কর্মকে মৌলিক অধিকার হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, বেকারত্ব দূরীকরণ, চাহিদাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়ন, চাকরির বয়সসীমা দূরীকরণসহ ৭ দাবিতে সমাবেশ করেছে বাংলাদেশে যুব অধিকার পরিষদ। আজ শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশে ‘দয়া নয় কর্ম চাই, বাঁচার মতো বাঁচতে চাই’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে এই ‘যুব সমাবেশ’ হয়।
সমাবেশে গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাশেদ খান বলেন, ‘অনেক যুবক চাকরি না পেয়ে হতাশায় আত্মহত্যা পর্যন্ত করছে। এর দায় সরকারের, এ সরকার ব্যর্থ। প্রতি বছর দেশ থেকে ৭২ হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। গত ১২ বছরে ১৪ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। অর্থ পাচার করে দেশকে দেউলিয়া করা হচ্ছে। অথচ এই টাকা দেশে থাকলে শিল্প কল-কারখানা গড়ে তুলে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা যেত। কিন্তু সরকারের সেদিকে মনোযোগ নেই। আর পাচারকারীদের ধরবে কারা? সরকারের লোকজনই তো পাচারের সঙ্গে জড়িত।’
যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মনজুর মোরশেদ মামুন বলেন, ‘বর্তমান সরকার গত ১৪ বছর ক্ষমতায় থেকে যুব সমাজকে জীবিকার নিরাপত্তার দেওয়ার বদলে, বেকারত্ব উপহার দিয়েছে। ২০২২ সালের আইএলও তথ্য মতে, দেশে তরুণ বেকারের সংখ্যা ৭ কোটি ৩৫ লাখ। ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে, আওয়ামী লীগ ঘরে ঘরে বেকারত্বের অভিশাপ পৌঁছে দিয়েছে।
‘যুবকদের জীবিকা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করতে পারলে ডিজিটাল ও স্মার্ট বাংলাদেশের নামে ধোকাবাজি স্বপ্ন দেখিয়ে লাভ হবে না। গণঅধিকার পরিষদ নিয়ে যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার জন্য যুব অধিকার পরিষদই যথেষ্ট।’
যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাদিম হাসান বলেন, ‘দেশের অধিকাংশ তরুণ সমাজকে কর্মহীন রেখে কোনো দেশ ডিজিটাল বা স্মার্ট হতে পারে না। আজকে যুবকদের কর্মসংস্থানের বদলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে দেশের অর্থনীতিকে আরো ভঙ্গুর করে দিয়েছে। ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের এক সাবেক সভাপতিই ২ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে, সম্প্রতি দেশের ৮-৯টি ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে! আওয়ামী লীগে স্মার্ট বাংলাদেশ মানেই মানি লন্ডারিংয়ের বাংলাদেশে, ভোট চুরির বাংলাদেশে। দেশে বিদেশ ভিপি নুরের জনপ্রিয়তায় ভয় পেয়ে আওয়ামী লীগ মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। কোনো চাপ প্রয়োগ করে ভিপি নুরকে ভয় দেখানো যাবে না। ভিপি নুরের নেতৃত্বে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চলবে।’
যুব অধিকার পরিষদের ৭ দফা দাবি হলো
কর্মসংস্থানকে মৌলিক অধিকার হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। প্রতিবছর অন্তত ২৫ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। চাহিদাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়ন করতে হবে। আবেদন ফি, ঘুস, প্রভাবশালীর রেফারেন্স, জামানত, বয়সসীমামুক্ত চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারি বেসরকারি চাকরির সকল বৈষম্য দূর করতে হবে। ইউনিয়নভিত্তিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে স্থানীয় উৎপাদন উপযোগী জনশক্তি তৈরি করতে হবে। শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ সার্টিফিকেট জামানতে সুদবিহীন ঋণ প্রদান করতে হবে। কর্ম ও ঋণ আওতার বাইরের সবার জন্য বেকার ভাতা দিতে হবে। শিক্ষিত প্রতিবন্ধীদের যোগ্যতা অনুসারে শতভাগ চাকরি নিশ্চিত করতে হবে, অশিক্ষিত অসহায় প্রতিবন্ধীদের স্বাভাবিক জীবন ধারণের জন্য উপযুক্ত বরাদ্দ দিতে হবে। এবং জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষিতদের রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে বিদেশে পাঠানো, বিদেশে পাঠানোর সব স্তরে গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক (ভিআইপি) হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।
যুব অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্তাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান, আবু হানিফ, যুগ্ম সদস্য সচিব মো. আতাউল্লাহ, তারেক রহমান, আইনজীবী অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ব্যারিস্টার জিসান মোহসিন, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মোল্লা বিন ইয়ামিন, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমানসহ আরও অনেক নেতৃবৃন্দ। যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি ২০ জানুয়ারি দেশের প্রতিটি জেলা মহানগরে ৭দফা দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।












