খালেদা জিয়ার চিকিৎসা এখন বিদেশে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন: ফখরুল

Pub: Friday, July 10, 2020 8:51 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা খুব বেশি প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, ‘আপনারা সবাই জানেন, আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে তাকে আটক করে রাখা হয়েছে। মাত্র ৬ মাস স্থগিত করে তাকে বাসায় রাখা হয়েছে। সেখানে তাকে (খালেদা জিয়া) বলা হয়েছে যে, তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারবে না। অথচ তার চিকিতসাটাই এখন বিদেশে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।’

শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে উত্তরার নিজের বাসা থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সিলেটে ‘এমএ হক স্বাস্থ্যসেবা’ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

সরকারের দুর্নীতির কারণেই করোনা ভাইরাস সারাদেশে সংক্রমিত বলে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারের চরম অবহেলা, অবজ্ঞা, অজ্ঞানতা এবং তাদের যে একটাই লক্ষ্য চুরি সেই কারণেই আজকে করোনা পরিস্থিতি এই অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।’

হ্জ্ব ক্যাম্পে আইসোলেশনের থাকা প্রবাসীদের প্রসঙ্গ টেনে  মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে বিদেশ থেকে যারা ফেরত আসছেন তাদের স্ক্যানিং যে টেস্ট সেই টেস্টে সবাই তারা করোনামুক্ত। অথচ বিবিসি বাংলা বিভাগের একজন সাংবাদিক তিনি সেই হজ্ব ক্যাম্পে গিযে যাত্রীদের মধ্য একজনকে জিজ্ঞাসা করেছেন। তিনি (যাত্রী) জবাবে বলেছেন যে, আমাদের কোনো স্ক্যানিংই হয়নি।’

‘দেখেন, কতটা দায়িত্বহীন হতে পারে এই স্বাস্থ্য অধিদফতরে কর্মকর্তা-কর্মচারিরা, কতটা উদাসীন হতে পারে সরকার। এতো ঘটনার পরেও এই হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করার পরে, লক্ষ লক্ষ লোক আক্রান্ত হওয়ার পরে যখন একেবারে জীবন-জীবিকা সব কিছু ওলোট-পালট হয়ে যাচ্ছে সেই সময়েও তারা তাদের ন্যুনতম যে দায়িত্ব সেটা পালন করছে না।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের দিকে তাঁকিয়ে থাকার কোনো দরকার নেই। আমাদের নিজেদেরকেই চেষ্টা করতে হবে বাঁচার জন্য, আমাদের নিজেদের চেষ্টা করতে হবে যেন এটা(করোনাভা্ইরাস) না ছড়ায়, এই সংক্রামণ যেন না বাড়ে। এই সরকারের যেহেতু জনগণের সাথে সম্পর্ক নেই, জনগণের জীবন-জীবিকার প্রতি তাদের কোন দায়িত্ববোধ নেই, সেই কারণে তাদের দিকে তাঁকিয়ে থেকে বাংলাদেশের অগনিত মানুষ তারা এই ভয়াবহ ভাইরাস থেকে রক্ষা পাবে না।’

রিজেন্ট হাসপাতা্লে করোনা পরীক্ষার ভুঁয়া সার্টিফিকেট সরবারহের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘রিজেন্ট হাসপাতালের প্রধান সাহেদ (মো. সাহেদ) সাহেব যে তারা কোনো পরীক্ষা  না করেই করোনা টেস্টের রেজাল্ট দিচ্ছে। এটা তো একদিকে জীবনের প্রশ্ন মারাত্মকভাবে স্বাস্থ্যের সমস্যা। অন্যদিকে যে পরিণতি ….। আজকে সমস্ত বিশ্বে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে, এটা অলরেডি গ্লোভাল মিডিয়াতে চলে গেছে- এখন বাংলাদেশ থেকে কোনও মানুষের যাওয়া বিদেশে অথবা বাংলাদেশের ট্রেড যেটা তার জন্য যে ব্যবস্থা। এমনকি বাংলাদেশের যারা যেতে পারছেন তারাও আর যেতে পারবেন না। সব এয়ারলাইন্সগুলো বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। এটা বড় রকমের একটা এডভান্স ইম্পেক্ট ইকোনমীতেও পড়বে।’

ফখরুল বলেন, ‘এর দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে এই সরকারের। কারণ আমরা টেলিভিশনের ছবিতে যা দেখলাম- এই সাহেদ সাহেব তিনি সরকারের সব মন্ত্রী, দলের শীর্ষনেতাদের সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্ক। এটা একটা না, এমন বহু ঘটনা আছে। স্বাস্থ্য অধিদফরের দেখলাম, একজন মিঠু সাহেব যাকে বলা হচ্ছে তিনি নাকী গোটা স্বাস্থ্য্ অধিদফরকে গিলে ফেলেছেন….।’

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এর থেকে মুক্তির একটি মাত্রই পথ, সেই পথ হচ্ছে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, একটি মাত্র পথ যারা আজকে জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে তাদেরকে সরিয়ে দিয়ে সত্যিকার অর্থে জনগনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।’

আজকে এজন্য আমাদের সকলকে একদিকে যেমন কোবিড মোকাবিলা করতে হবে, আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগনের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং আমাদের অধিকার, জনগণের অধিকারকে ফিরিয়ে আনতে হবে। করোনা পরিস্থিতিতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ ও পরিচালনায় সারাদেশের অসহায় মানুষের পাশে কাজ করছে বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।

দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে সদ্য প্রয়াত এমএ হকের স্মরণে ‘এমএ হক স্বাস্থ্য সেবা’র এই কর্মসূচি হয়। গত ৩ জুলাই চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জেলার সাবেক সভাপতি এমএ হক মারা যান।

সিলেট জেলা সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ডা. শামীমুর রহমানের সভাপতিত্বে ও মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কয়েস লোদীর পরিচালনায় ভার্চুয়াল এই আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, কেন্দ্রীয় নেতা সাখাওয়াত হাসান জীবন, কলিম উদ্দিন মিলন, আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মিজানুর রহমান চৌধুরী, মহানগর সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলা সভাপতি আলী আহমদ, প্রয়াত এমএ হকের ছেলে ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম হকসহ সিলেটের মহানগর নেতারা বক্তব্য রাখেন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