• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

আলহামদুলিল্লাহ -” বিদেশ নীতি তে মৌলিক পরিবর্তন”

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ৫:০৬
আপডেট: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ৫:০৬

আলহামদুলিল্লাহ -” বিদেশ নীতি তে মৌলিক পরিবর্তন”

নজরুল ইসলাম চৌধুরী
বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ভারত সফর আপাততঃ বাতিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষনা করেছেন এই মর্মে যে , এই সফরের জন্য একটি অনুকুল পরিবেশ তৈরী করা অতিব জরুরী। জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জনাব এ কে এম শহীদুল করিম।
” সাবাস বাংলাদেশ, সাবাস “
যদিও ভারতিয় গন মাধ্যম গুলো আভাস দিয়েছিল যে , প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান আগামী সাপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে দুই দিনের সফরে ভারতে যেতে পারেন।
পাশাপাশি ঢাকায় বাংলাদেশের কর্মকর্তারা অনেকটা তাই আভাস দিয়েছিলেন।
মুখপাত্র বলেছেন দ্বিপাক্ষিক প্রত্যার্পন চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনা ও বাকী সকল পলাতক অপরাধীদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে এবং শহীদ ওসমান হাদী হত্যা কান্ডের ঘাতকদের বাংলাদেশে হস্তান্তর করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ জানিয়েছি। বাংলাদেশ এই জবাবের অপেক্ষায় আছে।
কুটনৈতিক ভাষা — অনুকূল পরিবেশ নেই।
পলাতক শেখ হাসিনার পলায়ন এবং শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকান্ড নিয়ে কথা বলেছেন।
তার পরও পুরো বিবৃতির মাঝে আরো অনেক অনেক বিষয়বস্তু থাকা অতিব প্রয়োজন ছিল বলে দেশের মানুষ মনে করেন বলে আমার বিশ্বাস।
যেমন – # আওয়ামীলীগের যে সকল পলাতক অপরাধী ভারতে আছে ? তারা কি ভাবে আছে ?

দেশের সেনাবাহিনীর বেশ কিছু পলাতক অপরাধী জেনারেল ভারতে অবস্থান করছে। ওরা সেখানে কি কাজ করেছেছেন এবং কি ভাবে আছেন ?- বিশেষ করে দেশের ( ডি জি এফ আই ) গোয়েন্দা প্রতিরক্ষার পাঁচ জন মহা পরিচালক দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আছেন। তারা ওখানে কি করছেন ?

