জিয়াউর রহমান,আপনি কোথায়?

Pub: মঙ্গলবার, এপ্রিল ৩০, ২০১৯ ৬:২০ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, এপ্রিল ৩০, ২০১৯ ৬:২০ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আনোয়ার বারী পিন্টু: মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের ১৯ দফার স্বপ্নে আঁকাঁ দল বিএনপি। বেগম খালেদা জিয়াও একই পথে হেঁটেছিলেন। সময় যেমন সৃষ্টিতে এগিয়ে যায় তেমনি নানা অযত্নে অবহেলায় বিশাল খরস্রােতা নদীতেও চর জাগে। দলটিরও কি তাই হয়েছে। সব কিছু পাল্টে দিয়ে এখন কূটিল নেতারাই সব, সংগঠন কেবল পদ্ম পাতার জল।
জিয়াউর রহমান, বিভ্রান্তির এই সময়ে আজ তোমাকে বেশী মনে পড়ে। তোমার সহধর্মিনী, খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের দিন তোমাকে ভীষন অনুভব করেছি। জানি না তখন কোথায় ছিলে, কেন এলে না পুরান ঢাকার আদালতে!
সবচেয়ে বেশ মনে পড়েছে সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পরও। তুমি থাকলে আন্দোলনের অংশের নামে হয়তো নির্বাচনে যেতে হতো না, আন্দোলনের অংশ বলে মাত্র কজন এমপিকে নিয়ে সংসদে যেতে হতো না। ‘আন্দোলন বাদে বাকি সব কিছুই আন্দোলনের অংশ’ এমন চাণক্য পাঠ অন্তত কর্মীদের গিলতে হতো না।
তুমি বলেছিলে, ‘প্রশিক্ষিত কর্মীরাই দলের প্রাণ’। কিন্তু আজ আগাগোড়ায় তার উল্টো। ফলে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে প্যারালাইজড এডভোকেট সানা উলাহ মিয়া, ভালো নেই তৌমুর আলম খন্দকার, এহসানুল হক মিলন স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি, শামসুজ্জামান দুদুসহ আরো অনেকের হ্নদয়ে আজ টপ টপ রক্ত!
তুমি বলেছিলে, ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়’। অথচ এখন দলের চেয়ে ব্যক্তিই বড় হয়ে আছে। অনেকেই পাঁচ-দশ বছর একই পদ দখলে নিয়ে আছেন, কেউ জেলা সভাপতি, একই সাথে কেন্দ্রীয় সম্পাদক আবার অঙ্গদলের শীর্ষ নেতা। অথচ কর্মীদের বড় একটি অংশই পরিচয়হীন। পরীক্ষিতদের দুরে ঠেলে ভেসে আসা নব্যদের পদ পদবি তুলে দেয়া হয়েছে।
তুমি বলেছিলে, ‘ধর্মকে কেন্দ্র করে কোন রাজনীতি হতে পারে না’। অথচ ইসলামী মূল্যবোধের দোহাই দিয়ে বিএনপিতে জাতীয়তাবাদের মৌলিকতা ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে।
তুমি বলেছিলে, ‘বিএনপিতে কোন পক্ষ নেই। আমরা ডানের বামে, বামের ডানে’। অথচ তোমার অবর্তমানে কয়েক পন্ডিতের আগমন ঘটেছে এই দলে। তারা বিএনপিকে ডানপন্থি বলে ব্যাকেটে বন্দি করে রেখেছে।
তুমি শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের কাছে বার বার ছুটে গিয়েছিলে। অথচ বরেণ্য শিল্পী, সাহিত্যিকরা এখন নানাভাবে অবহেলিত। ফলে বেগম জিয়ার জেল জীবনের যে চিত্র দেশেই হবার কথা তা চীনের কার্টুনিস্টকে করতে হয়েছে।
চেয়াপার্সন অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বছর পার করেছে। হাজারো কর্মী জেলে বসে পলেস্তার ঘসানো টুকরো দিয়ে মমতাময়ী মায়ের ছবি আঁকছে! সন্তান সম্ভবা প্রিয়তম বউকে একা ফেলে রেখেই জেলে এসেছে। অন্ধকারে প্রতিরাতে নিজের ফুটফুটে সন্তানকে মনে হলে লোহার ডান্ডাবেড়ি জড়িয়ে ধরা ছাড়া তাদের আর কিইবা করার আছে?
নয়া পল্টনে দলের মনোনয়ন নিতে লম্বা লম্বা মিছিলের নকল জোয়ার উদয় দেখে তখন সংশয় জেগেছিলো মনে। মনোনয়ন ভাগানো নাদুস নুদুস চেহারার পরিপাটি মানুষের উজান গুলো আজ কোথায়? মহাসচিব সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে না। তাই সব ব্যর্থতাকে তিনি কৌশল বলছেন। ‘আন্দোলন ছাড়া বাকী সব কিছুই তাঁর কাছে আজ আন্দোলনের অংশ’। রাজনীতির কৌতুকপ্রদ এই সময়ে তুমি কোথায় আছো? ঐশ্বরিকভাবেই কত কিছুইতো ঘটে। তুমি কি একবার আসতে পারো না। কর্মীরা তোমার অপেক্ষায়।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1095 বার