fbpx
 

ক্ষমতাসীনদের চেহারা-চরিত্র

Pub: Wednesday, September 25, 2019 11:18 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ড. আবদুল লতিফ মাসুম ২
সব সময় ক্ষমতাসীনদের চেহারা-চরিত্র ‘পবিত্র’ই থাকে। এরশাদ আমলে ক্ষমতাসীন এক মেজর জেনারেলের চরিত্র ছিল ‘ফুলের মতো পবিত্র’। অন্তত জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে সে রকম দেয়াল লিখন, পোস্টার, ফেস্টুন ইত্যাদি রাজধানীতে শোভা পেত। পরবর্তী শাসকেরা কেউই বদনামের দায় নিতে চাননি। পদ্মা সেতু নিয়ে যখন বিশ^ব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ করে তখন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ‘গুড ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট’ দিয়েছিলেন খোদ সরকারপ্রধান। বর্তমান সরকারের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত যখনই দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা তা কখনো স্বীকার করেননি। টিআইবি’র মতো সুপরিচিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান যখনই তথ্য-উপাত্ত দ্বারা প্রমাণ করতে চেয়েছে দুর্নীতি, তখন ক্ষমতাসীনেরা সমস্বরে বলেছেন, ‘সব ঝুট হ্যায়’। সিভিল সোসাইটি এবং বিরোধী দল যখন অঙ্গুলি নির্দেশ করেছে বিরাট বিরাট দুর্নীতির দিকে, তখন সরকার বলেছে,‘সর্বৈব মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। এখন এমন কী হলো যে, সরকার নিজেদের লোকদের ‘দুর্নীতিবাজ’ তকমা লাগানোর জন্য অস্থির হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে বিস্তর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ চলছে।

কার্ল মার্কস তার দর্শনে ‘ক্লাস ক্যারেক্টার’-এর কথা বলেছেন। ‘সমাজতত্ত্বের দৃষ্টিতে দেশ অনুযায়ী লোকের আচরণ, কথাবার্তা, ভদ্রতা, শিক্ষা ও বিত্তগত শ্রেণিবিচার কিংবা ক্ষমতা, কর্তৃত্ব প্রভৃতি দ্বারা শ্রেণী নির্মিত হয়।’ রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা রাজনৈতিক নেতানেত্রীর চেহারা-চরিত্র ব্যাখ্যা করে রাজনীতির তাৎপর্য উপলব্ধি করতে চেয়েছেন। লেনিন বলেছেন, ‘সংশ্লিষ্ট আর্থসামাজিক ব্যবস্থায় একটি জনসমষ্টি বা শ্রেণী অপর একটি শ্রেণীকে নিজেদের অবস্থানগত সুবিধার জোরে শোষণ করে থাকে।’ তদানীন্তন পাকিস্তানের বুর্জোয়া বা পুঁজিপতিরা বাংলাদেশকে তাদের সুবিধাকাক্সক্ষীরা কর্তৃত্বের জোরে শাসন-শোষণ করেছে। তখন আওয়ামী লীগের ক্ষমতাকাক্সক্ষীরা চিহ্নিত হয়েছেন মার্ক্সীয় ভাষায় ‘পেটি-বুর্জোয়া’ বা আধা পুঁজিবাদী শ্রেণী হিসেবে।