গংগা পানি চুক্তি নিয়ে কি হবে ? তিস্তা নিয়ে কি হবে ?
সিমান্ত হত্যার ব্যাপারে কি হবে ?
বানিজ্য , বিদ্যুৎ সহ অপরাপর বিষয়াদি নিয়ে কি হবে তা নিয়ে যে কোন কিছু নেকোসিয়শন হয়েছে বলে প্রতিয়মান নয়। শুতরাং এই সকল বিষয় নিয়ে যদি কোন প্রকারের অগ্রগতি ছাড়া যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ভারতে যেতেন তা হলে তাঁর সফর দেশের কল্যাণে কতখানি ফলপ্রসূ হতো?
দু’দেশের গুনগত মান বিন্দু মাত্র উন্নতি হয়েছে বলে দেশের জনগন মনে করে না।
ভারত যে দোমুখি সাঁপের মত কাজ করছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। যেমন, ভারত বর্তমান সরকারের সাথে একটি সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করছে। আরেক দিকে তাদের দাবার গুটি শেখ হাসিনা নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চরম অস্থিতিশিলতা তৈরী করেই চলেছে।
ইতমধ্যে ভারত শুধু বাংলাদেশের ভিতরে অস্থিতিশীলতা তৈরী করেই খান্ত নয় , আন্তর্জাতিক ভাবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাউন্টার টেররিজম মনিটরিং গ্রুপে দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নিখুঁত ভাবে এক লাইনে বাংলাদেশ কে জড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও নাকি আল-কায়দার সেল গঠন করার চেষ্টা চলছে। যে সংবাদটি গণমাধ্যমের সুবাদে দেশের জনগনের নজরে এসেছে। এমন উদ্ভট তথ্য জাতিসংঘের কাউন্টার টেররিজম মনিটরিং গ্রুপ কোত্থেকে পেলো?
এমন উদ্ভট কাল্পনিক ভীত কিম্বা কাহিনি কে বা কারা তৈরী করছে তা খতিয়ে দেখে দেশ – জাতীর নিকট প্রকাশ করে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেয়া অতিব জরুরী বলে আমি মনে করি।
কারন দেশের জনগন মনে করে এমন কাল্পনিক উদ্ভট কাহিনির একমাত্র রূপকারক ভারত আর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঘাপ্টি মেরে বসে থাকা সরকারী ও বেসরকারী প্রশাসনের কতিপয় কুচক্রী মহলের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহল সহ কথিত সুশীল সমাজ নামের ভারতীয় পদলেহনকারী রাষ্ট্রদ্রোহী দাস দাসীরা।
এর একমাত্র প্রমান দেশ স্বাধীনের পর থেকে আজ-অব্দি যখনি আওয়ামী লীগ দেশের ক্ষমতায় থাকেনা তখনি বাংলাদেশ কে একটি জংগী রাষ্ট্র বানানো কিম্বা সন্ত্রাসীদের আখড়া বানানোর পায়তারায় ভারত ছালিয়ে আসছে। অপরদিকে যখনি দেশে আওয়ামিলীগ ক্ষমতায় ছিল তখন কিন্ত বাংলাদেশের কোন জংগিবাদ কিম্বা সন্ত্রাসী আকড়ার কোনই আলাপ ছিলনা যা বিশেষ ভাবে লক্ষ্মণীয়। বড়ই পরিতাপের বিষয় যে এমন ন্যাক্কারজনক বিষয়টি দেশের জনগন হাঁড়ে হাঁড়ে অনুধাবন করলেও আওয়ামিলীগ সহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং মুখোশধারী পাপিষ্ঠ বুদ্ধিজীবী আর সুশীল সমাজ নামের ভারতীয় আজ্ঞাবহ দাস দাসী গং স্বাধীনতা অর্জনের ৪৫ কি ৫৫ বছর ধরে আজো অনুধাবন করতে পারেনি। যা ভাবলে হৃদয়ের গভীরে অসহনীয় রক্তক্ষরণের জ্বালা অনুভব করে থাকি।
ভারত ও বাংলাদেশের সাথে যে সকল বিষয়ে টানাপোড়েন আছে সে বিষয় গুলোর কোন অগ্রগতি ছাড়া ভারত যে আমাদের বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী তা মনে করাটা কুটনৈতিক ভাবে হবে এক মহা আত্মঘাতী সংকট। যাহা বর্তমান সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ও তাঁর সরকারের যথাযথ উপলব্ধি থেকে ভারত সফরের প্রেক্ষিতে যে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন তাতে দেশের জনগনের প্রানে আশার আলো ছড়িয়েছে।
সম্প্রতি সোসাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ভারতের সাথে বাংলাদেশের দুরত্ব বাড়বে মর্মে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। মূলত সেই মহান স্বাধীনতা পরবর্তী থেকে ভারত বাংলাদেশের সাথে দুরত্ব সৃষ্টি করেই চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। ভারত তাদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করতেই সম্পর্ক স্থাপন করেছে দেশের একটি মাত্র রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামিলীগের সাথে। বাংলাদেশ ও দেশের জনগনের সাথে নয়। শুতরাং বলতে দিধা নেই যে বাংলাদেশের সাথে দুরত্ব তৈরীর জন্য একমাত্র দায়ী ভারত বাংলাদেশ নয়।
বিগত পনর ষোল বছরের অধিক সময় থেকে দেশের অভ্যন্তরে সকল প্রকারের মানবাধিকার লংঘন , হত্যা, খুন, গুম , সুপরিকল্পিত ভাবে বি ডি আর বিদ্রোহের নামে দেশের চৌখুশ দেশ প্রেমিক সেনা কর্মকর্তা নিধনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী কে স্বমুলে ধংশ করার নিখুঁত পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন , বিনা ভোটে আর রাতের ভোট সহ আমি – ডামি আর মামুর ভোটের নিলনকশায় জোড় জবরদস্তি দেশের ক্ষমতা কে ভারতের আজ্ঞাবহ মহল কে চিরস্থায়ী ক্ষমতার বন্দোবস্তেী বা ইজড়াদ্বার স্থায়ীভাবে রাখার হীন পরিকল্পনায় সক্রিয় ছিল ভারত।
ভারত মনে করছে – ” বল ইন দ্যা কোর্ট অব নিউ দিল্লি “।
