fbpx
 

বিএনপি বনাম বিএনপি

Pub: শুক্রবার, আগস্ট ১৬, ২০১৯ ১:৪২ অপরাহ্ণ   |   Upd: শুক্রবার, আগস্ট ১৬, ২০১৯ ১:৪২ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মহিউদ্দিন খান মোহন :

২০১৫ সালের গোড়ার দিকে (সঠিক তারিখটি এখন মনে নেই) একাত্তর টেলিভিশনের একটি টকশোয় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস সম্পর্কে কিছু কথা বলেছিলাম। আমার সে বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ ওই বছরের ২০ মে ‘গুলশান অফিস নিয়ে অস্থিরতা’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। লিড নিউজ হিসেবে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে সে সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান অফিসকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি সুবিধাভোগী চক্রের তৎপরতার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছিল। ওই টকশোয় আমি বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত দুই কর্মকর্তা (বিশেষ সহকারী ও প্রেস সচিব) কীভাবে দলকে ভিতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছেন, বেগম জিয়াকে নেতা-কর্মী ও মিডিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছেন, ব্যক্তিস্বার্থে গ্রুপিং সৃষ্টি করে দলের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি করছেন তা সবিস্তারেই বলেছিলাম। একই সঙ্গে আমি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলাম, এই দুই কর্মকর্তার কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন ও তাঁর দলকে সীমাহীন খেসারত দিতে হবে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের রিপোর্টে দলটির নেতাদের অভিমতসহ তা আরও বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। ওই বছর ২৪ জানুয়ারি মারা যান জিয়া-খালেদাপুত্র আরাফাত রহমান কোকো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোকার্ত মা খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানাতে ছুটে গিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে। কিন্তু তাঁকে সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ন্যক্কারজনক ওই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছিলাম সম্ভবত ২৬ জানুয়ারি রাতে প্রচারিত একই টিভির টকশোয়। সেদিনের ঘটনা যারা টিভি পর্দায় প্রত্যক্ষ করেছেন, তাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, প্রধানমন্ত্রী ফেরত চলে আসার পর শিমুল বিশ্বাস একটি সাদা খাতা দেখিয়ে সাংবাদিকদের বলছিলেন, ‘আমরা তো প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরের জন্য শোকবই রেডি করেছিলাম।’ আমি ওই টকশোয় তার এ কথাকে ‘অডাসিটি’ (ঔদ্ধত্য) আখ্যা দিয়ে বলেছিলাম, প্রধানমন্ত্রী কি রাস্তায় দাঁড়িয়ে স্বাক্ষর করবেন? ঘটনাটি উল্লেখ করলাম এজন্য, বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় নিয়ে এ ধরনের বহু অভিযোগ এযাবৎ প্রকাশিত হয়েছে। দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে এ ধরনের অনেক ঘটনাই সেখানে ঘটানো হয়েছে। পাশাপাশি দলের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে বিশেষ স্বার্থ হাসিলে তৎপর ছিল একটি চক্র। আর সে চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন ওই দুজন; কখনো যৌথভাবে, কখনো এককভাবে। একই বছরের ১৭ জুন ‘গুলশান কার্যালয়ে ঠান্ডা লড়াই’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ট্যাবলয়েড দৈনিক মানবজমিন। ওই প্রতিবেদনে চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস ও প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেলের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে টাগ অব ওয়ারের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছিল। সেখানে এও উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ‘তৃণ -মূল নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরে গুলশান কার্যালয়ের গুটিকয় কর্মকর্তার ‘বিতর্কিত’ সিদ্ধান্তে চরম বেকায়দায় পড়ে বিএনপি। ২০১৫ সালের শুরুতে তিন মাসের আন্দোলনে ওইসব প্রভাবশালী কর্মকর্তাই ছিলেন হর্তাকর্তা।’ ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন, ২০১৫ সালের হঠকারী আন্দোলন বিএনপিকে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে সন্দেহ নেই। সেসব ভুল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত কর্মচারীদের প্রভাব ও ভূমিকা এখন সর্বজনবিদিত। অনেকেরই স্মরণে থাকার কথা, ২০১৫ সালের ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে ভোট গ্রহণের দিন দুপুরে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। সেদিন একটি টেলিফোন সংলাপ ফাঁস হয়। টেলিফোনের কথকদ্বয় ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস। টেলিফোনে শিমুল বিশ্বাস মওদুদ আহমদের কাছে জানতে চান নির্বাচন বর্জন ঘোষণার সংবাদ সম্মেলন কোথায় করবেন? জবাবে মওদুদ আহমদ পাল্টা প্রশ্ন করেন ‘তুমি কোথায় করতে বল?’ অর্থাৎ শিমুল যেখানে বলবেন তিনি সেখানেই সংবাদ সম্মেলন করবেন। ওই রাতেই একটি টিভি টকশোয় মওদুদ আহমদের এ হীনমন্যতায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছিলাম, দলের স্থায়ী কমিটির একজন সিনিয়র সদস্য যখন চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত কর্মচারীর নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকেন, সে দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি শঙ্কিত।

