• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

বিএনপির মন্ত্রিসভা হবে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে

প্রকাশ: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২:৩৪
আপডেট: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২:৩৪

96000058 1

বিএনপির মন্ত্রিসভা হবে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলীয়প্রধান হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তারেক রহমান। তার নেতৃত্বে থাকছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী। এ ছাড়া আরও দু-একটি মন্ত্রণালয় তার নেতৃত্বে থাকতে পারে। নতুন মন্ত্রিপরিষদের কাকে কোন মন্ত্রণালয় দেওয়া যেতে পারে, তা নিয়েও দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

বিএনপির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, অভিজ্ঞ প্রবীণ নেতাদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী শক্তির মিশেলে একটি কর্মমুখী শক্তিশালী মন্ত্রিসভা গঠন করতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় আছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সদ্য সমাপ্ত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে গঠন হতে যাওয়া নতুন মন্ত্রিসভায় নেতাদের ভাবমূর্তি ও মেধাকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে ২০০১ সালের সফল মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের বেশ কিছু রাজনীতিক যুক্ত হচ্ছেন মন্ত্রিপরিষদে। এ ছাড়া বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের দু-তিনজনকে যুক্ত করার ব্যাপারে ইতিবাচক বিএনপির হাইকমান্ড। এ ছাড়া টেকনোক্র্যাট হিসেবে কয়েকজনকে যুক্ত করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি মন্ত্রিপরিষদ গঠন হতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস খবরের কাগজকে বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি এখনো কিছু জানি না। তবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান যেটি সঠিক ও ভালো মনে করেন, সেটি করবেন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য খবরের কাগজকে বলেন, মন্ত্রিপরিষদ গঠন নিয়ে আলোচনা চলছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই বিষয়টি দেখভাল করছেন। দু-এক দিনের মধ্যে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। কারা কারা থাকছেন তা আগাম বলা কঠিন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ গতকাল গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘বিএনপির কেমন মন্ত্রিসভা হতে যাচ্ছে, তা দেখার জন্য দেশবাসীকে আর অল্প কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, প্রশাসনে গতি আনা, নীতিনির্ধারণে নতুন ভাবনা এবং নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করতেই তরুণদের অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত তালিকা দু-এক দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হতে পারে। আগামী ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারি শপথ নিতে পারে নতুন মন্ত্রিপরিষদ।

বিএনপির সূত্র জানায়, বিএনপির বিগত সময়ে যেসব মন্ত্রণালয় বিতর্কের ঊর্ধ্বে ছিল, যাদের বিষয়ে বিতর্ক নেই, ক্লিন ইমেজ রয়েছে, তাদের নতুন সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বে রাখা হবে। এদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে স্পিকার, মির্জা আব্বাসকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, সালাহউদ্দিন আহমদকে স্থানীয় সরকার ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদে থাকতে পারেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আলোচনায় আছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নাম। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্য থেকে দু-একজনকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হতে পারে।

মন্ত্রিপরিষদে থাকছেন নবীনরা
নতুন মন্ত্রিপরিষদে যুক্ত হচ্ছে একাধিক নতুন মুখ। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে রুহুল কবির রিজভী (টেকনোক্র্যাট), স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (টেকনোক্র্যাট) হিসেবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থ মন্ত্রণালয়ে ড. রেজা কিবরিয়া বিবেচনায় আছেন। এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মন্ত্রিপরিষদে থাকতে পারেন। টেকনোক্র্যাট কোটায় আলোচনায় আছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাঈল জবিউল্লাহ। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। বেগম সেলিমা রহমান মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন।

মন্ত্রিপরিষদে থাকতে পারে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকরা
কয়েক বছর আগেই আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলো নিয়ে জাতীয় সরকারের ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। যুগপৎ আন্দোলনের একাধিক নেতা থাকছেন মন্ত্রিপরিষদে। এনডিএম ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ববি হাজ্জাজ, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরু থাকতে পারেন মন্ত্রিপরিষদে। এ ছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় ১২-দলীয় জোটপ্রধান ও জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ মো. রাশেদ খান আলোচনায় রয়েছেন। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা একসঙ্গে ছিলেন, সরকার গঠন প্রক্রিয়াতেও তাদের অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা হবে। অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল কাঠামোর মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনর্গঠন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণই হবে এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

সংবিধান অনুযায়ী নতুন সরকার গঠনের শুরুটা হবে নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে। সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। প্রধানমন্ত্রী শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এরপর নতুন প্রধানমন্ত্রী তার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠন শুরু করবেন। নতুন মন্ত্রিসভা কত সদস্যবিশিষ্ট হবে, সেটি নির্ধারণ করবে নির্বাচনে বিজয়ী দল।

উল্লেখ্য, ২৯৯টি আসনে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২১২টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি জোট। তবে জয় পেলেও মামলাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে দুটি আসনে (চট্টগ্রাম-২ ও ৪) ফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com