fbpx
 

রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণে বিএনপির অবদান এবং প্রতিষ্ঠার মর্মকথা

Pub: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯ ৮:৪০ অপরাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯ ৮:৪০ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন
১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি করেছিল। সেই শূন্যতা পূরণের লক্ষ্যে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে নতুন দল প্রতিষ্ঠার তাগিদ অনুভব করেন। এক সাগর রক্ত পাড়ি দিয়ে যে মহান লক্ষ্য সামনে রেখে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল, তা বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়, দেশের সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে বাকশাল নামে একটি দল গঠন করা হয়, চারটি সরকারি সংবাদপত্র বাদে সব পত্রিকা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব এবং বাক-ব্যক্তির স্বাধীনতা পরিপূর্ণভাবে রহিত করা হয়। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে লাখো শহীদের রক্তের দাগ শুকানোর আগেই মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা গণতন্ত্র হারিয়ে জনগণ হতভম্ব ও বিস্মিত হয়ে পড়ে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মানুষের প্রত্যাশা, জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে আওয়ামী লীগ ও বাকশাল সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়। দেশের সংবিধানের চার মূলনীতির বিষয়েও জনমনে বিভ্রান্তি ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। গণতন্ত্রহীনতা, শুধু ভাষাভিত্তিক জাতীয়তা, ধর্মনিরপেক্ষতার আবরণে ধর্মহীনতা এবং সমাজতন্ত্রের নামে লুটপাটের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এবং রক্ষীবাহিনীর নির্মম অত্যাচারে জনগণ চরমভাবে বিক্ষুব্ধ ও অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এমনি প্রেক্ষাপটে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্ব লাভ করেন। বাকশালসৃষ্ট রাজনৈতিক শূন্যতাকে পূরণের লক্ষ্যে তিনি ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন।

বিএনপির ঘোষণাপত্রে প্রকাশিত দলের আদর্শ ও দর্শন পর্যালোচনা করে স্পষ্টই প্রতীয়মান হয় যে স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগের অনুসৃত রাজনীতির বিপরীতে দেশের জনগণের কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্য বিকল্প রাজনীতি উপহার দিতে বিএনপি সমর্থ হয়েছে। ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, ঐতিহাসিক মুক্তি সংগ্রামের সোনালি ফসল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী হচ্ছে—(১) বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে অনুপ্রাণিত ও সংহত ইস্পাতকঠিন গণঐক্য, (২) জনগণভিত্তিক গণতন্ত্র ও রাজনীতি এবং (৩) ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত জনগণের অক্লান্ত প্রয়াসের ফলে লব্ধ জাতীয় অর্থনৈতিক মুক্তি, আত্মনির্ভরশীলতা ও প্রগতি। ঘোষণাপত্রে আরো বলা হয়েছে, সুদৃঢ় ও দুর্ভেদ্য ঐক্যবোধ এবং জাতীয় অর্থনৈতিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা না থাকলে সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ ও নয়া ঔপনিবেশবাদের গ্রাস থেকে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষা করা দুঃসাধ্য।

