বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে জনাব এম এ মালিক নামটি অত্যন্ত জনপ্রিয়, সুপরিচিত এবং আলোচিত ব্যক্তিত্ব । কারণ বিগত ফ্যাসিবাদ বিরোধী দীর্ঘ লড়াইয়ে তার দূরদর্শী নেতৃত্ব (Visionary Leadership) বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে এক আশা ও প্রেষনা তৈরি করত। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দলের বিভিন্ন প্লাটফর্মে দলীয় প্রধান ও জনাব তারেক রহমানের খুব কাছ থেকে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার, বিশেষ করে বেগম জিয়ার রাজনৈতিক আশীর্বাদ ও অনুপ্রেরণা তার মধ্যে বিদ্যমান ।তাছাড়াও তিনি বিভিন্ন জনপ্রিয় আন্দোলনে যেমন সিটিজেন মুভমেন্টের নেতৃত্ব দিয়েছেন, মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করেছেন। বিশেষ করে, ভারতীয় আধিপত্য বিরোধী লড়াইয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তির এক অন্যতম প্রবাদ পুরুষ হিসেবে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ভূমিকা রেখেছেন ।
একটি দেশ যখন কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় লাইনচ্যুত হয় তখন সেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা যেকোনো রাজনৈতিক দলের জন্য কঠিন । কারণ তখন গণতন্ত্রের বিকৃত রূপ ধারণ করে একটি স্বৈরাচারী রূপে সরকার জনগণের কাঁধে ভর করে এবং রাজনৈতিক দমনপীড়নের ও ভিন্নমত দমনের পথ বেছে নেয় । আর সেই অবস্হায় গণতান্ত্রিক অধিকার ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সমর্থন । জনাব এম এ মালিক সেই হাসিনা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের মাটিতে ২৯ আগস্ট ২০২৩ সালে, যে সুবিশাল র্যালির আয়োজনের নেতৃত্ব দিয়েছেন তা ইতিহাসে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে । এই আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের নতুন অধ্যায়ের পরিচিতি পেতে থাকে। সুতরাং দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার এই বলিষ্ঠ নেতৃত্ব জাতীয়তাবাদী নেতৃত্বের জন্য এক অনুপ্রেরণার শক্তি হিসেবে কাজ করেছে ।
উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য হিসেবে জনাব মালিক, বেগম জিয়া ও তারেক রহমানের নিকটতম হওয়ায় দলের বিভিন্ন রাজনৈতিক কৌশলগত বিষয় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিপ্লবী ভূমিকায় ছিলেন।যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শেখ হাসিনার রাষ্ট্রীয় সফরে আসলে তাকে স্বৈরাচারী হিসেবে আখ্যায়িত করার কাজটি জনাব মালেক বাস্তবে ফুটিয়ে তুলেছেন । বিশেষ করে জনাব তারেক রহমানের “টেইক ব্যাক বাংলাদেশ” আন্দোলন ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পটভূমি তৈরি করতে হাসিনা বিরোধী আন্দোলনের প্রানভোমড়া হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন ।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার লক্ষ্যে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিশন নিয়ে তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন । তাছাড়া মানবাধিকার রক্ষায় তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করেছেন ।
আমাদের ভৌগলিক বাস্তবতা হলো আমরা ভারতের পেটের ভেতর বাস করি! তাই আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ভারতীয় আধিপত্যবাদ এক চরম বাস্তবতা । আর সেই কারণেই শেখ হাসিনা ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে নিজের ক্ষমতায়ন করেছেন এবং বাংলাদেশকে করেছেন গণতন্ত্রহীন ও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে প্রথম মহিলা স্বৈরশাসক! এই যে দুষ্ট চক্রের রাজনৈতিক খেলা তার বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের বয়ান তুলে ধরেছেন। যা দেশে বিদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে ।তাছাড়াও এই আধিপত্যবাদ শক্তি ভবিষ্যতে জনাব এম এ মালিকের রাজনৈতিক উচ্চতা আরোহণে কতটা নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে সেটাও একটা রাজনৈতিক সমীকরণ। কারণ আধিপত্যবাদ কখনো জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে কাজ করে না!
রাজনীতি বিজ্ঞানের আলোকে বলা যায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক ক্ষমতায় স্বাদ গ্রহণ করা।তেমনিভাবে একজন দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতার ও লক্ষ্য থাকে তার নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের উন্নয়ন করে পুরো দেশকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করা । জনাব এম এ মালিক তার নিজ এলাকা নিয়ে দীর্ঘ দিনের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও স্বপ্ন বুনে গেছেন ।দলীয় কাঠামো শক্তিশালী করার জন্য দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছেন । স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার বাস্তব প্রতিফলনের অপেক্ষার পালা! আর সেই পরীক্ষায় “মালেক বসন্ত” তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বাস্তব সূচনার দ্বার উন্মোচন করার সুযোগ দিন।
মোটকথা হলো বিগত প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনাব এম এ মালিক জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এক আলোকবর্তিকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ।যে আন্দোলন দেশের মা, মাটি ও মানুষকে রক্ষা করার মহান দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে!
মোঃ শাহজাহান মিয়া
সাবেক জাতীয় বিতার্কিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ।
(বর্তমানে লন্ডনে বসবাসরত)
shahjahanau.bd@gmail.com
বার্তা প্রেরক
ইয়াসমিন আক্তার
বিশেষ প্রতিনিধি,
জনতার আওয়াজ,লন্ডন