বামধারার রাজনীতিবিদেরা যথার্থই বলতেন, পাকিস্তানের ২২ পরিবারের পরিবর্তে আমরা ২২ শ’ পরিবার চাই না। স্বাধীনতার প্রায় অর্ধ শতবর্ষ পেরিয়ে এখন কোটিপতিদের সংখ্যা ২২ শ’ পরিবারের আতঙ্কিত সীমানা অতিক্রম করে ফেলেছে। স্বাধীনতার পতাকাবাহী দল আওয়ামী লীগের গত এক যুগের শাসনে তাদেরই সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের স্বীকারোক্তি মোতাবেক, ‘দেশে একটি দুর্নীতির দুষ্টচক্র সৃষ্টি হয়েছে।’ তিনি আরো স্বীকার করেছেন, ‘আওয়ামী লীগের কেউ ধোয়া তুলসী পাতা নয়।’ বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে, গত ১২ বছর যাবৎ অবাধ লুটপাট, চৌর্যবৃত্তির পর কেন এই অভিযান? বিবিসির বিশ্লেষণ বহুমুখী : ক. উন্নয়নের মহাসড়কে উঠেও আওয়ামী লীগ নিজেদের কিছু নেতাকর্মীর কর্মকাণ্ডের জন্য ইমেজ সঙ্কটে ভুগছে। খ. কিছু নেতা ‘দানবের মতো চেহারা’ নিয়ে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন। তা মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ তৈরি করেছে। আওয়ামী লীগের ‘পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়া’র অবস্থায় চলে গেছে। গ. আওয়ামী লীগের ভেতরই সংস্কারের আবেদন সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী নেতৃত্ব নিজেদের একটি ‘ইতিবাচক ইমেজ’ তৈরি করতে চাচ্ছে। ঘ. সম্প্রতি পর্দা-বালিশ দুর্নীতি এবং বিভিন্ন প্রকল্পের সীমাহীন দুর্নীতির উদাহরণ সরকারকে বিব্রত করেছে।

ঙ. আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও বিভিন্ন অপরাধের কারণে মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এখন সব অভিযোগ ছাপিয়ে আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনগণের অপ্রকাশিত ক্ষোভ থেকে বিষয়টি আওয়ামী লীগের ওপর একটি মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করেছে। দল ও সরকারের অস্তিত্ব অঘোষিতভাবে সংবেদনশীল হয়ে পড়েছে। চ. আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব গৃহীত ব্যবস্থাদির মাধ্যমে জনগণকে তুষ্ট করতে চাচ্ছে। অবশ্য ভোটারবিহীন নির্বাচনের কারণে ‘জনগণ’ এখন আর তাদের কাজে আসার কথা নয়। তবুও লজ্জা-শরমের বালাই তো আছে। তাই ঘুরে দাঁড়ানোর মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগ প্রমাণ করতে চাইছে, তাদের নেতৃত্ব সরকারের সততা ও সাহস প্রমাণে সক্ষম। ছ. শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য তারা ‘তিনি সকলের উর্ধ্বে’ এমন একটি ধারণা প্রমাণ করতে চাইছেন।

বিবিসির এসব বিশ্লেষণের বিশ্বাসযোগ্যতা ও বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়া স্বাভাবিক। বাংলাদেশের মানুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমান ব্যতীত অন্য কাউকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে ভাবতে অভ্যস্ত নয়। নেতৃত্বের দুর্বলতা, আবেগনির্ভরতা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সব সময়ই একধরনের অস্পষ্টতা তৈরি করেছে। অনেকে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে ‘ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়’ প্রবাদটি প্রয়োগ করতে চান। আবার অনেকে আওয়ামী লীগের ১২ বছরের নেতিবাচক কার্যক্রম ব্যাখ্যা করে বলতে চান, ‘সর্বাঙ্গে ব্যথা, ওষুধ দেবো কোথা’? এবার শুরু করা অভিযানের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ, গভীরতা-ব্যাপকতা এবং লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনেকেই সন্দিহান ও শঙ্কিত। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করে, এটি একটি আইওয়াশ বা লোকদেখানো ব্যাপার হতে পারে। যদি সত্যিই ব্যবস্থা নেয়া হয়, তাহলে আওয়ামী লীগ অস্তিত্বের সঙ্কটে নিপতিত হবে।

