প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাকে বেশি কথা বললে, সব বন্ধ করে বসে থাকবো। ভোটে আসলে আবার করবো। দেখি কে দায়িত্ব নিতে রাজি হয়! সব রেডি করে দিয়েছি, এখন বসে বসে বড় বড় কথা বলে।
শুক্রবার বিকেল ৪টায় গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। জাতিসংঘের ৭৮তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান ও যুক্তরাজ্য সফরের নানা দিক তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বাবা-মা সব হারিয়েছি। আমার হারাবার কিছু নেই। ১৫-১৬ বছর বয়স থেকে মিছিল করি। কত বছর হয়েছে রাজনীতির? একটা স্বপ্ন ছিল- জাতির পিতার, সেটা করেছি, এখন তো কেউ না খেয়ে থাকে না।
রিজার্ভ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেসব আঁতেল, জ্ঞানীগুণী কথা বলেন, তারা কি জানেন, আমরা যখন ক্ষমতায় এসেছি, তখন রিজার্ভ কত ছিল? বাংলাদেশ কোথায় ছিল, কোথায় এনে দাঁড় করিয়েছি? যতটুকু রিজার্ভ প্রয়োজন, আমাদের আছে। আমাদের ভালো থাকা জরুরি, নাকি রিজার্ভটা দরকার বেশি? যদি বলে, তাহলে রিজার্ভ আগের জায়গায় এনে দেই? বিদ্যুতকেন্দ্র-টেন্দ্র বন্ধ করে দেই।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীকে বলেছি, প্রতিদিন একটু করে লোডশেডিং দিতে। যাতে বিদ্যুৎ থাকার গুরুত্বটা বোঝে। আর বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে সবাই।
সুবিধাটা নিচ্ছে অর্থশালীরা। এজন্য নির্দেশনা দিয়েছি, যারা বেশি ব্যবহার করবে, তারা বেশি টাকা দেবে। সেভাবে মূল্য নির্ধারণ করতে।
এ সময় বিএনপিকে বিরোধী দল বলা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি বলেন, যারা জাতীয় সংসদে নেই, একটি আসনও যাদের নেই তারা কীভাবে বিরোধী দল হয়? বিরোধী দল কে, যাদের পার্লামেন্টে একটা সিটও নেই? নির্বাচন করে যারা পার্লামেন্টে আসতে পারে না তারা আবার কীসের বিরোধী দল!
তিনি বলেন, রাস্তায় কেউ ঘেউ ঘেউ করে বেড়ালেই বিদেশিরা তাকে বিরোধী দল হিসেবে ধরে না।
যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল তখন কী ছিল! তারা যা করেছে, আমরা যদি তার একটা কণাও করতাম। তাহলে তো তাদের অস্তিত্বই থাকতো না।
জি-২০ সম্মেলনে থেকে প্রধানমন্ত্রী খালি হাতে ফিরেছেন- বিএনপির এমন অভিযোগের বিষয়ে সরকারপ্রধান বলেন, বিএনপির এই অভিযোগের কোনো উত্তর দিতে চাই না। আমি শুধু দেশবাসীকে বলতে চাই- বিএনপির নেতারা মাইক একখান হাতে কীভাবে মিথ্যা কথা বলে, সেটা সবাই জেনে নেন। মিথ্যা বলাটা তাদের অভ্যাস আর সব কিছুকে খাটো করে দেখার চেষ্টা। এই বিষয়ে যেন দেশবাসী সচেতন থাকে। তারা যা বলে তার সবই মিথ্যা। মিথ্যা কথায় কেউ কান দেবেন না। মিথ্যা কথায় কেউ বিশ্বাস করবেন না- দেশবাসীর কাছে এটা আমাদের আহবান।
তিনি বলেন, বিএনপির জন্ম হয়েছে অবৈধভাবে আর টিকে আছে মিথ্যার ওপরে। তাদের শেকড় নেই। তারা মিথ্যার ওপর নির্ভর করে। এটাই করবে। এটা তাদের অভ্যাস। সুশীল সমাজের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, কিছু সনামধন্য অর্থনীতিবিদ থেকে শুরু করে অনেকে বললেন, মেগা প্রজেক্ট আমরা করে ফেলেছি, কিন্তু দরিদ্রের জন্য আমরা নাকি কিছু করিনি। এরকম বক্তব্য শুনলে মনে হয় তারা বাংলাদেশটাকে দেখেনি। তারা ঘরের ভেতরেই আছেন। আর শুধু টেলিভিশনটাই দেখেন। দিন-দুনিয়া তাকিয়ে দেখেন না।












