প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশ

Pub: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ৮, ২০১৯ ১:০১ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ৮, ২০১৯ ১:০১ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মানব জীবনের সর্বপ্রথম শিক্ষাদানকারী প্রধান ব্যক্তিত্ব শ্রদ্ধাভাজন মা জননী। অতঃপর পিতা, ভাই, বোন, আত্নীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী থেকে একজন শিশু বালক-বালিকা বহুবিধ শিক্ষা কলা-কৌশল আয়ত্ব করেন। মক্তব কিংবা প্রাথমিক বিদ্যালয় মানব জীবনের সর্বপ্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নহেন। সুতরাং পরিবার সর্বপ্রথম শিক্ষাকেন্দ্র এবং মাতাপিতা ভাইবোন সর্বপ্রথম শিক্ষক। এক্ষেত্রে অন্যান্য সকল নিকটাতœীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রদানকারী হিসেবে আবির্ভূত হতে থাকেন। এরপরও নিজ বাড়ীর সীমানা পাড়ি দিয়ে মক্তব ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করানো হয় জ্ঞান অন্বেষণ নিমিত্বে। প্রাথমিক বিদ্যালয় জীবন পাঁচ বৎসর, মাধ্যমিক বিদ্যালয় পাঁচ বৎসর অন্যান্য পরবর্তী।
সহজ-সুন্দর-সাবলীল ভাষায় বর্তমান প্রাথমিক বিদ্যালয় একখানা জাদুঘর কিংবা রঙ্গমঞ্চ কিংবা প্রচলিত বাংলা শব্দে খোয়ার কিংবা জেলখানা। প্রিয় ছাত্রছাত্রী যাদের বয়স চার বৎসর থেকে দশ বৎসর তাদের বিদ্যালয় অভিমূখি মূখায়ব গঠন কিংবা মনের অবস্থা এমন প্রস্ফুটিত হয় যেন জোর-জবরদস্তীমূলক তাদেরকে অন্যায় কাজে কিংবা অপরাধ কাজে লিপ্ত করা হচ্ছে। মাসুম নিঃষ্পাপ কচিকাচা ছেলেমেয়েকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রতিদিন চার থেকে ছয় ঘন্টা এমনি করে রুদ্বশ্বাস অবস্থায় ফেলে দেন আমাদের অভিভাবক মহল। বিদ্যালয় অভ্যন্তর আরো হৃদয় বিদারক! লোহার ফ্রেমের উপর একটি তকতা, লম্বা ছ’ফুট, বসার জন্য অনুরুপ লোহার ফ্রেমের উপর আরেকটি তকতা, বই ব্যাগ রাখার স্থান পায়ের নিচে। যাই হোক প্রতি ছ’ফুট লম্বা টেবিলে বসতে হবে ছয়জন কিংবা পাঁচজন। স্মর্তব্য যে, জেলখানা আইনে প্রতিফুটে ঘুমোতে হবে একজন । প্রায় সবকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্বন্ধে গুণগান, গৌরববাক্য করার মতো কোন অবকাশ নাই। আর প্রথম শ্রেণী হইতে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত জাতীয় শিক্ষাক্রমে যে সমস্ত পুস্তক পাঠদান করানো হয় তার বিবরণ যদি অভিভাবক মহল বিশদভাবে বুঝতে ও জানতে সক্ষম হতেন তবে তার সন্তানকে বিদ্যালয় দেওয়া বন্ধ করে দিতেন । বাংলাদেশে বহু প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানকারী ব্যক্তিমালিকানা ব্যবসায়ীক স্কুল আছে, সেগুলোর অবস্থা আরো নি¤œতর পর্যায়ে। সরকারী এবং ব্যক্তি মালিকানা শিক্ষা প্রদানকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য অনেক।
সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিনামূল্যে বিষ ক্রয় করে প্রয়োগ করা হয় এবং ব্যাক্তি মালিকা স্কুল/দোকান থেকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে বিষাক্ত বিষ অভিভাবক মহল কিনতে পারেন।
অন্যদিকে ব্যক্তিমালিকানা স্কুল/দোকানগুলো আবার বিভিন্ন মতবাদ দ্বারা পরিচালিত যেমন- আমেরিকান মতবাদ, বৃটিশ মতবাদ, ব্র্যাক মতবাদ, ইসকন মতবাদ, মিশনারি মতবাদ, মওদুদী মতবাদ, কম্যুনিষ্ঠ মতবাদ, আলীয়া মতবাদ, সুন্নী মতবাদ, খারেজী মতবাদ, দেওবন্দী মতবাদ, ওহাবী মতবাদ সহ আরো অসংখ্য মতবাদের জালে বাংলাদেশের মানুষকে শিক্ষা প্রদানের নামে উলঙ্গ বেহায়া ব্যক্তিত্বহীন জাতি করে ফেলেছে।
আমাদের ছেলেমেয়ে ও অভিভাবক মহলকে পড়ালেখায় নিরুৎসাহী করার ঘৃণ্য চক্রান্তে তৃতীয় শ্রেণীতে একটি সার্টিফিকেট প্রদান পরীক্ষা অনুষ্ঠান করার মতো এতোবড় আহম্মকী আর দ্বিতীয়টি কি হতে পারে?
জ্ঞান, বিবেক, দূরদৃষ্টি, কল্পনাশক্তি, সংযম, দক্ষ, সুক্ষ, অভিজ্ঞতা, কঠোরতা, কোমলতা, সাহস এবং আত্ন বিশ্লেষণ ক্ষমতাসম্পন্ন আরো বহুবিধ গুনসম্পন্ন কোন পন্ডিত, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, অধ্যাপক, অভিভাবক কেহই তৃতীয় শ্রেণীর সার্টিফিকেট প্রদান পরীক্ষার পক্ষে সাফাই/যুক্তি/মতামতসহ বিশেষ দলিল পেশ/প্রদর্শন করতে পারবেন না।

তৃতীয় শ্রেণী সমাপনী পরীক্ষার ক্ষতিকারক দিক সমূহঃ-
ক) স্ব স্ব বিদ্যাপিঠের শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক মহলকে হেয়-প্রতিপন্ন এবং অবিশ্বাসী সাব্যস্ত করার সামিল। এবং স্ব স্ব বিদ্যালয় শিক্ষক এবং ছাত্রছাত্রীদের মাঝে গরমিল বা দূরত্ব পরিলক্ষিত হয়।
খ) পিতা-মাতা অভিভাবকগণকে সময়োনুপযোগী কষ্ট এবং অতিরিক্ত টাকা পয়সা অপচয়।
গ) ছাত্রছাত্রীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা-ঘাটে, হাট-বাজারে, বাস, নৌকা ফেরিতে করে এক অঞ্চল হইতে অন্যত্র গমনাগমণ।
ঘ) রাষ্ট্রীয় টাকা পয়সা নষ্ট করা।
ঙ) এছাড়া নিজ বিদ্যালয় এলাকা ব্যতীত অন্যত্র পরীক্ষা দেওয়া বহু ক্ষয়-ক্ষতি, বহু জটিলতা এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণ বটে।
