fbpx
 

দশ কাঠার প্লট এবং ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের হতাশা

Pub: Tuesday, August 27, 2019 10:17 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মিনার রাশিদ :
রুমিন ফারহানার দশ কাঠার প্লটের আবেদনটি ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলে একটা নিদারুন হতাশা , ক্রোধ এবং যুগপদ উল্লাস ছড়িয়ে দিয়েছে । প্রথমেই বলে রাখছি , আমি কোনো মুরব্বীর ভুলকেও ‘ভুল মোবারক ‘ বলার লোক নই । ভুলকে ভুলই বলবো – তা যেই বা যিনিই করুন না কেন । কিছুদিন আগে অপু উকিলদের সাথে রুমিন ফারহানার একটি টিভি অনুষ্ঠানের কড়া সমালোচনা করে কলাম লিখেছি । বিষয়টি আমার কাছে সঠিক মনে হয় নাই । রুমিনকে একটুও খাতির করি নাই ।

এই অবৈধ সংসদের কাছে রুমিন ফারহানা প্লটের আবেদন করে বেআইনী কাজ না করলেও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নি:সন্দেহে একটি অনৈতিক / ইনএপ্রোপ্রিয়েট কাজ করেছেন । এটি উনার জন্যে উচিত হয় নি । বিশেষ করে তিনি এই সংসদে গিয়েছেন দলের ইচ্ছায়, দলের প্রয়োজনে । সেখানে ব্যক্তিগত লাভালাভের প্রয়াস দৃষ্টিকটু । কোনো কোনো ক্ষেত্রে অমানবিকও বটে ।

কিন্তু সেটি নিয়ে যে হতাশা , ক্রোধ এবং উল্লাস ছড়িয়ে পড়ছে তা আমাকে রীতিমত চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন করে তুলছে ।
রুমিন এই অবৈধ সংসদকে অবৈধ বলে যে স্পর্ধা দেখিয়েছেন তারই জবাব এই অতিমাত্রায় উল্লাসে ফুটে উঠছে । রুমিন ফারহানাও মানুষ । দশটি ভালো কাজ করলে একটি খারাপ / ভুল করতেই পারে । তার সেই ভুল আরো ভুলকে যেন মদদ না যোগায় সে কারণেই এই পোষ্টটি দিচ্ছি ।

একটি গরীব রাষ্ট্র্রের পক্ষ থেকে এমপিদের প্রতি এই তোহফা যা এরশাদ শুরু করেছিলেন তা পুরোটাই অনৈতিক এবং রীতিমত ভালগার , নিষ্ঠুর ।
কিন্তু এরশাদের শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত
একজন সংসদ সদস্যকেও এই মধুময় তোহফার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে দেখি নাই । জামায়াত এবং বাম ঘরানার কোনো এমপিকেও ( যারা আদর্শিক মাপে / দুনিয়াবী স্বার্থে অন্যদের থেকে ভিন্ন বলে ধারণা করা হয় ) এই তোহফা প্রত্যাখ্যান করতে দেখি নাই । ক্ষমতাকেন্দ্রিক এবং দুনিয়াবী বিএনপি / আওয়ামীলীগের কথা তো আলাদাই । যে প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেন আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নাই তিনিও এই তোহফা প্রত্যাখ্যান করেন নি । বেগম খালেদা জিয়াও যথারীতি এই তোহফা গ্রহন করেছেন ।
তবে প্লট পেয়েও নেন নি কিংবা ট্যাক্স ফ্রি গাড়ীর সুবিধা নেন নি এরকম কেউ দুয়েকজন এমপির নাম বলতে পারলে তা এখনো আমার মানসিক তৃপ্তিতে কাজে লাগবে । উনাকে মনের অন্ত:স্থল থেকে বকেয়া ধন্যবাদটি পৌছে দেব ।

সেই প্রেক্ষাপটে এই তোহফা গ্রহনের অনৈতিক অবস্থান বিষয়ে যদি কোনো তরুণ রাজনীতিবিদ বিভ্রান্তিতে পড়ে যান , তবে তাকে নৈতিকতার আদালতে কতটুকু দোষী সাব্যস্ত করা যাবে ? বিষয়টি নিয়ে লেখার আগে ব্যক্তিগত চ্যানেল থেকে একটু অনুসন্ধান করেছি । পার্টির ভেতরে রুমিন ফারহানার কিছু প্রতিপক্ষ এবং বাইরের বন্ধুবেশী শত্রুরাও তাকে এক্ষেত্রে মিসগাইড করেছে বলে জানতে পেরেছি । এটি অবৈধ বা অনৈতিক না হলেও তার জন্যে এটি রাজনৈতিকভাবে ইনকারেক্ট ছিল । তিনি এখানেই মারাত্মক ভুলটি করেছেন ।

এমতাবস্থায় তাকে নিজেই এগিয়ে আসতে । ভুলকে ভুলই বলতে হবে । তার এই ভুলের পেছনের কারণগুলি বিশ্বাসযোগ্যভাবে নিজেকেই তুলে ধরতে হবে । একই সঙ্গে আমার পরামর্শ হলো , এমপি হিসাবে প্রাপ্য সেলারির অংশটুকু রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিন ।তবে অন্যান্য বেনেফিট যেগুলি এট কষ্ট সেগুলি রাখতে পারেন ।
আরো একটি পরামর্শ , যদি সংসারের ব্যায় নির্বাহে কষ্ট হয় তবে সংসারের বার্ডেন শেয়ার করার জন্যে একজন যথাযোগ্য জীবন সঙ্গী বেছে নিতে পারেন । নিজের ইচ্ছা বা প্রয়োজন না থাকলেও দেশের স্বার্থে বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন । কারণ যে সংগ্রাম শুরু করেছেন তা অবশ্যি কন্টিনিউ করতে হবে , Country can’t afford to lose you .
আমাদের এখন আরো অনেক রুমিন ফারহানার দরকার । সেখানে ইতিমধ্যে তৈরি একজনকে হারাতে চাই না ।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