বাংলাদেশের সংবিধানে প্রণীত আমাদের জাতিসত্তার পরিচয় জাতীয়তা সম্পর্কে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যাখ্যা স্পষ্ট ভিন্ন। বিএনপি বিশ্বাস করে বাংলাদেশের জনগণ ঐতিহাসিক ক্রমধারায় তাদের স্বকীয়তা ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে উপমহাদেশের অন্যান্য জাতিসত্তা থেকে পৃথক অস্তিত্ব বজায় রেখেছে। ভৌগোলিক অবস্থান, অভিন্ন ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐক্য এবং সাধারণ ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার এ দেশের জনগণের মধ্যে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী চেতনার ভিত্তিমূল সৃষ্টি করেছে। চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে সুসংহত, দৃঢ়বদ্ধ ও স্পষ্টতর রূপদান করেছে। ধর্ম-গোত্র-অঞ্চল-নির্বিশেষে সব বাংলাদেশি এক ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত হয়েছে। অথচ আওয়ামী লীগ জাতিসত্তার উপরোল্লিখিত অলঙ্ঘনীয় উপাদানগুলোকে উপেক্ষা করে শুধু ভাষাভিত্তিক জাতিসত্তা বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রবর্তন করে জনমনে দ্বিধার সৃষ্টি করেছিল। তাই সংসদে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিল পাসের সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের এমপি মানবেন্দ্র লার্মা প্রতিবাদে সংসদ থেকে ‘ওয়াক আউট’ করেছিলেন। দেশের পার্বত্য অঞ্চলের চাকমা, মার্মা, তনচংগা এবং সমতলে বসবাসকারী গারো, সাঁওতালসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু জনগণ নিজেকে ‘বাঙালি’ হিসেবে পরিচয় দিতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমাদের জাতিসত্তার পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র পরিচয় ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ প্রবর্তনের মাধ্যমে আমাদের পরিচয় বিভ্রাটের অবসান করে দিয়েছেন। তাই এখন বাংলাদেশের সব মানুষের নাগরিকত্বের পরিচয় ‘বাংলাদেশি’।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শ ও লক্ষ্য দলের ঘোষণাপত্রে ২৯টি অধ্যায়ে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংক্ষেপে কয়েকটি মৌলিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছি। (১) বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদভিত্তিক ইস্পাতকঠিন গণঐক্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা এবং গণতন্ত্র সুরক্ষিত ও সুসংহত করা। (২) ঐক্যবদ্ধ এবং পুনরুজ্জীবিত জাতিকে অর্থনৈতিক স্বয়ম্ভরতার মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ, নয়া ঔপনিবেশবাদ, আধিপত্যবাদ ও বহিরাক্রমণ থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করা। (৩) উৎপাদনের রাজনীতি, মুক্তবাজার অর্থনীতি ও জনগণের গণতন্ত্রের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক মানবমুখী অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জন। (৪) বহুদলীয় রাজনীতির ভিত্তিতে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একটি সংসদীয় পদ্ধতির সরকারের মাধ্যমে স্থিতিশীল গণতন্ত্র কায়েম করা এবং সুষম জাতীয় উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি আনয়ন। (৫) গণতান্ত্রিক জীবনধারা ও গণতান্ত্রিক বিধিব্যবস্থার রক্ষাকবচ হিসেবে গণনির্বাচিত জাতীয় সংসদের ভিত্তি দৃঢ়ভাবে স্থাপন করা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করা এবং (৬) পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে জোটনিরপেক্ষতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব, প্রীতি ও সমতা রক্ষা করা, সার্বভৌমত্ব ও সমতার ভিত্তিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে তৃতীয় বিশ্বের মিত্র রাষ্ট্রগুলো এবং ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর প্রীতি ও সখ্যের সম্পর্ক সুসংহত করা, সুদৃঢ় করা।

বাংলাদেশের সব জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতিনিধিত্বকারী বিএনপি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে কাজ করছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দলটি জনগণের কাছে অতিদ্রুত ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ১৯৭৭ সালের ৩০ মে অনুষ্ঠিত গণভোটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচিকে জনগণ বিপুলভাবে অনুমোদন প্রদান করে। ১৯৭৮ সালের ১২ জুন দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে শহীদ জিয়াকে প্রাপ্ত ভোটের ৬৮.২৬ শতাংশ ভোট প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশের সংবিধানে অতিপ্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন, সংবিধানের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এবং প্রস্তাবনায় সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করে জনগণের কাছে একজন দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে অভিষিক্ত হন। রাষ্ট্রপতি জিয়ার খালকাটা কর্মসূচি, গণশিক্ষা কর্মসূচি, কৃষি বিপ্লব, গ্রাম সরকার, গ্রাম প্রতিরক্ষা দল ইত্যাদি গণমুখী কর্মকাণ্ডে তিনি এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি জনপ্রিয়তার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছে। ফলে ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০৫ আসন পেয়ে বিএনপি বিপুলভাবে বিজয় লাভ করে। এরই মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ‘তলাবিহীন ঝুড়ির’ অপবাদ মুছে দিয়ে আধুনিক, স্বনির্ভর ও উন্নত দেশে পদার্পণের সোপানে পা রাখে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যপদ লাভ করে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সম্মানের উচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের উন্নয়ন, শহীদ জিয়ার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ও বিএনপির অগ্রযাত্রাকে দেশি-বিদেশি কুচক্রী মহল ভালো চোখে দেখেনি, তারা শহীদ জিয়া ও বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের প্রথম শিকার হন শহীদ জিয়া। ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শাহাদাতবরণ করেন। শুরু হয় বিএনপিকে দুর্বল করার সর্বাত্মক ষড়যন্ত্র। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সামরিক আইন জারি করে ক্ষমতাসীন হন। তিনি (এরশাদ) শামসুল হুদা চৌধুরী ও ডা. আব্দুল মতিনের নেতৃত্বে বিএনপিকে বিভক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সেই দুর্দিনে খালেদা জিয়া বিএনপির হাল ধরেন এবং বিএনপিকে আবার জনগণের সবচেয়ে প্রিয় দলে রূপান্তরিত করেন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জনগণ পঞ্চম, ষষ্ঠ ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে বিপুলভাবে নির্বাচিত করে এবং খালেদা জিয়াকে তিনবার প্রধানমন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠিত করে। খালেদা জিয়া এবং তাঁর দলের বিপুল জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি আইন ঘোষণার মাধ্যমে অবৈধভাবে একটি জরুরি আইনের সরকার প্রতিষ্ঠা করে। বিএনপিকে আবার নিশ্চিহ্ন করার হীন উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার এবং দলে সংস্কারপন্থী সৃষ্টির অপচেষ্টা করে। কিন্তু এবারও ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হতে পারেনি। অবশেষে ১/১১-এর ধারাবাহিকতার সরকার ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি একটি বানোয়াট মামলায় অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে খালেদা জিয়াকে কারাগারে অন্তরীণ করে। মারাত্মকভাবে অসুস্থ দেশনেত্রী অদ্যাবধি কারাবন্দি। বিএনপির লাখো নেতাকর্মী মিথ্যা মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার।

