fbpx
 

বাংলাদেশ ইজ অ্যা লকড কান্ট্রি নাউ

Pub: সোমবার, অক্টোবর ৭, ২০১৯ ৩:০৫ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, অক্টোবর ৭, ২০১৯ ৩:২০ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শামসুল আলম
বাংলাদেশের ম্যান্ডেটহীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল ভারতের সাথে যে ৭টি চুক্তি ও সমঝোতা সই করেছেন, যদি প্রশ্ন করা হয় তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ কোনটি? কেউ বলবে ফেনী নদীর পানি দেয়া, কেউ বলবে দু’টি পোর্ট ব্যবহার করতে দেয়া, কেউ বলবে তরল গ্যাস দেয়া। কিন্তু আমি বলব, না এগুলো চেয়ে ভয়াবহ হলো– “উপকূলে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিতকরন” সমঝোতা। কারণ এর ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ভারত ২০টি রাডার বসাবে, যার দ্বারা বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূল থেকে শুরু করে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের পুরো এলাকা তাদের আওতায় চলে যাবে। মানে, দেশটা আমাদের হলেও উপকূলটা এখন ভারতের দখলে!

বাংলাদেশের উপকূলের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব হলো বাংলাদেশ নৌবাহিনীর। তাদের সেই কাজে সহায়তার জন্য ১৯৯৫ সালে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার গঠন করেছিল বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড- অর্থাৎ- উপকূল রক্ষক বাহিনী। ৫৭টি জাহাজ ও ৪ হাজার সংখ্যার এ বাহিনী বাংলাদেশের সমূদ্র উপকূল অঞ্চলের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বিধান এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে আসছে। তদুপরি এখন থেকে এই এলাকার নতুন চৌকিদার নিয়োগ হয়েছে ভারত! নতুন এই ব্যবস্থার পরে চীনের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর নামে বঙ্গোপসাগর এলাকায় অধিক কড়া দৃষ্টি রাখবে ভারত। এরফলে শুধু সমুদ্রপথে যেকোনো জাহাজ বা বস্তু সনাক্ত করতে ভারতকে সাহায্য করবে এমন নয়, একই সঙ্গে বাংলাদেশের নৌসীমানায় তাদের আধিপত্য স্থাপন করতে পারবে। যে ভারত কয়দিন পর পর নিজের হেলিকপ্টার গুলি করে নামায়, এরপর থেকে বাংলাদেশের নিজস্ব জাহাজ, নৌযান, এমনকি নাবিকরাও ভারতের হামলার মুখে পরতে পারে।

এতদিন বাংলাদেশকে বলা হতো তিন দিক দিয়ে ভারতবেষ্টিত! উপকূলের পর্যবেক্ষণ চুক্তির পর থেকে বাংলাদেশ is a 100% locked country! এখন বাংলাদেশের চারদিকই ভারতের দখলে। জাতীয় প্রতিরক্ষার শেষ পেরেকটা ঠুকে দিলো শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বিষয়টি নিয়ে ভাবুন।

মনে কি পড়ে ২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারির কথা। বাংলাদেশের বর্ডার নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনী বিডিআরকে পিলখানায় কেমন করে ধংস করেছিল ভারতীয় গোয়েন্দারা? এর কারণ ছিল বাংলাদেশের এই আধা সামরিক বাহিনীটি ভারতের বিএসএফের কাছে ছিল যমের মতন। বিশেষ করে, ২০০১ সালে পদুয়া এবং রৌমারীর যুদ্ধে ভারতের কয়েক’শ বিএসএফ সৈন্য নিহত হয়েছিল বিডিআরের হাতে। তখনই ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী লোকসভায় হুমকি দিয়েছিল- এর বদলা নেয়া হবে। ৮ বছর পরে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পরপর নাজুক সময়ে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ভারত গুপ্তচর ও শুটার পাঠিয়ে পিলখানায় বিদ্রোহ ঘটায় এবং ৫৭ সেনা অফিসার হত্যা করে বিডিআর বাহিনীটি ধংস করে দেয়। পরে ভারতের সমর্থন নিয়ে বিজিবি গঠন করা হলেও বাহিনীটি ভারতের অনুগত বলেই সবাই জানে, এবং বর্ডারে ভারতের সুপ্রিমেসি প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিপুল সংখ্যক সেনা অফিসার হত্যার ফলে সশস্র বাহিনীতে ভীতির সঞ্চার হয়। পরবর্তীতে আরও কয়েক’শ সেনা অফিসার চাকুরীচ্যুত করে ও জেল দিয়ে সেনাবাহিনীর মনোবল ও স্ট্রাকচারে ধস নামায়। ভয়ভীতি, লোভ টোপ ও নানা উপায়ে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের মিলিটারী ভারতের অনুগত একটি ডিপার্টমেন্টে পরিণত হয়। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার (পরে মেজর জেনারেল) তারিক সিদ্দিকীর মাধ্যমে ভারতের পরিকল্পনা ও নীতি বাংলাদেশের মিলিটারীতে বাস্তবায়ন করে মিলিটারীকে “মাজাভাঙা” বাহিনীতে পরিণত করে। অন্যদিকে হাসিনার সই করা প্রতিরক্ষা কাঠামো চুক্তির মাধ্যমে এবং অপ্রকাশিত সামরিক চুক্তি, ভারতীয় প্রশিক্ষণে মগজ ধোলাই, প্রমোশন ও ক্যারিয়ারের জন্য ভারত-অনুগত হওয়ার দ্বারা বাংলাদেশের মিলিটারী এখন পুরোটাই ভারতের এনেক্স বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিষ্ঠিত কচুক্ষতের ১৪ তলা ডিজিএফআই ভবনের ২টি তলা ভারতীয় গোয়েন্দাদের ছেড়ে দিয়েছেন শেখ হাসিনা ও তারিক সিদ্দিকী, এখানে বসে মিলিটারীর গতিবিধি ও কর্মকান্ড মনিটর করে থাকে ভারতীয় গুপ্তচর ও গোয়েন্দারা, এমনকি প্রতিটা সেনানিবাসে ভারতীয় গোয়েন্দারা ক্রিয়াশীল!

সর্বশেষ উপকূল চুক্তির ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ভারতের দখলাদারীত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের মানুষ এরপর থেকে নিজেদেরকে আর স্বাধীন দেশের নাগরিক ভাবতে পারে না। ৮ পারসেন্ট প্রবৃদ্ধির গল্প, শণৈ শণৈ উন্নতির রূপকথা শোনানো, ২ হাজার ডলারের মিথ্যা পার-ক্যাপিটা ইনকামের দেশের উপকূল পাহারায় ভারতকে ইজারা দিতে হবে কেনো? অর্থ না থাকলে দরকার হলে ১৭ কোটি নাগরিকরা চাঁদা দিয়ে রাডার কিনে দিবে।

ওহে বাংলার মানুষ। জেনে রাখুন, বিনা ভোটের অবৈধ সরকার কেবল নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতে বাংলাদেশ বিক্রি করে দিয়েছে! এখন আপনারাই পারেন এটা উদ্ধার করতে। অতীতে গোপন ৭ দফা চুক্তি, ৩০ সালা দাসত্ব চুক্তি সহ বহু চুক্তি হয়েছে– কিন্তু কোনো কিছুই টিকেনি। জনগন ঠিক থাকলে এবারও টিকবে না, ইনশা আল্লাহ।

এখানে প্রকাশিত সব মতামত লেখকের ব্যক্তিগত, শীর্ষ খবর ডটকম’র সম্পাদকীয় নীতির আওতাভুক্ত নয়।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