ছাত্রদলের ডাকসু নমুনা

Pub: মঙ্গলবার, মার্চ ১২, ২০১৯ ৮:১৯ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, মার্চ ১২, ২০১৯ ৮:২৫ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আনোয়ার বারী পিন্টু : ডাকসু নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অংশগ্রহণ সৌভাগ্যের কথা। ঘরে বাহিরে বিরূপ সংকটেও তারা ডাকসুতে সাহস করেছে। গত পনেরো বছরে ঐতিহ্যবাহী এই ছাত্রসংগঠনটি দেশ এবং ছাত্রদের কোন উপকারে আসার কোন সুযোগ পায়নি। তবে এই সময়ে তারা ভালো পেরেছে, মূল দলের লেজুড়বৃত্তি করতে। সাংগঠনিক কার্যক্রম লাটে তুলে দিয়ে ভাইয়ের নামে স্লোগান দিয়ে নিজের ব্যক্তিত্ব ও সাংগঠনিক অস্তিত্বকে বিলীন করে দিতে।

ডাকসুর নব নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক মেনে নেয়া হয়েছে। আবার প্রমাণ হয়েছে, সাংগঠনিকভাবে সম্মিলিত হয়ে রুখে দাঁড়াতে পারলে সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়। কোটা আন্দোলনে প্রমানীত হয়েছিলো। নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে প্রমানীত হয়েছে। সর্বশেষ ডাকসুতেও প্রমানীত নুরুল হক নুরের বিজয় মেনে নেয়ার মাধ্যমে।

ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি, বদলে দেবে পরিস্থিতি- এই কিসিমের স্লোগান দিয়ে বসে থাকলেই বিজয় আসে না। সাংগঠনিক চর্চা না করে গ্রুপে গ্রুপে সবাই নেতা হলে শুধু পরাজয় আসে না, চেপেও ধরে। তাছাড়া দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে নিশ্চিতভাবেই ডাকসুতে অনিয়ম এবং জোর জুলুম হবে এটাই স্বাভাবিক। এই সত্য জেনে এবং মেনে নিয়ে কতটুকু নিজস্ব স্বক্ষমতা ও যোগ্যতা নিয়ে প্রতিপক্ষ মোকাবেলায় শামিল হয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রশ্নটা সেখানেই। ছাত্রদলের সাংগঠনিক ভিত্তি কতটা শক্তিশালী তা বুঝার জন্য মাত্র দু্ইটি নমুনাই যথেষ্ট:

ক)
ডাকসু নির্বাচনে ভিপি প্রার্থী ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী এজিএস প্রার্থী হয়েছেন। ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী ভিপি এবং ছাত্র ফেডারেশনের ঢাবি শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজীর জিএস প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র জোট থেকে ভিপি প্রার্থী অরণি সেমন্তি খান ও সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ থেকে ভিপি নুরুল হক নুর ভিপি প্রার্থী হয়েছেন।

এরা সবাই শুধু ঢাবিতেই নয় সমগ্র দেশেই পরিচিত মুখ। এই তারকা কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতাদের সাথে ডাকসুতে প্রতিদ্বন্দিতা করতে ছাত্রদলের প্রার্থী দেয়া হয়েছে ভিপি পদে ছাত্রদলের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ও জিএস পদে সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আনিছুর রহমান অনিককে। আমি আশ্চার্য হলাম, এই অসম অবস্থা দেখে? এমন প্রার্থীতার মাধ্যমে ছাত্রদল সম্পর্কে অন্যান্য ছাত্রসংগঠন গুলো অবশ্যই মনে করতে পারে, ছাত্রদল থেকে প্রার্থী হওয়ার মতো কেন্দ্র বা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় কোন যোগ্য ছাত্র নেতা তৈরী হয়নি! অথবা তাদের সাংগঠনিক কোন ভিত্তিই নেই? ছাত্রদলের নিয়ন্ত্রকরা বিষয়টি ভেবে দেখতে পারেন।

খ)
ডাকসুতে পাঁচটি ছাত্রী হলের চারটিতেই স্বতন্ত্র প্যানেলের প্রার্থীরা ভিপি পদে জয়লাভ করেছেন। এরা কেউ ছাত্রলীগ সমর্থন করে না বরং ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এদের দরাজ কন্ঠের স্লোগান বারবার ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়েছে এবং তারা মার খেয়েছে। লড়াইতো দুরে, ছাত্রীদের এসব হলে ছাত্রদল কোন প্যানেলই দিতে পারেনি। কেন পারেনি এর উত্তর আছে কি নেতাদের কাছে?

ইতিহাসের সবচেয়ে সংকটময় অবস্থায় পড়েও সম্ভবত ছাত্রদল বিষয়ে বিএনপি নেতাদের হুঁশ ফিরেনি। বোধশক্তি অকেজো হলে ফেরার সম্ভাবনাও নেই। সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃত ভাবে কমিটি গঠন না করে ছাত্রত্বের বয়স শেষ করে পরিকল্পিভাবে ভবিষ্যত নেতা সৃষ্টির পথ রুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। কালে ভাদ্রে কমিটি করা হলেও দুই জন কিংবা সুপার ফাইভ নাম দিয়ে একটি মুরব্বি তালিকা ঘোষনা করা হয়। এরপর কাজ একটাই মূলদলের নেতাদের কীর্তন, স্লোগান। ফলে বর্তমানে ছাত্রদল বিকট এক অমেরুদন্ডী প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। যার হতভম্বরূপ আমরা ডাকসুতে দেখেছি। ছাত্রদল একটি পদও ছিনিয়ে আনতে পারেনি। আগেই বলেছি, ষড়যন্ত্র, অনিয়ম, সন্ত্রাস থাকবেই। রাজনীতি বিজ্ঞানে কোথাও মসৃন পথ বলতে কিছু নেই। এর মধ্যেই সাংগঠনিক দক্ষতায় কৌশল করে এগিয়ে যেতে হয়।

রাজনীতি কোন ছেলে খেলা নয়। ছাত্রসংগঠন গুলোর সাথে দেশ এবং মানুষের ভাগ্য জড়িত থাকে। এটা কোন নাটক মঞ্চায়নের জায়গা নয়। প্রশ্ন হলো, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সভাপতি সম্পাদকরা কেন ভিপি, জিএস প্রার্থী হতে পারেনি। এই উত্তর আমরা জানি, বললে ইজ্জত থাকবে না। কেন্দ্রীয় নেতারা ঢাবিতে কেন যেতে পারে না? তারা বহিরাগত, নিয়মিত ছাত্র নয়। বিএনপি নেতারাই এদের লালন করছেন তাই নেতারা এর দায় এড়াতে পারে না। অতএব, ছাত্রদলকে বাঁচাতে অবিলম্বে কেন্দ্র থেকে মুরব্বীদের সরিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হোক। অতএব, কাল বিলম্ব না করে এখনিই দেশ এবং ছাত্রদের অধিকার আদায়ের জন্য ডাকসুতে সাহসী নেতৃত্ব দেয়া মোস্তাফিজুর, অনিকদের সমন্বয়ে ছাত্রদল সাজানো হোক। ছাত্রদল দিল্লির লাড্ডুও নয় এবং মাথায় নিয়ে নৃত্য করার জিনিষও নয়। ছাত্রদলকে গঠনতন্ত্র মতো চলতে দিন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1205 বার