সব দোষ বিএনপির?

Pub: বুধবার, মে ৮, ২০১৯ ৯:২৫ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, মে ৮, ২০১৯ ৯:২৮ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

০১.
বিএনপি সংসদে না গেলে ৩০ এপ্রিলেই বিএনপি দুই টুকরা হয়ে যেত এটা পরিস্কারই ছিল,এটাই কেউ কেউ দেখতে চেয়েছিল।এক বিএনপি থাকতো পার্লামেন্টে অারেক বিএনপি থাকতো নয়াপল্টন অার গুলশানে।
তারেক রহমান যদি একক সিদ্ধান্তেই সংসদে যাওয়ার কাজটি করে থাকেন তাহলে সমস্যাটা কোথায়?
দল তাকে বিশেষ পরিস্হিতিতে সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার দিয়েছে।বিএনপির সিদ্ধান্ত না মেনেই ত একজন শপথ নিয়েছিল,অন্যরাও নিত,এতে যে সরকারের চাপ ছিল এটাও ত চরম সত্য।দলের ভাঙ্গন ঠেকিয়ে তারেক রহমান যে কাজ করেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে এর বিকল্প আর কিছু ছিল বলে আমার কাছে মনে হয়না?দলের ঐক্য টিকিয়ে রাখাটাই সময়ের সেরা সিদ্ধান্ত।অনেকেই বলছেন অাগে দল বলেছে শপথ নিবেনা,পরে কেন নিতে গেল?সময় ও বাস্তবতার নিরিখে রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়াটা কী খুব অস্বাভাবিক?দলের পূর্বের কোনো সিদ্ধান্ত কি কোরঅানের বাণী যে পরিবর্তন করা যাবেনা?

বিএনপি শপথ নেয়ায় যে মাপের সমালোচনা করেন ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন ২৯ ডিসেম্বর রাতে হওয়ায় কি একই মাপের সমালোচনা করেন নাকি নিরব থাকেন?

০২.
মির্জা ফখরুল ইসলামআলমগীরের শপথ নেয়া না নেয়া নিয়েও আলোচনা সমালোচনার ঝড় থেমে নেই।সবার মতামতকেই শ্রদ্ধা জানাই।কিন্তু ভেবে দেখুন তো? স্হায়ী কমিটির চার থেকে পাঁচজন যদি নির্বাচনে পাস করে ফেলতেন তখন দলের সিনিয়র পর্যায় থেকে মহাসচিবকে নিয়ে আজকের প্রশ্ন দেখা দিত কিনা?

মহাসচিব শপথ নিলে স্হায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য ও মহাসচিবের মধ্যে টানাপোড়েন আরো বেরে যেত।মির্জা ফখরুল ইসলাম অালমগীরের শপথ না নেয়াটা হচ্ছে ভিকটিম অব সারকামস্ট্যান্সেস -পরিস্থিতির শিকার।শপথ নিলে আমরাই তাকে হয়ত দালাল বলতাম!দলকে না জানিয়েই একাজটি তিনি করেছেন তাও মনে করিনা।[মহাসচিবকে প্রমোট করা অামার উদ্দেশ্য নয়]।তবে দলের বৃহত্তর স্বার্থে এর চেয়ে ভাল বিকল্প ছিল না।এমপি হিসাবে শপথ না নিয়ে মহাসচিব একটা অসহযোগিতা ও ভুলবোঝাবুঝি সামাল দিতে পেরেছেন।সিনিয়র কোনো নেতাকে পাস করতে না দিয়ে একমাত্র মহাসচিবকে এমপি বানিয়ে সংসদে নিয়ে বিএনপিতে বড় ধরনের ভাঙ্গন সৃষ্টির ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে।সমালোচনা করার সময় কিছু বাস্তবতাও সামনে
রাখতে হবে।

০৩.
বিএনপি শপথ নিয়েছে এই বলে দল ও জোটের তিনজন এমপির জোটের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে আগে শপথ নেয়াটা কি বৈধ হয়ে গেল?সুলতান মুনসুরের এমন একটা ভাব যেন আকাশ থেকে ফেরেস্তারা এসে তাকে এমপি বানিয়ে দিয়ে গেছে। সে গণফোরামেও নাই,ঐক্যফ্রন্টেও নাই!বিএনপির প্রতীক, কামাল হোসেনের সমর্থনে এমপি হয়ে সংসদ কাঁপিয়ে বেড়ান এখন জিয়াউর রহমানের সমালোচনায়!

মোকাব্বির এম ইলিয়াস আলীর পরিবারের দয়ায় এমপি হয়ে ভুলে গেল ইলিয়াস পরিবারকে!জাহিদুরের কয়েকটা দিন অপেক্ষা সইলোনা!নিশ্চয়ই দলের সাথে এগুলো গাদ্ধারী।দলের শেষ সিদ্ধান্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করাটাই গণতন্ত্র।অতি বিপ্লব ও বিপ্লবী দুইটাই ভয়ংকর।

কেউ কেউ বলছেন তিন জনের আগের শপথ নেয়ার সিদ্ধান্তটা সঠিক তবে তাদের কী দলের সিদ্ধান্তের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করাটা উচিত ছিল না?

০৪.
বিএনপির এই সময়ে অবশ্যই কিছু ভুল আছে।দলের ভবিষ্যতের জন্যই কিছু বিষয়ে সিরিয়াসলি ভাবতে হবে এখনই। ভুল না থাকলে বিএনপির মত এত জনপ্রিয় একটি দল এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে কেন?হাইকমান্ডের দল পুনর্গঠন বিশেষ করে ছাত্রদল নিয়ে এক ধরনের সিদ্ধান্তহীনতায় আমি নিজেও হতবাক!

অান্দালিব রহমান পার্থসহ কয়েকটি ছোট দল বিএনপি জোট থেকে বেড়িয়ে গেছে।জোটের রাজনীতি মূলত ভোটের রাজনীতি।আসবে যাবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে পার্থ কিংবা দলের যেসব সিনিয়ররা এখন বলছেন সংসদে যাওয়া ঠিক হয়নি,তারা যদি এমপি নির্বাচনে পাস করে ফেলতেন, তারা কী শপথ না নিয়ে থাকতে পারতেন?আমি নাই তাই তোমাকে মানিনা,তোমাকে যেতে দিবো না বিষয়টা কী এমন হয়ে যাচ্ছে না?

বিশ দল ছেড়ে যাবেন যেতেই পারেন,সেই স্বাধীনতা প্রত্যেকটি দলের ই আছে কিন্তু অতীতেও যখন দেখলাম নেজামে ইসলাম, ন্যাপ,এনপিপির কিছু নেতা নানা অজুহাতে বিএনপি জোট ছেড়ে যখন পরোক্ষভাবে সরকারের সাথে হাত মিলায় সেটাকে কী বলবেন?আদর্শের জন্য ছেড়ে যাওয়া?নাকি অন্য কিছু?বিএনপির দোষে জোট ছেড়ে আবার সরকারের সাথে আতাত করলে বিষয়টা স্ববিরোধী হয়ে যায়না?অনেকেই বলছেন পার্থ চাইলে সরকারের মন্ত্রী হতে পারবতো?অবশ্যই পারত সে সুযোগ তার ছিল কিন্তু বিজেপির মত ছোট্ট একটা দলের নেতা হিসাবে বেগম খালেদা জিয়া কি তাকে কম মূল্যায়ন করেছেন? বিএনপির তরুণ প্রজন্মের ভালবাসা কী সে পায় নাই?
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কী সে একটা বড় মন্ত্রী হতনা?নিশ্চয়ই হত!

বিএনপির উপর দোষ দিয়ে যারা বিশ দল ছেড়েছে অতীত অভিজ্ঞতা হল তারা সবাই এখন কোনো না কোনো ভাবে সরকারের সাথে কানেক্টেড!এটাকে কী বলবেন?আশা করি পার্থ ও তার দল দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করবে,সরকারের সাথে আতাত করবে না।তার মত একজন তরুণ নেতার গনতন্ত্রের লড়াই থেকে সরে যাওয়াটা অবশ্যই দুঃখ জনক।

তবে তরুণ তরুণীর প্রেম ভেঙ্গে গেলে একে অন্যকে অনেক অজুহাত ই দেয়।যেমন- তার হাটার স্টাইলটা ভালো না,বডি লেংগুয়েজ ঠিক নেই, অন্য ছেলেদের সাথে কথা বলে ইত্যাদি ইত্যাদি।মূল বিষয় টা হলো সে চলে যাবে।অজুহাততো লাগবেই।
তবে বিশেষ ডিগ্রি আর বিশেষ শ্রেণির প্রতি দল হিসাবে বিএনপির মোহ ভাঙ্গার সময় এসেছে।

০৪.
দেশের রাজনীতিতে এখন একটা ভয়াবহ সময় চলছে। ভাঙ্গা গড়ার এ খেলা বড় ভয়ানক।হয়ত সামনেও চলবে।বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই সময়টা মনে হয় একটা ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ।ক্ষমতার জন্য কে যে কখন কার বন্ধু হয় বলা মুসকিল।

রাজনীতিতে আলোচনা সমালোচনা দুটোই দরকার।
বিএনপিকে নিয়ে অবশ্যই সমালোচনার অধিকার যে কারও আছে তবে দলের দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে সামাজিক গণমাধ্যমের মত একটা অপেন ফ্ল্যাট ফরমে লিখে যারা মনে করছেন দল উদ্ধার করে ফেলছেন তাদেরকেও একটু সংযত হওয়ার দরকার আছে বলে আমি মনে করি।আমি পাই নাই তাই দলের সাথেও নাই।এটা কেমন দায়বদ্ধতা?বিএনপির সমালোচনা আমরা যেভাবে করি স্বৈরাচার সরকারের ব্যাপারেও কি এমন কাজটাই করি নাকি নিরব থাকি?সমস্যাটার মূলে কোন শক্তি -আগে সেটার বিরুদ্ধে কথা বলুন।

মোঃনিজাম উদ্দিন
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সহসম্পাদক ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1200 বার