একটি রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়। কিন্তু ওয়ান-ইলেভেন-পরবর্তী গুলশান কার্যালয় স্থাপিত হওয়ার পর থেকেই দলের মধ্যে একটি বিভাজন তৈরি হতে শুরু করে। সে সময় কোণঠাসা হয়ে পড়েন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ও তার সহযোগীরা। সেই শুরু ‘বিএনপি বনাম বিএনপি’ অঘোষিত যুদ্ধ। ওই কার্যালয়ের অতিশয় ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের দুর্ব্যবহারের কারণে অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতা সেখানে যাওয়া ছেড়েই দিয়েছিলেন। বেগম জিয়া না ডাকলে তারা সেখানে পদার্পণ করতেন না। আত্মসম্মান বাঁচানোর জন্যই সেখানে যাওয়া থেকে তারা বিরত ছিলেন। কয়েকবারের এমপি-মন্ত্রী, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্যদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ওয়েটিংরুমে বসিয়ে রাখা হতো ‘ম্যাডাম ব্যস্ত আছেন’ বলে। অনেক সময় তারা নেত্রীর সঙ্গে দেখা না করেই চলে আসতে বাধ্য হতেন। শেষ দিকে মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনও চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে খুব একটা যেতেন না। আর সে সুযোগে ওই চক্র তার বিরুদ্ধে চেয়ারপারসনের কান ভারী করে তোলে। স্থায়ী কমিটির মিটিংয়েও অনেকে যেতে উৎসাহবোধ করতেন না। এ সম্পর্কে স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য আমাকে বলেছেন, ‘কী যাব? আমরা যে সিদ্ধান্ত নিই, পরে দেখি প্রচার হয়েছে উল্টোটা।’ কারা এ পরিবর্তন ঘটায়? এ প্রশ্নের জবাবে তারা অভিন্ন জবাব দিয়েছিলেন- ‘যারা ম্যাডামকে ঘিরে আছেন, ক্ষমতাবান, তারাই করেন।’

গুলশান অফিস নিয়ে বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অভিযোগের অন্ত নেই। তাদের সেসব অভিযোগ পত্রিকার খবরে উঠে এসেছে বহুবার। কমিটি বা পদ-পদবি বিক্রি, দলের ভিতরে কোন্দল সৃষ্টি, অনুগত লোকজনকে বিভিন্ন পদে পোস্টিং ইত্যাদির মাধ্যমে দলে বিভক্তি সৃষ্টির অভিযোগ পুরনো। এসব কথা কেউ যে নেত্রীর কানে তোলেনি তা নয়। কিন্তু নেত্রী তা ধর্তব্যের মধ্যে নেননি। ফলে ‘যাহা বাহান্ন তাহা তিপ্পান্ন’ই রয়ে গেছে। দিন গড়িয়েছে, দল দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়েছে।
সম্প্রতি আবার গুলশান অফিসকে নিয়ে কথা উঠেছে। বিএনপির দুই অফিসের মধ্যে টানাপোড়েনের কাহিনি পুরনো। এখন আবার দলটির দুই বলয় সক্রিয় দুই অফিসকে কেন্দ্র করে। গত ২৮ জুলাই একটি দৈনিক ‘গুলশান-নয়াপল্টনে বিভক্ত বিএনপি’ শীর্ষক বিশেষ প্রতিবেদনে সে কথাই তুলে ধরেছে। তাতে বলা হয়েছে, বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় আর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুলশান কার্যালয় থেকে এবং সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নয়াপল্টনে বসে দলীয় সিদ্ধান্ত দেন। দুজনই আলাদাভাবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা নেন। এ নিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্য অসন্তোষ বিরাজ করছে বলেও উল্লেখ করেছে পত্রিকাটি। নেতাদের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি লিখেছে, গুলশান ও নয়াপল্টনের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে পড়েছে। জাতীয় ইস্যুতে সিদ্ধান্ত আসে গুলশান থেকে। দলের অভ্যন্তরীণ ও সাংগঠনিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় নয়াপল্টনে। এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা থেকে শুরু করে ৫৮৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অধিকাংশ নেতার সম্পৃক্তি থাকে না। এসব কারণে দলটির অধিকাংশ নেতা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন এবং তাদের সক্রিয় করার কোনো উদ্যোগও নেই বলে পত্রিকাটি উল্লেখ করেছে।

