বিস্ময়কর বিজয় অবিশ্বাস্য পরাজয়

Pub: রবিবার, জানুয়ারি ৬, ২০১৯ ৩:১৫ অপরাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, জানুয়ারি ৬, ২০১৯ ৩:১৫ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মুনশী আবদুল মাননান :

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের বিস্ময়কর বিজয় এবং বিরোধীদের অবিশ্বাস্য পরাজয় ঘটেছে। ক্ষমতাসীনদের জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস ছিল। তারা আগে থেকেই এমন বার্তা দিয়েছিলেন যে, তাদের বিজয় অবধারিত ও সময়ের ব্যাপার মাত্র এবং তারাই পরবর্তীতে সরকার গঠন করবেন। এই আস্থা ও বিশ্বাস অস্বাভাবিক ছিল না। কারণ, পরিস্থিতি তাদের অনুকূলে ছিল কিংবা বলা যায়, তারা পরিস্থিতি অনুকূলে আনতে ও রাখতে সমর্থ হয়েছিলেন। কীভাবে, সেটা কারো অজানা নেই। এসব সত্তে¡ও তারা যে এ ধরনের একচেটিয়া বিজয় অর্জন করবেন, সম্ভবত সে ধারণা করতে পারেননি। এরকম বিজয় তাদের কম অবাক করেনি। এ বিজয় তাদের কাছেও বিস্ময়কর বৈকি!
পক্ষান্তরে বিএনপি, ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ সকল বিরোধীর শোচনীয় পরাজয় তাদের কাছে অবিশ্বাস্য বলেই প্রতিভাত হয়েছে। তাদের নানামুখী সমস্যা ছিল, ক্ষমতাসীন দল ও আইনশৃংখলা বাহিনীর বিরূপ ভূমিকা ছিল, নানান ধরনের নিপীড়ন-নির্যাতন ছিল, হামলা-মামলা-গ্রেফতার ছিল, নির্বাচন কমিশনের বিমাতাসুলভ আচরণ ছিল এবং একইসঙ্গে সাংগঠনিক দুর্বলতাও যে কিছুটা ছিল না এমন নয়। (তারপরও; তাদের আশা ছিল, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে তারাই বিজয়ী হবেন। বিরোধীদলীয় নেতারা তাদের পক্ষে ভোটবিপ্লবের আশা করেছিলেন। বলেছিলেন, নির্বাচনে নিরব ভোটবিপ্লব হবে। তারা ভোটারদের ডাক দিয়ে বলেছিলেন, আপনারা দলে দলে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দেবেন এবং ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন, যাতে বিজয় কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে। তাদের এই বিশ্বাস ও আস্থা চরমভাবে মার খেয়েছে। এক অবিশ্বাস্য পরাজয়ের কালিমা তাদের ললাটে অংকিত হয়েছে।
যে ভোট ক্ষমতাসীনদের বিস্ময়কর বিজয় ও বিরোধীদের অবিশ্বাস্য পরাজয় নির্ধারণ করেছে, সেই ভোট কেমন হয়েছে দেশবাসীর কারো তা অজানা নেই। ক্ষমতাসীনরা বলছেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ হয়েছে। তারা এও বলছেন, দেশের ইতিহাসে এরূপ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আর হয়নি। অন্যদিকে বিরোধীদের তরফে বলা হচ্ছে, নির্বাচনের নামে ভোটডাকাতি হয়েছে। এমন জালজালিয়াতি ও ভোটলুটের নির্বাচন এর আগে কখনো হয়নি। সরকারি দল, প্রশাসন, আইনশৃংখলা বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশন একজোট হয়ে এমন একটি নির্বাচন করেছে, অতীতে যার কোনো দ্বিতীয় নজির নেই। এ নির্বাচন একইসঙ্গে নির্বাচনী ব্যবস্থা ও গণতন্ত্রকে অকার্যকর করে দিয়েছে। এই নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন এও প্রমাণ করেছে যে, দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচনে গণরায় প্রতিফলিত না হওয়ায় বিএনপি, ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ সকল বিরোধীদল নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে এবং দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনঃনির্বাচন দাবি করেছে।
ক্ষমতাসীনদের বিপুল বিজয় এবং বিরোধীদের বিশাল পরাজয়ের কারণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে তুমুল আলোচনা হচ্ছে। এই আলোচনা ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদের স্ব স্ব তরফে হওয়া স্বাভাবিক। তবে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মহলও সঙ্গতকারণে এ আলোচনায় শামিল হয়েছে। ক্ষমতাসীনদের এতবড় বিজয় কেন হয়েছে, তা বিচার-বিশ্লেষণ করা ক্ষমতাসীনদের পক্ষে যেমন সঙ্গত ও উচিৎ তেমনি বিরোধীদের এতবড় পরাজয়ের কারণ কী ও সেটা তাদের খতিয়ে দেখা দরকার। লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ক্ষমতাসীনরা তাদের বিজয়ের কারণ নির্ণয় ও উল্লেখের চেয়ে বিরোধীদের পরাজয়ের কারণ নির্ণয় ও উল্লেখের ব্যাপারেই বেশি উৎসাহী। এই উৎসাহের কারণ কী, সেটা একটা প্রশ্ন হতে পারে। হতে পারে, জনগণ ও বহির্বিশ্বকে তারা জানান দিতে চাইছেন যে, বিরোধীদের পরাজয় তাদের কারণেই হয়েছে, এর পেছনে অন্য কোনো পক্ষের ‘অনৈতিক কারসাজি’ জড়িত নেই। অন্যদিকে বিরোধীরা লাগাতারই বলছেন, ভোটে অনিয়ম-কারচুপির মাধ্যমেই তাদের হারিয়ে দেয়া হয়েছে। এই হারের পেছনে তাদেরও যে কিছু দায় থাকতে পারে, তা তারা স্বীকার করতে চাইছেন না।
