• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

টেবিল টেনিসের তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে কিংবদন্তি লিনুর আনন্দঘন সন্ধ্যা

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১:৫৫
আপডেট: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১:৫৫

965820 1

টেবিল টেনিসের তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে কিংবদন্তি লিনুর আনন্দঘন সন্ধ্যা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ছবি: সংগৃহীত
আজ সারা বিশ্ব টেবিল টেনিসের শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন করছে। এমন দিনে বাংলাদেশও বসে নেই। এ বছর স্বাধীনতা পদক জেতা কিংবদন্তি জোবেরা রহমান লিনুকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন (টিটি)। একইসঙ্গে সম্প্রতি সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ টেবিল টেনিসে আটটি পদক জেতা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সম্মাননা এবং আর্থিক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে লিনুকে অতিথি করা হয়। তরুণ খেলোয়াড়দের স্বপ্ন থাকে কিংবদন্তি এই ক্রীড়াবিদকে সামনে থেকে দেখার। দুই প্রজন্মের সেই মেলবন্ধনই আজ হয়ে গেল বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ডাচ বাংলা ব্যাংক অডিটোরিয়ামে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠানের শুরুতে ভারতের শিমলায় পদকজেতা খেলোয়াড়রা একে একে আর্থিক পুরস্কারের চেক গ্রহণ করেন লিনুর কাছ থেকে। পুরস্কার প্রদান শেষে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের কিছু গল্প তিনি তুলে ধরেন সবার সামনে। প্রথমেই বলেন, ‘আজ অনেকগুলো কারণে আমি খুশি। টেবিল টেনিসের ১০০ বছর পূর্তি, সে উপলক্ষে এমন আয়োজন এবং সেই দিনে এখানে থাকতে পেরে ভালো লাগছে। আমি ভাগ্যবান যে এমন দিনটি দেখেছি। কিছুদিন আগে আমি স্বাধীনতা পদক পেয়েছি। এটা আমার জন্য, আমার খেলার জন্য এবং টিটি ফেডারেশনের জন্য বড় পাওয়া।’

সাফল্যমণ্ডিত ক্যারিয়ারে ১৬ বার জাতীয় টেবিল টেনিসের চ্যাম্পিয়ন লিনু। দারুণ এই কীর্তির জন্য ওয়ার্ল্ড গিনেস রেকর্ড বুকে নাম উঠেছে তার। কিন্তু এই পথচলা যে মসৃণ ছিল না সেটিও জানান লিনু।

জোবেরা রহমান লিনু ১৯৬৫ সালের ৯ জুন চট্টগ্রামের কাপ্তাইতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা শেখ আবদুর রহমান ছিলেন সরকারি প্রকৌশলী। তার মায়ের নাম আঁখি রহমান। তবে বাবার হাত ধরেই টিটিতে আসা তার।

লিনু কীভাবে টিটি খেলায় আসেন সেই গল্প জানিয়ে বলেন, ‘ওরা জানুক কোনো কিছু পেতে শর্ট-কাট বলে কিছু নেই। ৯ বছর বয়সে খেলা শুরু করি। দেশ তখন মাত্র স্বাধীন হয়, সেই সময়ে খেলাটা শুরু করা সহজ কিছু ছিল না। বাবা অনেক বেশি সাপোর্টিভ ছিল। আমি ও আমার বড় বোনকে (মনিরা মোর্শদ হেলেন) খেলতে দিয়েছেন। তখন হাফ প্যান্ট পরে খেলাটা মেনে নেওয়ার মতো সমাজব্যবস্থা ছিল না। কিন্তু আমার বাবা আমাদের আধুনিক জীবনযাপন করার অনুমতি দেন। সেই সঙ্গে এটাও বলেন যে আমাদের কার্যক্রম, আমাদের চলা, কথা বলায় যেন কেউ কখনও কষ্ট না পায়। এতটুকু বেসিক শিখেই আমরা বড় হয়েছি।’

এরপর লিনু বলেন নিজের শৈশবের গল্প, ‘কাপ্তাইয়ে জন্ম আমার। বনে বনে ঘুরেছি, গাছ থেকে ফল পেরে খেয়েছি, দাড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট এমন আরও অনেক কিছু খেলে বড় হয়েছি। একদিন দেখি একটা বল নিয়ে বাসায় সবাই খেলছে, সেটা দেখেই আমি বাবাকে বলি এই খেলাটা আমি খেলতে চাই, তখন বাবা আমাকে অনুমতি দেন। সেটা ১৯৭৩ সালের কথা। পরের বছর ঢাকার প্রেস ক্লাবে হওয়া একটি ওপেন টেবিল টেনিসে আমরা দুই বোন আসি। তখন সেখানে সবাই অনেক বড় ছিলেন, আমি তখনও বাচ্চা, কিন্তু খেলাটা যে একটা যুদ্ধ তা আমি বুঝিনি। কিন্তু ওই টুর্নামেন্টে আমরা দুই বোন ফাইনালে উঠি (বড় বোন সিনিয়রে, লিনু জুনিয়রে)। এরপর ১৯৭৭ সালে আমি জাতীয় টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হই।’ অনুষ্ঠানে তিনি নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনের পরামর্শ দেন।

লিনু যখন স্টেজে দাঁড়িয়ে নিজের জীবনের কথা সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করছিলেন, তখন করতালি দিয়ে একাধিকবার তাকে অভিবাদন জানান উপস্থিত প্রত্যেকে।

গত বছর থাইল্যান্ড থেকে কোচ নিয়ে আসে ফেডারেশন। কদিন আগে জাপানের আরেক কোচকে নিয়োগ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদেশি এই কোচ। সেটি দেখেই কিনা লিনু নিজের ক্যারিয়ারের একটি টুর্নামেন্টের কথা সবার সামনে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘১৯৮০ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ বসে ভারতের কলকাতায়। সেমিফাইনালে জাপানি একজন আমার বিপক্ষে পিছিয়ে ছিল দুই সেটে, কিন্তু এরপর ওর কোচ এসে কী যেন ওকে বলল, এরপর সে আমার সঙ্গে এমনভাবে খেলল যে আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না কী করব, তখন আমার কোনো কোচও ছিল না। এখন তো কোচ আছে, বলা হচ্ছে খেলাটা এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু আমি বলব ততটা আগাইনি। কারণ এশিয়ান মঞ্চে পদক আসছে না।’

কোচকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘জাপানিজ কোচকে কিছু বলতে চাই। আপনাকে স্বাগতম। আমি ১৬ বারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন। আপনার কাছে আমার প্রত্যাশা- দারুণ কিছু অর্জন আপনার হাত ধরে আসবে।’

শেষে একটি দাবির কথা তুলে নিজের বক্তব্য শেষ করেন লিনু। শুরু হতে যাচ্ছে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস। এই আয়োজনে টেবিল টেনিসকে যুক্ত করার দাবি করেন তিনি। প্রধান অতিথি যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমের কাছে একই দাবির কথা জানান ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন এএম মাকসুদ আহমেদ সনেট। একইসঙ্গে টিটির বয়সভিত্তিক খেলোয়াড়দের সরকারের ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়া ভাতায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও করেন।

নিজের বক্তব্যে সনেট বলেন, ‘স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়ায় কিংবদন্তি লিনুকে স্বাগত জানাতে এবং সংবর্ধনা দিতে চেয়েছি। আজকে সেটি দিতে পেরে সত্যি খুব খুশি। অনূর্ধ্ব-১৯ বালক ডাবলসে স্বর্ণ জেতায় তাদেরও অভিনন্দন। আশা করি তারা এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবে।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com