বিরাজমান এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট ২৯ ডিসেম্বর রাতেই ডাকাতির মাধ্যমে শেষ হয়। বর্তমানে ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার উদ্দেশ্যে গণতন্ত্রকে হত্যা ও জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করেছে। তারা বিরোধী কণ্ঠকে স্তব্ধ করার লক্ষ্যে নজিরবিহীন অত্যাচার, নির্যাতন, গুম, খুনের মতো বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। দেশে আইনের শাসন নেই, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নেই, কথা বলার অধিকার নেই, মিডিয়া ও সংবাদকর্মীদের স্বাধীনতা নেই। মুক্তিযুদ্ধের সব চেতনা আজ ক্ষমতার লোভের কাছে নির্মমভাবে পদদলিত। দেশ চলছে অলিখিত একদলীয় সরকারের অধীনে জঘন্যতম স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট কায়দায়। দেশের বাঁচা-মরার সংকট, পানি সমস্যার সমাধান, শরণার্থী রোহিঙ্গাদের নিজের দেশে ফেরত পাঠানো, বন্যা ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। অর্থনীতিতে লুটপাট, ব্যাংকের ঋণখেলাপিদের নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক ডাকাতি এবং শেয়ার মার্কেট লুট ঠেকাতে সরকার ব্যর্থ। এ বছর সরকার পরিকল্পিতভাবে চামড়াশিল্প ধ্বংস করে দিয়েছে এবং এতিম ও গরিবের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়েছে।

দেশের জনগণ এ ধরনের শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চায়। মুক্তি লাভ করতে হলে বর্তমান অনির্বাচিত সরকারের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। আর গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য গণতন্ত্রের মাতা খালেদা জিয়ার মুক্তি অপরিহার্য। এই মহান দায়িত্ব জনগণের আস্থার দল, জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতিনিধি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপিকেই গ্রহণ করতে হবে। ঐতিহাসিকভাবে সত্য যে একদলীয় বাকশাল শাসন থেকে এ দেশের গণতন্ত্রকে মুক্ত করেছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং এরশাদের স্বৈরশাসন থেকে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক ও দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কর্মী ও সমর্থকদের এই পবিত্র দায়িত্ব পালনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি কার্যকর জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি আজ সময়ের দাবি। ‘স্বৈরাচার হটাও, দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ স্লোগান ধারণ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোকে তাদের নিজ নিজ গঠনতন্ত্র মোতাবেক গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সংগঠিত করে আরো ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী হতে হবে। তাহলেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছার বাহন হিসেবে জনগণের মধ্যে ইস্পাতকঠিন গণঐক্য সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। পৃথিবীর কোনো দেশে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট সরকার বেশিদিন টিকে থাকতে পারেনি, বাংলাদেশেও পারবে না। জনগণের ইস্পাতকঠিন গণঐক্যই পারে এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে। ইতিহাসও তাই সাক্ষী দেয়।

লেখক — সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সদস্য, জাতীয় স্থায়ী কমিটি—বিএনপি এবং সাবেক অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ভূতত্ত্ব বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