fbpx
 

পিলখানা হত্যাযজ্ঞের নেপথ্যচারীদের শনাক্ত করা কি সম্ভব?

Pub: সোমবার, জানুয়ারি ১৩, ২০২০ ৩:৪৫ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

একেএম শামসুদ্দিন
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত শেষ পর্যন্ত পিলখানা হত্যাযজ্ঞের পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণা করেছেন। এ রায়ে আদালত ২২টি পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ করেছেন। দেরিতে হলেও এ রায়ে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় ভিকটিম সবাই খুশি হয়েছেন বলে আমার ধারণা। খুশি হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ দুটো কারণ চিহ্নিত করা যেতে পারে।
ফাইল ছবি
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত শেষ পর্যন্ত পিলখানা হত্যাযজ্ঞের পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণা করেছেন। এ রায়ে আদালত ২২টি পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ করেছেন। দেরিতে হলেও এ রায়ে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় ভিকটিম সবাই খুশি হয়েছেন বলে আমার ধারণা। খুশি হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ দুটো কারণ চিহ্নিত করা যেতে পারে।

কারণ দুটো হল- ‘হত্যাযজ্ঞে অংশগ্রহণকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির রায় ঘোষণা’ এবং বিডিআরের (বর্তমানে বিজিবি) ‘ঘটনার পেছনের ঘটনা উদঘাটনের জন্য তদন্ত কমিশন গঠনের সুপারিশ করা’। তবে আদালত এ ‘তদন্ত কমিশন’ গঠন করা সরকারের ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

এর অর্থ হচ্ছে সরকার না চাইলে এ কমিশন নাও গঠন হতে পারে, তাতে আদালতের রায়ের কোনো বরখেলাপ হবে না। তবে আদালতের রায়ে সবাই সন্তুষ্ট হলেও হত্যাকাণ্ডের পেছনের ঘটনা উদ্ধারে ‘স্বাধীন তদন্ত কমিশন’ গঠনের জন্য সরকারকে বাধ্য করতে আদালত সুপারিশ না করে সরাসরি আদেশ জারি করলে দেশবাসী আরও বেশি খুশি হতো বলে মনে হয়।

তবে পিলখানা ষড়যন্ত্রমূলক হত্যাযজ্ঞের দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করা এবং বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার জন্য বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাতেই হয়।

একইভাবে ‘ঘটনার পেছনের ঘটনা’ উদঘাটনের জন্য আদালতের সুপারিশও যে এ সরকার বাস্তবায়ন করবে দেশবাসীর সে বিশ্বাস ও আস্থা আছে। পিলখানা প্রসঙ্গ উঠলে ভিকটিম হিসেবে আমার অনেক ঘটনা মনে পড়ে যায় এবং এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে অনেক কথাই বলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু নানা ‘সীমাবদ্ধতা’র কারণে সব কথা বলা হয়ে ওঠে না।

আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণার পর দেশের প্রতিটি সংবাদমাধ্যম বেশ গুরুত্ব দিয়ে তা প্রকাশ করেছে। জানা যায়, আদালতের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশে এমনসব তথ্যের উল্লেখ আছে যা এতদিন বিচ্ছিন্নভাবে মানুষের মুখে উচ্চারিত হলেও রাজনৈতিক বক্তব্যের তোড়ে তেমন গুরুত্ব পায়নি।

হাইকোর্টের রায়ে মানুষের সেসব বক্তব্যের প্রতিধ্বনি হওয়ায় আজ তা সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। বিচার বিভাগের ওপর বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের যে এখনও আস্থা আছে, হাইকোর্টের এ পূর্ণাঙ্গ রায়ে তা আবারও প্রমাণ হল।

বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের তিন সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চ ৮ জানুয়ারি ২৯ হাজার ৫৯ পৃষ্ঠার এক পূর্ণাঙ্গ রায়ে তাদের সুপারিশ ও অভিমত তুলে ধরেন। বেঞ্চের অন্য দু’জন সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।

বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী রায়ে তার পর্যবেক্ষণে নারকীয় এ হত্যাকাণ্ডের কারণ তুলে ধরে বলেছেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনা ও উসকানিতে বিডিআর সদস্যরা বিভ্রান্ত হয়ে এ অনৈতিক কাজটি করেছে।

স্বার্থান্বেষী মহলটির মূল লক্ষ্য ছিল ১. সেনা কর্মকর্তাদের জিম্মি করে তাদের দাবি আদায় করা। ২. চেইন অব কমান্ড ধ্বংস করে বিডিআরকে অকার্যকর করা। ৩. প্রয়োজনে নৃশংসভাবে নির্যাতন ও হত্যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের বিডিআরে প্রেষণে কাজ করতে নিরুৎসাহিত করা। ৪. সেনাবাহিনী ও বিডিআরকে সাংঘর্ষিক অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করা। ৫. নবনির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের প্রয়াসে দেশকে অস্থিতিশীল করা।

৬. দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে হুমকির সম্মুখীন করা। ৭. বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা এবং ৮. জাতিসংঘ শান্তি মিশনে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের অংশগ্রহণের পথকে ক্ষতিগ্রস্ত করা।

দীর্ঘ সামরিক জীবন ও পিলখানা হত্যাযজ্ঞের সময় বিডিআরে কর্মরত থাকার অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি, বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকীর পর্যবেক্ষণগুলো খুবই গুরুত্ব বহন করে। একটি কথা মনে রাখতে হবে, নেতৃত্ববিহীন যে কোনো উদ্যোগ ব্যর্থ হতে বাধ্য। বিডিআরের ঘটনা তারই প্রমাণ।

আবার গুটিকয়েক জুনিয়র সদস্যের উদ্যোগে এমন একটি বৃহত্তর ঘটনা সংঘটিত করাও সম্ভব নয়। সে বিবেচনায় এ ঘটনার পেছনে যে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র ছিল তা বলাই বাহুল্য।

পিলখানা ঘটনা শুরু হওয়ার পর মিডিয়ার সম্মুখে বিডিআর সদস্যদের যে বক্তব্য প্রচার করা হয় তা ষড়যন্ত্রের সামান্য অংশ মাত্র। এ ষড়যন্ত্র চলে আসছিল বেশ আগে থেকেই। ষড়যন্ত্রের কুশীলবরা বিডিআর সদস্যদের ব্যবহার করেছে মাত্র।

পিলখানার ঘটনার বেশ কয়েকদিন পর শোনা গিয়েছিল যে, সিদ্ধান্ত ছিল ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে বিদ্রোহে অংশগ্রহণকারী সদস্যরা সমবেত হয়ে প্রথমে অস্ত্রাগার ও ম্যাগাজিন লুট করে কর্মকর্তাদের জিম্মি করবে।

অতঃপর দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আটক রাখা হবে। কর্মকর্তাদের হত্যার কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। যদি তাই হবে তাহলে কর্মকর্তাদের হত্যার আদেশ এলো কোথা থেকে? কোন সে ব্যক্তি যার কাছে গোপন সেই নির্দেশ ছিল যে অফিসারদের গুলি করে হত্যা করতে হবে?

