জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের উপনেতা পদটি সম্মানজনক ও মন্ত্রিপদমর্যাদার। সাধারণত সরকারি দলের জ্যেষ্ঠ কোনো নেতাকে এই পদে অলংকৃত করা হয়। যেমন— আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা আব্দুস সামাদ আজাদ, সাজেদা চৌধুরী ও মতিয়া চৌধুরীকে উপনেতা করেছিলেন শেখ হাসিনা। বিএনপি সরকারের সময়ও দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের এই পদে আসীন করা হয়।
১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় সংসদ উপনেতা নির্বাচিত হন অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। ২০০১ সালে বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলে তখন প্রায় ২ মাস তিনি সংসদ উপনেতার দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে পদটি শূন্য হয়।
পরে এ পদ নিয়ে দলটির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। তবে কেউই আর সংসদ উপনেতা হতে পারেননি। ২০০১ সালের পর বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া ও স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য এম সাইফুর রহমানের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকায় কেউ এ পদে বসতে পারেননি। তবে তখনকার প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পাশের সিটে বসতেন সাইফুর রহমানই।
২০০৮ সালে বিএনপি বিরোধী দলে গেলে তৎকালীন স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে কাউকেই উপনেতা করা হয়নি। ওই নির্বাচনে শুধুমাত্র সালাউদ্দিন চৌধুরী জিতেছিলেন। মওদুদ আহমেদ ও জমিরউদ্দিন সরকার খালেদা জিয়ার ছেড়ে দেওয়া আসন বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ এ উপনির্বাচন করে জয়ী হয়ে আসেন। পরে এই তিনজনের মধ্যে বিরোধী দলীয় উপনেতা হওয়ার আকাঙক্ষা দেখা যায়।
দীর্ঘ বিরতির পর এবার আবার ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। ইতোমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও হুইপ নির্বাচন করেছে বিএনপি। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও উপনেতার পদ চূড়ান্ত করা হবে। অভিজ্ঞতা, সিনিয়র, রাজনৈতিক কৌশল-সব মিলিয়ে রাষ্ট্র ও সংসদের এ তিন শীর্ষ পদে শেষ পর্যন্ত কারা আসছেন তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।