কারন ফ্যাসিস্ট উৎখাত আন্দোলনে প্রায় পনর থেকে দুই হাজার জুলাই যোদ্ধা শহীদ হয়েছে , হাজার হাজার জুলাই যোদ্ধাদের আমৃত্যুর জন্য পংগুত্ব বরন সহ শত সহস্র যোদ্ধা তাদের দৃষ্টি শক্তি চিরদিনের জন্য হারিয়েছেন যে ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল আওয়ামিলীগ ও তার সভানেত্রী লেডি মাফিয়া হাসিনার স্বৈরাচারীতায়। আর সেই স্বৈরাচারী লেডি মাফিয়া হাসিনা কে নিরাপদে বাংলাদেশ থেকে তাদের পালিত দাস দাসীদের সহায়তায় ফিল্ম স্টাইলে তুলে দিল্লিতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় রেখেছেন ভারত সরকার । হামিনা ভারতে পলায়নের পর থেকে বাংলাদেশ কে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে পতিত করার জন্য ভারত সরকারের আশ্রয় প্রশ্রয়ে হাসিনাকে দিয়ে একের পর এক সড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। যাহা ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে দেশের মানুষের মনে ভারত কঠিন ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ !!
বাংলাদেশের জনগন যে পালিয়ে যাওয়া লেডি মাফিয়া – কিলার হাসিনার সাথে কোন আপোষ করার কোন কিছুই নেই তা কি ভারত সরকার বোঝে ও না বোঝার ভান ধরছে ? দেশের আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল আদালতে হাসিনার জন্য যে রায় আছে তার ভিত্তিতে এবং ওমর হাদীর হত্যাকারীদের প্রত্যার্পনের আপোষ করার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। যা ভারত সরকার মানতে নারাজ। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে , এই সকল বিষয়ে ভারত যদি এগিয়ে না আসে তা হলে বাংলাদেশ ও দেশের বর্তমান সরকারের কিছুই করার নেই। দেশের আত্বমান মর্যাদার আলোকে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ও সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত দেশের জনগনের আশার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। আমি দেশের একজন আদর্শবান নাগরিক ও মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সু মহান বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের একজন নগন্য সমর্থক ও বি এন পির প্রতিষ্ঠা কালিন সময়ের কর্মি হিসাবে বি এন পির চেয়ারম্যান , বর্তমান সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের ব্যাপারে যে যুগোপযোগী কুটনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন তার জন্য অন্তরের অন্তস্তল থেকে সাধুবাদ জ্ঞাপন করছি। আমি উচ্ছ্বসিত – আনন্দিত।
বিগত পনর বছর ধরে ভারতের ঘৃনিত ও ন্যাক্কারজনক সমর্থনে ফ্যসিস্ট ও লেডি মাফিয়া হাসিনা দেশ কে যে ভাবে জাহান্নামের পথে ধাবিত করেছে তার জন্য কি ভারত বিন্দুমাত্র অনুশোচনা করেছে ?
ভারত যে বাংলাদেশের জনগন কে তোয়াক্কা না করে শুধুমাত্র একটি দল ও দলের প্রধান কে নিজের খাঁচার বন্দী পালিত পাখির মত পোষে স্বাধীন সার্বভৌম দেশ বাংলাদেশ কে অংগরাজ্য বানানোর স্বপ্নে বিভোর ছিল না ??
ভারত যে ডন আর দাদা গিরিতে দক্ষিণ এশিয়ার মোড়ল হিসাবে কতখানি খতরনাক ছিল তা রন্দ্রে রন্দ্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যথাযথ ভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তারই প্রেক্ষিতে ভারতের দাদাগিরি আর কর্তৃত্বে অবসানের লক্ষ্যে ভু রাজনীতিতে বাংলাদেশ – চীন – পাকিস্তান তিন দেশের সামরিক চুক্তির পদক্ষেপ। এবং সার্ক গঠনের মাধ্যমে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহন করেছিলেন। বড়ই পরিতাপের বিষয় যে , ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ” র ” এর নিলনকশায় দেশের কতিপয় দেশদ্রোহী সেনা কর্মকর্তা কর্তৃক গঠিত হত্যাকান্ডে তৎকালিন মহামান্য রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কে নির্মম ভাবে শাহাদাৎ বরন করতে হয়েছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁর জীবদ্দশায় একবার তাঁর কেবিনেটের কয়েকজন সিনিয়র ব্যাক্তি বর্গের সাথে কুটনৈতিক বিষযে আলাপ কালিন সময়ে বলেছিলেন ” ভারতের বিষয়ে আমি যদি তিন পাঁ এগিয়ে যাই , মুহুর্তের মাঝে আমাকে দুই পাঁ পিচিয়ে আসতে হয়”। তার পরও ভারত কে চোখে চোখ রেখে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কথা বলতে কিম্বা কোন সিদ্ধান্ত নিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেমন বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেননি তেমন দেশের সাবেক তিন তিনবারের নির্বাচিত সফল প্রধানমন্ত্রী , বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপার্সন , বিশ্ব নন্দিত আপোষহীন নেত্রী দেশ মাতা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও তা বিন্দুমাত্র ও করেননি।
দেশের সর্বস্তরের মানুষের কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে বলছি –
সবার আগে বাংলাদেশ।
সাবাস বাংলাদেশ সাবাস।
সাবাস তারেক রহমান সাবাস।

  লেখক  পরিচিতি -  নজরুল ইসলাম চৌধুরী। 

সাবেক সভাপতি, ফেনী জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

সাবেক প্রচার সম্পাদক , ফেনী জেলা বি এন পি।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫( লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com