বিএনপি, ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের তরফে তাদের নেতারা নির্বাচন কমিশনে গিয়ে নির্বাচন বাতিল ও পুনঃনির্বাচনের দাবিতে স্মারকলিপি পেশ করেছেন। নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে সকল প্রার্থী মামলা করবেন বলেও তারা ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অবশ্য আগেই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে উল্লেখ করে পুনঃনির্বাচনের দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। এহেন প্রেক্ষাপটে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের যে সাতজন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন তারা শপথ গ্রহণ করবেন কিনা তা একটা প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। বিএনপির তরফে কদিন আগেই বলে দেয়া হয়েছে, তার পাঁচজন সদস্য শপথ নেবেন না। গণফোরামেরও একই মত। ইতোমধ্যে একাদশ সংসদে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তাতে বিরোধী সাত সদস্য যোগ দেননি। এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পুনরায় বলেছেন, তারা শপথ নেবেন না। পর্যবেক্ষক মহলে এ নিয়ে অভিন্ন মত নেই। এক পক্ষের মতে, যেহেতু বিএনপি, ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে, কাজেই তাদের সদস্যদের শপথ নেয়ার কোনো নৈতিক অবস্থান নেই। অন্য পক্ষের মতে, ফলাফল নিয়ে যতই আপত্তি থাকুক না কেন, বিরোধী সদস্যদের শপথ নেয়া উচিৎ। সংসদে থাকলে তারা তাদের অভিমত সংসদে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। এ সুযোগটি নষ্ট করা উচিৎ হবে না। শপথ গ্রহণের জন্য তিন মাস সময় হাতে আছে। দেখা যাক, এর মধ্যে সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকে, নাকি পাল্টে যায়। নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। আগামী ৭ জানুয়ারি নতুন সরকার শপথ নেবে বলে পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে যত অভিযোগ, আপত্তি ও যত কথাই থাক না কেন, নতুন সরকার গঠনে তা কোনো বাধা নয়। সরকার যথারীতিই হয়ে যাবে এবং কার্যকর হবে।
নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন দল, জোট ও মহাজোটের বিজয়ে ভারত, চীন, রাশিয়া, সউদী আরব, ইরান প্রভৃতি দেশের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। পক্ষান্তরে জাতিসংঘ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রভৃতি পশ্চিমা দেশ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হওয়ায় এবং সব দল ও বিপুল সংখ্যক মানুষ তাতে অংশ নেয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তবে প্রচার-প্রচারণা এবং ভোটের দিনের অনিয়ম বিশেষত বলপ্রয়োগ, ভোটদানে বিরোধীদের বাধাপ্রাপ্তি, বেশ কিছু স্থানে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা অনিয়ম ও সহিংসতার নির্ভরযোগ্য রিপোর্ট বা ঘটনাবলীর স্বচ্ছ তদন্ত করতে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
লক্ষ্য করার বিষয়, ভারত, চীন, রাশিয়া প্রভৃতি দেশের প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিক্রিয়ার সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান। তারা অভিনন্দন জানানোর বদলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এও লক্ষ্য করা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়ায় ভাষার কিছুটা হেরফের দেখা গেলেও বক্তব্য প্রায় হুবহু এক। তারা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। দ্বিতীয়ত: নির্বাচনপূর্ব পরিবেশসহ ভোটের দিনের অনিয়ম, ভোট প্রদানে বাধাদান ও সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে উপযুক্ত তদন্ত ও প্রতিকার প্রত্যাশা করেছে। তৃতীয়ত: নির্বাচনপরবর্তীতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা সুরক্ষার তাগিদ দিয়েছে। চতুর্থত: তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও আর্থ-বাণিজ্যিক সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। পঞ্চমত: বাংলাদেশের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্কের অগ্রগতি প্রত্যাশা করেছে।
নির্বাচনী ব্যবস্থা ও প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা কেন প্রয়োজন তা বিশদ ব্যাখ্যা করে বলার কিছু নেই। নির্বাচনী ব্যবস্থা ও প্রক্রিয়ায় যদি স্বচ্ছতা না থাকে, তাহলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। দুঃখজনক হলেও বলতে হচ্ছে, স্বাধীনতার এত বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও আমরা প্রশ্নাতীত নির্বাচনী ব্যবস্থা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। এ কারণে প্রতিবার নির্বাচনের আগে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর প্রশ্ন ওঠে নির্বাচনের অবাধতা, সুষ্ঠুতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে। ভোট কারচুপি বা ভোট ডাকাতির অভিযোগ ওঠে। আর এই অভিযোগ নিয়েই সংসদ ও সরকারের মেয়াদকাল শেষ হয়ে যায়।
নির্বাচনী ব্যবস্থা ও প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার জন্য সংবিধান সংশোধন করে এক সময় তত্ত¡াবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। অতঃপর তত্ত¡বধায়ক সরকারের অধীনে যে কয়টি নির্বাচন হয় সে নির্বাচনগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি। বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদে এই ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে পুনরায় দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। ২০১৪ সালে যে নির্বাচন হয়, আসলে তা কোনো নির্বাচনই ছিল না। ওই নির্বাচন ছিল একতরফা ও প্রশ্নবিদ্ধ। দেশে-বিদেশে তা গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। এবারের নির্বাচনের আগেও দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে না বলে বিরোধীদের জোর অভিমত ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং আশ্বস্ত করেন যে, তিনি আর কোনো প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন দেখতে চান না। এও বলেন, সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। অথচ এই নির্বাচনও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেলো। সকলের কাছে গ্রহণীয় ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে এখন আমাদের গভীরভাবে ভেবে দেখা প্রয়োজন।
আসলে প্রশ্নবিদ্ধ কোনো নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ ও সরকার গঠিত হলে সেই সংসদ ও সরকারের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে যায়। দেশে-বিদেশে তাদের গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়। পরমুখাপেক্ষিতা বেড়ে যায়। দুর্বল সংসদ ও সরকার দেশের সার্বিক মঙ্গল ও কল্যাণ সাধনে জোরালো ভূমিকা ও যথার্থ অবদান রাখতে পারে না। এ ক্ষেত্রে তাদের দুর্বলতাটাই পদে পদে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমরা দ্বিমুখী প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করেছি, যা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। ভারত, চীন, রাশিয়া প্রভৃতি দেশের প্রতিক্রিয়া একরম এবং পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া ভিন্ন রকম। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া আমাদের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। একথা অস্বীকার করার উপায় নেই, কিছু দেশ আমাদের দেশের কাছ থেকে বেশি বেশি পেতে চায়। আর কিছু দেশ থেকে আমরা বেশি বেশি পেতে চাই। বিস্তারিত ব্যাখ্যায় না গিয়েও বলা যায়, পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে আমরা অধিকতর সুবিধা ও সহযোগিতা পেতে চাই। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আমাদের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক বিনির্মাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারাই অধিক ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারে। অর্থনীতি কিংবা প্রভাববলয়, যা কিছুই বলা হোক না কেন, তার নিয়ন্ত্রণ এখনো পশ্চিমা দেশগুলোর হাতেই রয়েছে। আমাদের বাণিজ্যের বড় অংশটি এসব দেশ ঘিরেই আবর্তিত। কাজেই, তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা আমাদের জন্য খুবই জরুরি।
নতুন সরকারকে এই দিকটি বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখতে হবে। কূটনৈতিক সক্ষমতার পরিচয় দিয়ে তাদের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা আদায় করে নিতে হবে। তাদের উদ্বেগ ও তাকিদের বিষয়টি আমলে নিতে হবে গুরুত্বসহকারে। একইসঙ্গে দেশে শান্তিশৃংখলা, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করতে হবে। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। মানবাধিকার লংঘন রুখতে হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলীয় নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার, বাড়াবাড়ি না করার এবং বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম-নির্যাতন না করার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োচিত। যদিও নির্বাচনোত্তর সহিংসতা এখনো অব্যাহত আছে। এদিকে কঠোর দৃষ্টি দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ক’দিনে যেসব মন্তব্য করেছেন তা সকল মহলকে আশ্বস্ত করবে বলে আশা করা যায়। তিনি বলেছেন, তিনি সকলের প্রধানমন্ত্রী। তার এ মন্তব্যের ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। তিনি আরো বলেছেন, নির্বাচনের পর দেশ ও জনগণের প্রতি আমার দায়িত্ব আরো বেড়ে গেছে। এ কথারও কি ব্যাখ্যা দেয়ার প্রয়োজন আছে? তিনি সকলের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন। এটাই তো স্বাভাবিক। আমরা আশা করি, তার সরকার দলমত নির্বিশেষে সকলের প্রতি সমআচরণ করবে, ন্যায় অনুসরণ করবে এবং শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