বাবরের বিকল্প হতে পারেন স্ত্রী শ্রাবণী

Pub: বুধবার, ডিসেম্বর ৬, ২০১৭ ১:০৮ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, ডিসেম্বর ৬, ২০১৭ ১:০৮ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল অধু্যষিত মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ১৬৪, নেত্রকোনা-৪ আসন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখানে বড় দুই দলের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীর তৎপরতা শুরম্ন হয়েছে। তিন উপজেলা সদর থেকে শুরম্ন করে ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরম্নত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে শোভা পাচ্ছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ছবি সম্বলিত পোস্টার, বিলবোর্ড এবং ব্যানার। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের জানান দিতে রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি এলাকায় বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ঘন ঘন অংশগ্রহণ করছেন।
এ আসনে ক্ষমতাসীন আ’লীগের চেয়ে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান বেশ শক্তিশালী। বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এ আসনের মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরী উপজেলায় আ’লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে খালিয়াজুরী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সামছুজ্জামান সোয়েব সিদ্দিকী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এবং মদন ও মোহনগঞ্জে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।

এ আসনে আ’লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী মরহুম আবদুল মমিন খানের সহধর্মীণি বর্তমান এমপি রেবেকা মমিন, কেন্দ্রীয় আ’লীগ নেতা শফি আহমেদ, আ’লীগ নেতা ক্যাপ্টেন অব. এম. মনজুরম্নল হক, খালিয়াজুরী উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সামছুজ্জামান সোয়েব সিদ্দিকী, আ’লীগ নেতা মমতাজ হোসেন চৌধুরী।
অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কারান্ত্মরীন লুৎফুজ্জামান বাবর, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-কৃষিবিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ চৌধুরী আবদুলস্নাহ আল-ফারম্নক, বিএনপি নেতা কর্নেল অব. আতাউর রহমান ও জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা চৌধুরী।
এ আসনে আগামী নির্বাচনে মামলাসংক্রান্ত্ম কারণে লুৎফুজ্জামান বাবর অংশগ্রহণে ব্যর্থ হলে তার স্ত্রী তাহমিনাজ্জামান শ্রাবণী বিকল্প প্রার্থী হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে এখনো নির্বাচনী এলাকার তিন উপজেলায়ই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বাবর মুক্তি পরিষদের ব্যানারে লুৎফুজ্জামান বাবরের নিঃশর্ত মুক্তির দাবী জানিয়ে ঘন ঘন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মোহনগঞ্জ-মদন-খালিয়াজুরী উপজেলায় আ’লীগের দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ে রয়েছে বিভক্তি। এলাকায় প্রভাব বিস্ত্মারকে কেন্দ্র করে বিবদমান গ্রম্নপগুলোর মধ্যে একাধিকবার ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান এমপি রেবেকা মমিনের সঙ্গে শফি আহমেদ ও সামছুজ্জামান সোয়েব সিদ্দিকীর দীর্ঘদিন ধরে সাপে-নেউলে সম্পর্ক বিরাজ করছে। বর্তমান এমপির সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্বের কারণে বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এমপির নিজ উপজেলা মোহনগঞ্জ এবং মদনে বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। এলাকায় এমপির টানা অনুপস্থিতি, আশানুরূপ উন্নয়ন না হওয়া, নির্বাচনী এলাকায় হাইব্রিড মার্কা গুটি কয়েক সুবিধাভোগী লোকের প্রভাব এবং দুর্নীতির কারণে দলের ইমেজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত্ম হয়েছে বলে তার বিরোধীদের দাবি। এমপির এপিএস তোফায়েল দলের অভ্যন্ত্মরে হঠাৎ প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত হওয়ায় তাকে নিয়েও ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা শোনা যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে সামছুজ্জামান তালুকদার সোয়েব সিদ্দিকী বলেন, বিগত ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই দলের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে। রেবেকা মমিন এমপির আশীর্বাদপুষ্ট কয়েকজন হাইব্রিড নেতার এলাকায় লাগামহীন দুর্নীতি, লুটপাট, জলমহালে আধিপত্য বিস্ত্মারের ঘটনায় বিগত উপজেলা নির্বাচনে মোহনগঞ্জ ও মদন উপজেলা তাদের হাতছাড়া হয়েছে। তিনি দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের অকুণ্ঠ সমর্থনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি বিজয়ী হয়েছেন। তার পিতা মরহুম সিদ্দিকুর রহমান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের আস্থাভাজন একজন কর্মী এবং উপজেলা আ’লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। খালিয়াজুরীতে আ’লীগের দুঃসময়ের পরীক্ষিত কোনো নেতার দলের মধ্যে ঠাঁই নেই। বিগত কয়েক বছর ধরে এপিএস তোফায়েল এলাকায় জলমহাল ব্যবসার সুবাদে বিএনপির নেতাদের পুনর্বাসন করছেন। তোফায়েলের ব্যবসায়িক পার্টনার আতাউর রহমান ও লোকমান বিগত ইউপি নির্বাচনে নৌকার টিকেট পেয়ে জীবনের প্রথম নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়েছেন। তাদের পরিবারের সবাই এখনো বিএনপির রাজনীতি করছেন। বিএনপি নেতা আতাউর বিগত সময়ে এলাকায় লুৎফুজ্জামান বাবরকে স্বর্ণের ধানের শীষ উপহার দিয়েছিলেন। আগামী নির্বাচনে তারা আ’লীগের স্বার্থে সবাই দলীয় প্রার্থীর পরিবর্তন চান। এদিকে আ’লীগের তিন