অতীতেও এ রকম সদিচ্ছার প্রকাশ ঘটেছিল। কিন্তু স্থিতি অর্জন করেনি। রাজনীতি সম্পর্কে যারা গভীর জ্ঞান রাখেন তারা মনে করেন, একটি আদর্শিক সরকার ছাড়া সৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ‘যেন তেন প্রকারে’ অথবা ছলে-বলে-কলে-কৌশলে যারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে চান, জাতীয় স্বার্থের বদলে ক্ষমতার স্বার্থকে যারা প্রাধান্য দেন, তারা ঘোষিত নীতিতে অনড় থাকতে পারেন না। যাদেরকে ব্যবহার করে তারা ক্ষমতায় এসেছেন, তারা নিজেদের বৈশিষ্ট্য মোতাবেক সামান্য অবহেলাও সহ্য করে না। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব এতটাই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যে, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ছাড়া তাদের অস্তিত্ব আর কল্পনা করা যায় না। গণমাধ্যমের খবর মোতাবেক, ‘তিনি’ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আশঙ্কা হচ্ছে, সবটাই লোকদেখানো। হয়তো এর স্থিতি অল্প দিনের।

দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার পরিচালনার জন্য যে পরিপক্বতা, পরিকল্পনা ও পরিচ্ছন্নতা থাকা প্রয়োজন তা সরকারের নেই। আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, “যখন তারা সীমা লঙ্ঘন করেছে, তখন ‘তিনি’ বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছেন এদের নিবৃত্ত করার জন্য। তারা নিবৃত্ত না হয়ে ওই পথে আরো এগিয়ে গেছেন। তাই বাধ্য হয়ে তিনি অভিযান চালাচ্ছেন।” লক্ষণীয় যে, অভিযানটি দলের সর্বস্তরে না হয়ে বিশেষ বিশেষ ব্যক্তি তথা সহযোগী সংগঠন-কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। এমনও শোনা যাচ্ছে, যাদের দলীয় আনুগত্যের ব্যাপারে নেত্রীর সন্দেহ, যারা অসীম সম্পদের শীর্ষে অবস্থান করে ভিন্ন ধারায় চলে যাওয়ার সম্ভাবনা এবং দলে অর্থ প্রদানে কৃপণতা ও দ্বিধাদ্বন্দ¦ রয়েছে, তাদের অবাধ স্বাধীনতা দিতে চান না নেত্রী। দলীয় কর্মীদের প্রতি অত্যন্ত দরদি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বর্তমান আওয়ামী লীগ প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এর থেকে ব্যতিক্রম নন।

তাই তো তিনি বলতে পারেন, আমি অমুকের অভিভাবক। অভিযোগ, যেকোনো অন্যায় বা অনৈতিকতাকে অন্যের ঘাড়ে তুলে দিতে তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বালিশ কেলেঙ্কারির নায়ক যে একসময়ে ছাত্রদল করতেন, তা বলেছেন সরকারপ্রধান। ক্যাসিনো ব্যবসার ভাগ পায় বিএনপি, বলেছেন ওবায়দুল কাদের। এই অভিযানে শুরু থেকে আজ পর্যন্ত যে কয়জনকে ধরা হয়েছে, মিডিয়ার দাবি- তাদের বেশির ভাগ পূর্বপরিচয়ে বিএনপি। এটাকে হাইলাইট করছে ক্ষমতাসীন দলও।

