গুজব ! নাকি জনগণকে ব্যস্ত রাখতে সরকারের জঘন্য কৌশল মাত্র?

Pub: শুক্রবার, আগস্ট ২, ২০১৯ ১১:৩৭ অপরাহ্ণ   |   Upd: শুক্রবার, আগস্ট ২, ২০১৯ ১১:৩৭ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নির্মোহ নীলগিরি
লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক

কেউ কি একবারও ভেবে দেখেছেন ছেলেধরা গুজবে সবচেয়ে লাভবান হল কে? হাঁ এই ছেলেধরা গুজবের মাঝেই শেয়ার বাজার থেকে লোপাট হয়ে গেছে প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা । হুজুগে জনগণকে ব্যস্ত রাখতে ছেলেধরা গুজব কাজ করেছে এক্কেবারে টনিকের মতো । আর মওকা মত শেয়ার বাজারের হাজার হাজার কোটি টাকা গিলে ফেলেছে রাঘব বোয়ালেরা । এখন তারা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছে । এরই মাঝে ছেলেধরা সন্দেহে গনপিটুনিতে ২ সপ্তাহের মাঝে প্রান হারিয়েছে ৯ জন আর আহত হয়েছে ২৫ জন । সবচেয়ে মর্মান্তিক হল ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে তাসলিমা আক্তার লিমার মৃত্যু । বাংলাদেশের ঘুণেধরা সমাজের যে কতটা অবক্ষয় হয়েছে এই ঘটনাই তার প্রমান । মানুষ কতটা হিংস্র অমানুষে পরিণত হয়েছে তা ভেবে দেখা এখনি প্রয়োজন । এদের মানবিকতা হারানোর কারন খুঁজে বের করা খুবই জরুরি । মানুষের মনোজগতের এই পরিবর্তন এক দিনে হয়নি । সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে, দীর্ঘদিনের সামাজিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক বঞ্চনা, না পাওয়ার হতাশা এবং মাদকাসক্তি মানুষকে আগ্রাসী করে তুলছে ।

উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিত ভাবে কিছুদিন পরপর জনগণের সামনে একেকটা ইস্যু হাজির করা হয় । আর গৃহপালিত সংবাদমাধ্যম সেটা নিয়ে জাবর কাটতে থাকে আর না বুঝেই স্যোশাল মিডিয়াতে চলে শেয়ার এবং কমেন্টস এর বন্যা । জনগন বুঁদ হয়ে থাকে সেই ইস্যুতে । কিন্তু আড়ালে থেকে যায় সবচেয়ে বড় ইস্যুটি ।

বাংলাদেশে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ইস্যু কারাবন্দী দেশনেত্রী বেগম খালেদার জিয়া । অসুস্থ অবস্থায় একাকী কারা অন্তরীণ রয়েছেন তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী । যিনি কখনো স্বৈরাচারের সাথে কোনরকম আপোষ করেননি বরং বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এই বয়সেও একাকী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন । বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের নারীশিক্ষাকে অবৈতনিক করে নারীশিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত করেছিলেন । তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়েই নারীদের স্বাবলম্বী হয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছিলেন । গণতন্ত্র, দেশপ্রেম আর বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রতীক যিনি সাধারণ গণমানুষের ভালবাসায় দেশনেত্রী থেকে গণতন্ত্রের মা হিসাবে কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন । বেগম খালেদা জিয়া এখন আর শুধু বাংলাদেশের নয় তিনি এখন একজন বিশ্বনেতা হিসেবে বিবেচিত । আর তাঁকেই অন্যায় ভাবে একের পর এক মিথ্যা ও সাজানো মামলায় জামিন না মঞ্জুর করে যাচ্ছে সরকারের আজ্ঞাবাহী আদালত । বিনা চিকিৎসায় তাকে জেলখানায় আটকে রেখে মানসিক নির্যাতন করছে । প্রয়োজনীয় খাবার, ঔষধ সরবরাহ করছেনা এমনকি তাঁর সাথে আত্মীয়দের সাথে দেখা পর্যন্ত করতে দেয়া হচ্ছেনা । সারা দেশবাসী মিডিয়ার মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছে তিনি একা একা হাঁটতে পারছেন না নড়াচড়া করার সাথে সাথে ব্যাথায় নীল হয়ে যাচ্ছেন আর সরকারী ডাক্তার নামের তোতাপাখীরা বলচেন তিনি ভালো আছেন । আল্লাহতালা যেন তাকে সত্যিই ভালো রাখেন । বর্তমান স্বৈরাচার সরকারের অমানবিক আচরণে দিনকে দিন আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বেগম জিয়া । আর জনগণ যাতে ফুঁসে উঠতে না পারে সে জন্য পুলিশি হয়রানি, জেল, গুমের ভয় দেখিয়ে তাদের মুখ বন্ধ রাখছে আর সাধারণ জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুড়িয়ে দেবার জন্য নানা বাহানায় নিত্য নতুন ইস্যুর জন্ম দিচ্ছে ।