বিশ্লেষণ করে জানা যায়, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দেশে ইতিমধ্যে ঘটে যাওয়া এরূপ কিছু ঘটনার সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। উল্লেখ্য, বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকীর প্রথম পর্যবেক্ষণেও অফিসারদের জিম্মি করার কথা বলা আছে।

ঘটনা শুরু হলে প্রথম থেকেই বিডিআর সদস্যদের ভেতর কোনো শৃঙ্খলা ছিল না। একক নেতৃত্বের কোনো দৃশ্যও চোখে পড়েনি তখন। ২৫ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহের ঘটনা পিলখানায় সীমাবদ্ধ থাকলেও পরদিন তা ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে পড়ে।

আমি তখন ঢাকার বাইরের একটি বিডিআর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক ছিলাম। ২৫ ফেব্রুয়ারি ঘটনা শুরু হওয়ার পর ঢাকার বাইরে আমাদের অধিনায়কদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। বিদ্রোহের কোনো আঁচড় তখনও বাইরের ব্যাটালিয়নগুলোতে লাগেনি।

কিন্তু কিছু চিহ্নিত ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় পিলখানার বিডিআর বিদ্রোহী সদস্যদের ন্যক্কারজনক সাক্ষাৎকার প্রচারের পর বাইরের ব্যাটালিয়নগুলোতে ধীরে ধীরে উত্তেজনা বেড়ে যেতে থাকে, যা চূড়ান্ত রূপ পায় পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি। একে একে প্রতিটি বিডিআর ব্যাটালিয়নে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।

অতঃপর আমরা বিডিআর সদস্য কর্তৃক চূড়ান্ত অপমানিত হয়ে কোনো রকমে নিজের জীবন নিয়ে পালিয়ে বাঁচি। মিডিয়ায় পিলখানার ঘটনা নিয়ে যত প্রচার হয়েছে ঢাকার বাইরের ঘটনা নিয়ে তেমন কোনো আলোচনাই হয়নি বলা চলে।

ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ওই সাক্ষাৎকার প্রচার ঢাকার বাইরের ব্যাটালিয়নগুলোর বিদ্রোহের অন্যতম কারণ তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ঘটনার পেছনে ঘটনা উদ্ঘাটনে তদন্ত কমিশন চিহ্নিত সেসব ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ওই সাক্ষাৎকার প্রচারের পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখবেন বলে আশা রাখি।

বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকীর ১১টি পর্যবেক্ষণের মধ্যে তিনটি পর্যবেক্ষণ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। সেগুলো হল ১. ‘বিডিআরে তীব্র অসন্তোষ ও প্রকাশ্যে লিফলেট বিতরণের বিষয়টি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা, কমান্ডিং কর্মকর্তাদের নজরে আসা সত্ত্বেও তারা উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিয়ে উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছেন।’

২. ‘বর্বর ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের প্রধান লক্ষ্য ছিল বিডিআর থেকে যে কোনো মূল্যে সেনা কর্মকর্তাদের উৎখাত করে বিডিআরের নিজস্ব কর্মকর্তাদের দ্বারা এ বাহিনী পরিচালনা করা।’ উল্লেখ্য, যে কোনো ঘটনা ঘটানোর আগে অপরাধীদের একটা লাভ-ক্ষতির হিসাব থাকে।

অর্থাৎ এ ঘটনার মধ্যে দিয়ে কে বেশি লাভবান হল! এটি নির্ধারণ করতে পারলে নেপথ্যচারীদের শনাক্ত করা সহজ হয়। স্মরণ করা যেতে পারে, ১৯৭৫ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর ঘটনার পেছনের ব্যক্তিদের দোষী সাব্যস্ত করতে গিয়ে সেই সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কারা বেশি লাভবান হয়েছিলেন তা নিয়ে আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের অনেক বক্তৃতা দিতে শুনেছি।

এ ব্যাপারেও বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী ‘ঘটনার পেছনের ঘটনার’ পর্যবেক্ষণে বলেছেন- ৩. অপরাধবিজ্ঞানে অপরাধীর অপরাধ সংঘটনে মোটিভ নির্ণয়ে বিদ্যমান অন্যান্য উপাদানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে অপরাধীর লাভ-ক্ষতির হিসাব অনুসন্ধান করা হয়।