প্রাথমিক আলোচনায় রাজনৈতিক দলের ‘ক্লাস ক্যারেক্টার’ বা শ্রেণিচরিত্র তথা জনচরিত্রের কথা উঠে এসেছে। সাবেক পাকিস্তান আমলের পেটি-বুর্জোয়া চরিত্র এখন আর আওয়ামী লীগের নেই। এখন তারা ষোলআনা বুর্জোয়া চরিত্র ধারণ করেছেন। আওয়ামী লীগের এই আমলে বাংলাদেশ আকস্মিকভাবে ধনী হওয়ার ক্ষেত্রে গোটা পৃথিবীতে স্থান করে নিয়েছে। তারা আঙুল ফুলে শুধু কলাগাছই হননি, তালগাছ হয়েছেন। তারা কী করে এসব হয়েছেন- তার প্রমাণ চলমান অভিযানের গতিপ্রকৃতি। রাজনীতির যে দুর্বৃত্তায়ন ও বাণিজ্যিকীকরণ ঘটেছে, অভিযুক্তদের রাজনৈতিক উত্থানকাহিনী প্রকাশিত হওয়ার পর তা অস্বীকার করার উপায় নেই। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় তথা নির্বাচনে অর্থ জোগানের প্রধান উৎস এসব অন্যায় অপকর্মের হোতারা। অভিযানের পরিণতি বা ফলাফল সম্পর্কে মন্তব্য করার সময় আসেনি। প্রাথমিক অবস্থায় মনে হচ্ছে, ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা-বিশ^াস অর্জনের জন্য যদি অভিযানটি পরিচালিত হয়ে থাকে তা তেমন সফল হয়নি।

বরং লুটপাট ও দুর্নীতির যে ভয়াবহ স্বীকৃত সত্য প্রকাশ হয়েছে তা জনগণকে আরো ক্ষুব্ধ ও বিস্ময়-বিমূঢ় করেছে। একই সাথে, উন্নয়নের গণতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে মৌলিক মানবাধিকার দলনের যৌক্তিকতা অসার প্রমাণ হয়েছে। আওয়ামী যুব নেতৃত্বের ‘এত দিন কোথায় ছিলেন?’ জিজ্ঞাসা তথা ‘আঙুল চোষা তত্ত্ব’ বরং বুমেরাং হয়েছে।

অভিযান সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ‘হোয়াট ইজ নেকস্ট?’ এরপর আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ চূড়ায় কি অভিযান চলবে, নাকি ইতোমধ্যে স্থগিত হয়ে যাবে? ছাত্রলীগের দুই নেতাকে সরিয়ে দেয়ার পর সরকার যুবলীগের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে। এরপর দেশের সর্বত্র ক্যাসিনো বা জুয়ার আসরের গডফাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এসব ক্যাসিনো ব্যবসার মালিক-মোখতার হলেন, যুবলীগ-আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। কোনো কোনো এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে। অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে খবর বেরিয়েছে।

গডফাদার যত বড়ই হোন না কেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর। এমনকি বিদেশে যাওয়ার আগে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন- অভিযান চলবে। গণভবনে ছাত্রলীগের দুই ভারপ্রাপ্ত নেতার নেতৃত্বে যে প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেছে তাদের তিনি বলেছেন, ‘কোনো নালিশ শুনতে চাই না। ছাত্রলীগের পর যুবলীগ ধরেছি। সমাজের অসঙ্গতি এখন দূর করব। একে একে সব করতে হবে। জানি কঠিন কাজ, কিন্তু আমি করব।’ প্রধানমন্ত্রী অন্যত্র বলেছেন, ‘সবার আমলনামা আমার কাছে আছে।’ আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা যারা দুর্নীতি এবং বিভিন্ন সামাজিক অপরাধে জড়িত, দলটি তাদের সবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছে। এখন এই অভিযান বা এসব ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি কত দূর পর্যন্ত যেতে পারে, সেটি প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।

সংবাদপত্রে অভিযোগ করা হয়েছে, অন্যায়-অপকর্মের শীর্ষ নিয়ন্ত্রক তথা গডফাদাররা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। এসব মন্তব্য দ্বারা সম্ভবত ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং কিছু মন্ত্রীর দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। দৃশ্যত ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ ইত্যাদি সহযোগী সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পর মূল দলের পালা। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সব নেতাই যে দুর্নীতিগ্রস্ত এমন নয়; তবে কেউ কেউ দুর্নীতিপরায়ণ। তাদের বিরুদ্ধে কবে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে- গোটা জাতি উন্মুখ হয়ে তা জানার জন্য অপেক্ষা করছে।

লেখক : অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