গণমাধ্যমে যেসব খবর বিএনপি সম্পর্কে প্রকাশিত হচ্ছে তা একটি রাজনৈতিক দলের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। একসময়ের প্রতাপশালী রাজনৈতিক দল বিএনপির এ হতচ্ছাড়া দশা অনেককেই পীড়া দেয়। বিশেষ করে গণতন্ত্রমনস্ক ব্যক্তি, যারা চান দেশে একটি প্রতিযোগিতামূলক গণতান্ত্রিক রাজনীতি চালু থাকুক, তাদের জন্য এটা মনঃকষ্টেরই কারণ। একটি রাজনৈতিক দলের জন্য সুদিন-দুর্দিন অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার। সুদিনকে সঠিক পন্থায় কাজে লাগানো এবং দুর্দিনে বিচক্ষণতার সঙ্গে দল পরিচালনাই শীর্ষ নেতৃত্বের দায়িত্ব। বিএনপির এখন চরম দুর্দিন যাচ্ছে এটা অস্বীকার করা যাবে না। এক যুগ পার হয়ে গেছে দলটি রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সাধারণত সাংগঠনিক শক্তি দৃঢ় করার কাজে মনোনিবেশ করতে দেখা যায়। কিন্তু বিএনপিতে এর একেবারে উল্টো চিত্র দৃশ্যমান। যেখানে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করে সরকারের মোকাবিলা করতে সবার সচেষ্ট হওয়ার কথা, সেখানে নিজেদের মধ্যে শক্তি ক্ষয় করে দলকে আরও হীনবল করতেই নেতারা ব্যাপৃত। সাংগঠনিক বিষয়ে এমন সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা দলটিকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে। যে সময়ে দলটিকে অধিকতর ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়াস কাম্য, নেতাদের কর্মকান্ডে সেখানে বিভক্তি আরও বেড়ে যাচ্ছে। নিজেদের স্বার্থগত দ্বন্দ্বে তারা কর্মীদের সম্পৃক্ত করে দলটিকে ঠেলে দিচ্ছেন পেছনের দিকে। দলটি এতটাই নির্জীব হয়ে পড়েছে যে, চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে রাজপথে পা রাখার সামর্থ্যও হারিয়েছে। যদিও শীর্ষস্থানীয় নেতারা অহরহ বলে চলেছেন, দুর্বার আন্দোলন ছাড়া নেত্রীকে মুক্ত করা যাবে না এবং সে ধরনের আন্দোলনের মাধ্যমেই তারা নেত্রীকে মুক্ত করে আনবেন। কিন্তু সে দুর্বার গণআন্দোলন কবে কীভাবে তারা সংগঠিত করবেন, জনগণকে তাতে সম্পৃক্ত করবেন, সে সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই। শীর্ষনেতাদের এসব বায়বীয় আস্ফালন তৃণ -মূল নেতা-কর্মীদের মনে কেবল হতাশাই বাড়িয়ে দিচ্ছে। অবশ্য এরই মধ্যে নেত্রীর মুক্তি দাবিতে বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রামে তিনটি বৃহদাকারের সমাবেশ দলটি করেছে। তবে সেসব সমাবেশ থেকেও নেত্রীর মুক্তি আন্দোলনের সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা আসেনি। অনেকে এসব সমাবেশকে নেতাদের মুখরক্ষার সমাবেশ বলেও কটাক্ষ করছেন। এদিকে গত ২৯ জুলাই একটি দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপি নেতারা এখন সরকারের ভরসায় রয়েছে। একই দিনের অন্য একটি দৈনিকের খবরে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় উদ্বিগ্ন তার পরিবারের সদস্যরা দলের নেতাদের আন্দোলন বা আইনজীবীদের আইনি লড়াইয়ের প্রতি আর আস্থা রাখতে পারছেন না। তাই শেষ পর্যন্ত প্যারোলের দিকেই তারা ঝুঁকছেন। এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছেন। খবরে বলা হয়েছে, মুক্তির শর্ত হিসেবে খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার শর্ত দিয়েছে সরকার। শামীম ইস্কান্দার ওই শর্তে রাজিও হয়েছেন বলে পত্রিকাটি উল্লেখ করেছে। খবরে বলা হয়েছে, বিএনপি যদি প্যারোল চায়, তাহলে সরকার তা বিবেচনা করবে। যদি তাই হয়, তাহলে খালেদা-ভক্তদের জন্য তা স্বস্তির বিষয় হলেও দল হিসেবে বিএনপিকে দাঁড় করাবে উত্তরহীন প্রশ্নের মুখে। প্রমাণিত হবে, দলটি তাদের শীর্ষনেত্রীর মুক্তির জন্য তিল পরিমাণ ভূমিকাও রাখতে পারেনি। এ ব্যর্থতার দায় তো তাদেরই নিতে হবে, যারা এ মুহূর্তে দলটির স্টিয়ারিংয়ে রয়েছেন।

   লেখক : সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