ঘটনার পেছনের ঘটনা উদঘাটন করে জাতির সামনে প্রকৃত স্বার্থান্বেষী মহলের চেহারা উন্মোচনের জন্য সরকার জনস্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে আইনসম্মতভাবে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দ্বারা তদন্ত কমিশন গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। পাঠক এ গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পর্যবেক্ষণের মধ্যে অন্তত দুটো পর্যবেক্ষণে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক আছে।

আমার মনে হয়, তদন্ত কমিশন বিচারপতি আবু জাফরের এ শেষ দুটো পর্যবেক্ষণ ধরে যদি এগোয়, তাহলে বিডিআরের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনের অনুঘটকদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। মোট কথা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পেছনের ঘটনার ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করার জন্য তদন্ত কমিশন গঠিত হলে বিচারপতি শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের এ পূর্ণাঙ্গ রায়ের প্রতিটি পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে।

আদালত দেশের সীমান্তরক্ষী হিসেবে বর্তমান বিজিবিকে আরও শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এক সুপারিশে বলেন, ‘দেশের সীমান্তরক্ষী হিসেবে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রাথমিক নিরাপত্তা বাহিনীর (ফার্স্ট লাইন অফ ডিফেন্স) দায়িত্বে থাকা বিজিবিকে শক্তিশালী বাহিনী রূপে গড়ে তোলার কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা’।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বপ্রথম সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বিডিআরকে একটি শক্তিশালী বাহিনীতে গড়ে তুলতে দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করেছিলেন।

বিডিআরকে শুধু অ্যান্টি স্মাগলিং অপারেশন ও দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তিরক্ষায় প্যারা মিলিটারি হিসেবেই তিনি গড়ে তুলতে চাননি বরং বাংলাদেশ বহিঃশক্তির দ্বারা আক্রান্ত হলে ফার্স্ট লাইন অফ ডিফেন্সে শত্রুকে ধরে রাখার সক্ষমতা অর্জনের ওপর জোর দিয়েছিলেন যেন সেনাবাহিনী উপযুক্ত সময়ের মধ্যে বিডিআরের কাছ থেকে যুদ্ধক্ষেত্র বুঝে নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে পারে। সময় ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিডিআর ধীরে ধীরে সে পথেই এগিয়ে যাচ্ছিল।

যুদ্ধের সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিডিআরকে গড়ে তোলা হচ্ছিল একটি পেশাদার বাহিনী রূপে। শত্রুর First thrust absorb করা এবং সেনাবাহিনীকে যুদ্ধক্ষেত্র বুঝিয়ে দেয়ার জন্য মাঝখানের যে সময়, সে সময়ে বিডিআর সদস্যদের দক্ষভাবে পরিচালনা করার জন্য চাই পেশাদার সামরিক দলপতি। সেজন্য সেনা কর্মকর্তাদের চেয়ে ভালো কোনো বিকল্প আছে কিনা আমার জানা নেই।

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে যে পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ করা হয়েছে তাতে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থার বেশকিছু দিকনির্দেশনা দেয়া আছে। এ রায়ের পর আপিল-পাল্টাআপিল হবে এটাই স্বাভাবিক। এজন্য হয়তো আরও বেশকিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই রায় বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

সে প্রক্রিয়া কতদিনে শেষ হবে তা বলা মুশকিল। তবে পিলখানা ঘটনার পেছনের শক্তিকে চিহ্নিত করার জন্য সাধারণ মানুষের এতদিনের যে দাবি, আদালতের তদন্ত কমিশন গঠনের সুপারিশের মাধ্যমে সে দাবির প্রথম পর্ব সম্পন্ন হয়েছে বলা যায়।

এখন সরকার সে সুপারিশ অনুযায়ী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তবে সবার প্রত্যাশা ‘ঘটনার পেছনের ঘটনা’ উদঘাটন করতে গিয়ে ‘তদন্ত কমিশনে’ যেন কোনো রাজনীতির অনুপ্রবেশ না ঘটে।

একেএম শামসুদ্দিন : অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা

Hits: 5


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