প্রার্থীর প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব থাকায় মদন উপজেলার প্রার্থী হিসেবে আ’লীগ নেতা ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনজুরম্নল হক আগামী নির্বাচনে দলীয় কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে চমক সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। নির্বাচনী এলাকায় আ’লীগ নেতা এম মনজুরম্নল হকের ক্লিন ইমেজ রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর কল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ইতিমধ্যে মদন উপজেলার বালালী গ্রামে ঢাকাস্থ লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালের মাধ্যমে একটি চক্ষু শিবির স্থাপন করে প্রায় ৩ হাজার রোগীকে চেকআপ, ওষুধ প্রদান এবং ছানিপড়া ১৭৫ জন রোগীকে ঢাকায় লায়ন্স হাসপাতালে সফলভাবে চক্ষু অপারেশন, ২০০৪ সালে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত্মদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, ২০০৫ সালে মদন উপজেলা সদরে উপস্থিত নূরিয়া হুসাইনীয়া দারম্নল উলুম মাদ্রাসায় পিতা-মাতার নামে ছাত্রাবাস নির্মাণ, ২০০৭ পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও যৌথ বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে দলীয় নেতা-কর্মীদের সহায়তা ও দলকে বিভিন্ন তথ্য প্রদানের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান। ধানম-ীতে দলীয় সভা নেত্রীর অফিসে প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত সেলের মাধ্যমে দলের নেতা-কর্মীদের দুর্দিনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা, ৩০টি দরিদ্র ও অসহায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সনদপত্র সংগ্রহে সহায়তা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান, ২০১১ সালে ২২টি দরিদ্র অসহায় মেয়েকে যৌতুকবিহীন বিবাহের ব্যবস্থা, একই বছরে এলাকার ঠোঁটকাটা, আগুনে পোড়া ১৭ জন রোগীকে ঢাকায় নিয়ে পস্নাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা, এলাকায় প্রায় ৮ শতাধিক বেকার যুবককে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থায় ও ১৫০ জন যুবককে সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি প্রদানে সহায়তা, বিভিন্ন উৎসবে এলাকায় দরিদ্র ও অসহায় হিন্দু মুসলিম পরিবারকে শাড়ি, লুঙ্গি ও নগদ অর্থ বিতরণ এবং এলাকার দরিদ্র অসহায় ছাত্র-ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে শিক্ষার প্রসার, এলাকায় দলীয় বিভিন্ন মিটিং মিছিল ও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে নেতা-কর্মীদের উৎসাহ, মদন পৌরসভার পশ্চিম জাহাঙ্গীরপুর গ্রামে একটি বৃহৎ মসজিদের ভূমিদাতা, বিগত ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এলাকার ৭৫০ জন দরিদ্র, অসহায় ও অসচ্ছল পরিবারকে শাড়ি, লুঙ্গি, পাঞ্জাবি ও নগদ অর্থ প্রদান করেছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে মদন উপজেলায় বাবর পরিবারের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এম. মনজুরম্নল হক বেশ গ্রহণযোগ্য এবং শক্তিশালী বলে এলাকায় আলোচনা শোনা যাচ্ছে।
জেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আশরাফ উদ্দিন খান বলেন, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নির্বাচনমুখী একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। জাতীয়তাবাদী দলের সব মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরাই দলের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ ভোটারদের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্য। বিগত ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার গুরম্নত্বপূর্ণ চার আসনটিতে চারদলীয় ঐক্যজোট প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সহ-প্রকাশনা সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বিশাল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়ে সফলভাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ওই সময়ে সারা জেলায় বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে অসহায় বেকার যুবক-নারীদের বিনাপয়সায় সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের চাকরির সুযোগ সৃষ্টিতে সহযোগিতা করে সর্বমহলেই প্রশংসিত হয়েছেন। দীর্ঘদিন জেলে আটক থাকলেও নির্বাচনী এলাকাসহ সারাদেশেই বাবরের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী দল অংশগ্রহণ করলে জেলা বিএনপির প্রথম সম্মানিত সদস্য কারাবন্দি লুৎফুজ্জামান বাবরও অংশগ্রহণ করবেন বলে বিশ্বাস করেন। আর যদি মামলাসংক্রান্ত্ম জটিলতায় কোনো কারণেই তিনি অংশগ্রহণে ব্যর্থ হন তাহলে বাবরের সহধর্মীণি তাহমিজ্জামান শ্রাবণী বিকল্প প্রার্থী হতে পারেন। শ্রাবণী বিগত মোহনগঞ্জ এবং মদন উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনসহ দুটি নির্বাচনেই মাঠে তৎপর থাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত হয়েছে। এ ছাড়াও আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-কৃষি বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ চৌধুরী আবদুলস্নাহ-আল ফারম্নক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা চৌধুরীও এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। এ আসনে আগামী নির্বাচনে খালেদা জিয়া যাকেই ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দিবেন তাকেই বিশাল ভোটের ব্যবধানে নেতা-কর্মীরা বিজয়ী করবেন।
এ ব্যাপারে বর্তমান এমপি রেবেকা মমিন এবং এপিএস তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে একাধিকার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1562 বার