশ্ন করুন। এ নিয়ে আমি কোন কথা বলতে চাই না।

সাউথ এশিয়ান মনিটর


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