এই পরীক্ষার পক্ষে যারা ওসিহত করেন তারা বলেন- ছাত্রছাত্রীর মেধা যাছাই করা হয়। এই একটা সমুদ্রসম বচন ব্যাতিরেকে আর কোন যুক্তিই প্রদর্শন করতে পারবে না। অথচ মেধা যাচাই/নিরীক্ষা নিয়ে যত মেধাবী পৃথিবীতে বেঁচে আছেন এবং যত জ্ঞানী, মেধাবী বাংলাদেশ থেকে পরপারে বিদায় নিয়েছেন সবাই মেধা বা প্রজ্ঞা বা জ্ঞানকে অদৃশ্য, অলৌকিক শক্তি জেনে-বুঝে লাল সালাম নিবেদন করেছেন। বাংলাদেশ অভ্যন্তরে শিক্ষিতবৃন্দ বীজ থেকে চারা গজানোর পূর্বেই ফল খেতে চান । কিংবা বীজ ধ্বংস করে চারা গজানোর সকল কার্যকারিতা নষ্ট করে ফেলেন। তৃতীয় শ্রেণীর সার্টিফিকেটধারী ছাত্রছাত্রী একখানা দরখাস্ত কিংবা রচনা কিংবা ইতিহাস ঘটনা লিখতে, বলতে পারবেন না, এমনকি অফিস আদালতে কোন চাকুরীও পাবেন না। সুতরাং তৃতীয় শ্রেণীতে একটি পরীক্ষা অবান্তর এবং অ-নৈতিক। ছাত্রছাত্রীর জন্য এই সময়টা জীবনের বীজ বপন করার উপযুক্ত সময়। অনেকে তৃতীয় শ্রেণীতে ফেল করার কারণে সারাজীবন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েন এবং লেখাপড়ার প্রতি একটা ঘৃণ্য মনোভাব জন্মে। অনেকের জীবন থেকে একটি বৎসর হারিয়ে যায়। অনেক মাতাপিতা মনোবল হারিয়ে সন্তান নিয়ে দূঃশ্চিন্তায় মগ্ন হয়ে পড়েন এবং আহাজারী করেন সন্তানের মাথার মগজ নিয়ে । সন্তানের প্রতি অভিভাবক একটা ঘৃণ্য দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহন করেন। যা মোটেই শোভনীয় নয়। তৃতীয় শ্রেণী পড়–য়া একজন বালক-বালিকার বয়স মাত্র সাত থেকে আট বছর । এই সময়টা জ্ঞান অর্জন সাহস শক্তি সঞ্চয় করার উপযুক্ত সময়। কারো কটুক্তি অবহেলা অপমান মেনে নেবার বয়স ও মন-মানসিকতা কমপক্ষে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়–য়া ছাত্রছাত্রীর নাই।
সম্মানীত অভিভাবক মহল ও জাতি গড়ার কারিগর শিক্ষক মহোদয় আপনাদের প্রতি বিশেষ নিবেদন ও করোজোড়ে মিনতি- তৃতীয় শ্রেণীর সার্টিফিকেট পরীক্ষায় সাত-আট বছর বয়সী ছেলেমেয়ে পাশ করতে না পারলে আপনারা তাকে ঘৃণা, অবহেলা, অপমান কিংবা এমন কোন কটুক্তিকর শব্দ বা বাক্য দ্বারা নিষ্পাপ অবুঝ হৃদয়ে কুঠারাঘাত করবেন না । যারা তৃতীয় শ্রেণীতে এবং অষ্টম শ্রেণীতে সার্টিফিকেট পরীক্ষার মূলহোতা বা প্রবর্তক তাদের উদ্দেশ্য দুইটি ।
প্রথমতঃ “বীজ অঙ্কুরিত হবার পূর্বেই নষ্ট করে ফেলো”।
তৃতীয় শ্রেণীতে একবার অষ্টম শ্রেণীতে আরেকবার এইদুই পরীক্ষা পদ্ধতি লেখাপড়া থেকে ছাত্রছাত্রীকে অমনোযোগী, অহেতুক ভয়ভীতি, বঞ্চিত ও অপসারিত করার এক ঘৃণ্য কৌশল।
এবং দ্বিতীয়তঃ “রাষ্ট্রীয় অর্থ লুট করার একটা দুষ্টু প্রক্রিয়া/মাধ্যম মাত্র”।
লেখকঃ-
মোঃ আজহারুল ইসলাম সাংবাদিক মৌলভীবাজার।
মোবাইলঃ ০১৭৭৬-৯১৮৩৭৪
E-mail: [email protected]


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1079 বার