এদিকে দেশে চলছে ভয়াবহ ডেঙ্গুর বিস্তার । ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গতকাল না ফেরার দেশে চলে গেল আমার এক বন্ধুর স্ত্রী । সদ্য মাতৃহারা তিনসন্তানকে সামলাতে এখন আমার বন্ধু হিমশিম খাচ্ছে । না পারছে স্ত্রী হারনোর শোক করতে, না পারছে সন্তানদের শান্ত করতে । আরেক বন্ধু হারিয়েছে তার তিনমাসের ফুটফুটে সন্তানকে । প্রতিদিনই পরিচিতদের কারো না কারো ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর পাচ্ছি । হাসপাতালের সিট আর প্রয়োজনীয় রক্তের জন্য চলছে হাহাকার । এই সুযোগে ক্লিনিক প্যাথলজিগুলিতে চলছে বাণিজ্যের মহোৎসব । সকলেই একটা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন । ঢাকার দুই অথর্ব মেয়র কাজ না করে শুধু চাপাবাজি করে চলেছেন । এদিকে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর আস্থা রাখতে না পেরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থান করছেন । ডেঙ্গু থেকে নিরাপদ দূরত্তে তিনি ব্রিটিশ সামার উপভোগ করছেন । আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডেঙ্গু ছুঁয়াচ বাঁচাতে সপরিবারে মালয়েশিয়া ভ্রমণে গেছেন । আর অর্থমন্ত্রী মহোদয়তো মন্ত্রণালয়ে যাওয়াই বাদ দিয়ে দিয়েছেন ডেঙ্গু আতঙ্কে । কিন্তু অসহায় জনগণ যাবে কোথায় ? আসছে কোরবানির ঈদের ছুটিতে রয়েছে সারাদেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা । তাছাড়া বিভিন্ন জেলায় ভয়াবহ বন্যা হয়েছে । অসহায় বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই । নেই সরকারের দলীয় কোন উদ্যোগ, নেই সরকারি পর্যায়ের কোন সাহায্য । এমনকি বন্যার্তদের সহায়তার জন্য নেই কোন প্রচার-প্রচারণা । খাদ্য, পানি, ঔষধসহ ত্রাণের জন্য চলছে হাহাকার । স্বাভাবিক ভাবেই বন্যার জমে থাকা পানিতে জন্ম নিবে ডেঙ্গু মশা । বিশেষজ্ঞদের ধারনা অচিরেই বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি মহামারীর রূপ নিবে । দেশ ও জনগণের এই ক্রান্তিকালে আপনারা বিদেশে অবকাশ যাপন বাদ দিয়ে দেশে ফিরে হাল ধরবেন নাকি পদত্যাগ করে জনগণকে মুক্তি দিবেন ???

নির্মোহ নীলগিরি
লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