জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণ যদি তাদের পবিত্র ও মূল্যবান ভোটের মাধ্যমে এই জোট ও ঐক্যের প্রতি আস্থা রাখে, তাহলে জামায়াতে ইসলামী কথা রাখবে। তিনি বলেন, প্রথমেই জাতিকে আর বিভক্ত হতে দেওয়া হবে না। পুরোনো কাসুন্দি নিয়ে কামড়াকামড়ির রাজনীতি বন্ধ করা হবে। পেছনের দিকে ফিরে না তাকিয়ে আমরা সামনে এগোতে চাই। আমাদের লক্ষ্য যুবসমাজের স্বপ্নের একটি অগ্রগামী বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
জনসভায় এ সময় লক্ষ্মীপুর-১ আসনে শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী মাহবুব আলম, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী রুহুল আমিন ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে প্রার্থী রেজাউল করিম এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে প্রার্থী হাফিজ উল্যাহর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যুবকদের উদ্দেশে আমাদের স্পষ্ট বার্তা— আমরা তোমাদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেবো না। তোমরা কখনো বেকার ভাতার দাবি করোনি। বেকার ভাতা দিয়ে যুবসমাজকে অপমান করতে আমরা চাই না। বরং তোমাদের হাতগুলোকে দক্ষ কারিগরের হাতে পরিণত করা হবে। প্রত্যেক যুবকের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেওয়া হবে। সেদিন প্রতিটি যুবক গর্বের সঙ্গে বলবে, আমিই বাংলাদেশ। আমাকে দেখেই বোঝা যাবে বাংলাদেশ কী।
তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে নেতৃত্ব থাকবে যুবকদের হাতে। আমাদের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীদের মধ্যে ৬২ শতাংশই যুবক। এর মাধ্যমে আমরা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছি— আগামীর বাংলাদেশ হবে যুবকদের বাংলাদেশ।
নারী ও মাতৃসম্মান প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, একদিকে বলা হচ্ছে মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, অথচ অন্যদিকে সেই মায়ের গায়েই হাত তোলা হচ্ছে। এতে বোঝা যায়, আপনারা আসলে মায়েদের কীভাবে দেখেন। তিনি বলেন, সকালের সূর্য দেখলেই যেমন বোঝা যায় দিন কেমন যাবে, তেমনি ভোটের আগের পরিবেশ দেখলেই বোঝা যায় কেউ নির্বাচিত হলে দেশের ভবিষ্যৎ কেমন হবে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একদিন আমাদের মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়ার ঘটনা জাতি ক্ষমা করেনি। সেদিন পুরো দেশ গর্জে উঠেছিল। আজ আবার মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া হচ্ছে। যারা এসব করছে, তারা নিজেদের কবর নিজেরাই রচনা করছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশবাসী গত ৫৪ বছর ধরে পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত দেখেছে। সেই বন্দোবস্ত থেকেই ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছে। মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। দেশকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করা হয়েছে। চাঁদাবাজির মাধ্যমে জনগণকে অতিষ্ঠ করা হয়েছে। জনগণের টাকায় কেনা অস্ত্র দিয়েই জনগণের বুকে গুলি চালানো হয়েছে। সেই রাজনীতি আমাদের মা-বোনের ইজ্জত হরণ করেছে। আমরা সেই পুরোনো রাজনীতির পুনরাবৃত্তি আর চাই না।
জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান এটিএম মাসুম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারি আতিকুর রহমান, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, শিবিরের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ সাহেদী, জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম ও চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।












