আরেকটি ‘ভুল বার্তা’ ঠেকাতেই কৌশলী বিএনপি

Pub: মঙ্গলবার, মার্চ ৬, ২০১৮ ৩:০৫ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, মার্চ ৬, ২০১৮ ৩:০৫ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর থেকেই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে দলটি। এটিকে সরকারি দল সাংগঠনিক দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে বিএনপির নেতারা বলছেন, এবার ভিন্ন কৌশলে এগোচ্ছেন তারা। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দেশে-বিদেশে জনমত তৈরি করছেন।একই সঙ্গে একাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে আরেকটি ‘ভুল বার্তা’ দিতে চাইছে না বিএনপি। এজন্যই উস্কানি উপেক্ষা করে কৌশলী হয়ে গণতান্ত্রিক উপায়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে মনোযোগ দিয়েছে।

এর পেছনে বড় কারণ, ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঘিরে দেশে সহিংস আন্দোলন হয়েছে, তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। নেতিবাচক বার্তা পেয়েছে বিশ্বজনমত।

এবার আর সেটি হতে দেবে না বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, নির্বাচন থেকে খালেদা জিয়া এবং বিএনপিকে দূরে রাখতেই সরকার পরিকল্পিত রায় দিয়েছে। সরকার চাইছিল, আমরা তাদের ফাঁদে পা দিয়ে বিক্ষুব্ধ আন্দোলন করি। কিন্তু, আমরা এবার যত বাধাই আসুক নির্বাচন করব। এজন্যই গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

আর এই নির্দেশনা দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দিয়ে গেছেন। তার নির্দেশিত পথেই হাঁটছে দলটির নেতাকর্মীরা।

আগামী জাতীয় নির্বাচন এবং খালেদা জিয়ার কারান্তরীণসহ সার্বিক বিষয়ে তুলে ধরে গত সপ্তাহে বিএনপির পক্ষ থেকে জাতিসংঘ ও কমনওয়েলথ মহাসচিবকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের আগে ৩০ জানুয়ারি ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকদের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপির নেতারা রায় পরবর্তী সরকারি কৌশলের কথাই জানান। একই সঙ্গে আশ্বস্ত করেন, কোনোভাবেই তারা সরকারি ফাঁদে পা দেবে না।

ওই বৈঠকে ভারত, জাপান, কুয়েত, স্পেন, সৌদি আরব, ইতালি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রিটিশ, ভ্যাটিক্যান, ডেনমার্ক, কানাডা, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, মরক্কো, লেদারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

রায়ে খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায়ের পরে বিএনপি আরেক দফা কূটনীতিকদের দলীয় অবস্থান অবহিত করে। ১৩ ফেব্রুয়ারি সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গুলশানের কার্যালয়ে কূটনীতিকদের ব্রিফ করা হয়।

এছাড়া খালেদা জিয়ার রায়ের পরদিন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বাংলাদেশে কর্মরত সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রায়ের খুঁটিনাটি তিনি তুলে ধরেন।

বিএনপির এই তৎপরতা যে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে নজর কেড়েছে, তা ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন ব্লুম বার্নিকাটের বক্তব্যেও স্পষ্ট।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ইএমকে সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিএনপির শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিক্ষোভ অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও সবার অংশগ্রহণমূলক দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। আমরা কোনো রাজনৈতিক দল নয়, সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সমর্থন করি।

একই দিন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেকও জানান, তার দেশ যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন সবার অংশগ্রহণমূলক দেখতে চায়।

তবে কূটনৈতিক মহলকে খুশি করতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছে- এমনটি প্রকাশ্যে বলতে নারাজ বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘কাউকে খুশি করতে নয়, দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করছি। দেশনেত্রী কারাগারের যাওয়ার আগেই আমাদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন।’

তবে তিনি এও বলেন, ‘ভবিষ্যত কর্মসূচি এখনই বলা সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতিই বলে দিবে তখন কি করতে হবে?’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. তাজমেরি এস ইসলাম  বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে কোনো দাবি আদায় হয়নি। উপযুক্ত সময়ে কর্মসূচির ধরণ অবশ্যই পরিবর্তন করা হবে। এটা দলের শীর্ষ নেতারা আলাপ করে ঠিক করবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নেতাকর্মীরা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এটি অব্যাহ থাকবে।’

বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ জমির বলেন, ‘বিএনপি গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী দল। অতীতেও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছে। কিন্তু, সরকারি দল বিভিন্ন সময়ে নিজেরা সহিংসতা করে আমাদের ঘাঁড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছে। এজন্য এবার আমরা আরও সতর্ক হয়ে রয়েছি।’

তবে বিএনপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলন নিয়ে ভিন্ন কথা বলছেন গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি  বলেন, ‘বিএনপি আসলে সব সময় কর্মসূচি ঘোষণা করে ঘরে বসে থাকে। গুটি কয়েক নেতাকর্মী ছাড়া কেউ রাস্তায় নামেন না। এতে কিন্তু না নিজেদের, না দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে? ঢাকা শহরে এত নেতা, আন্দোলনের সময় কেউ থাকে না। যদি তারা থাকত তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতি আজকের চেহারায় আসত না।’

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছর কারাদণ্ডের রায় দেন। এরপর তাকে পুরনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। ইতোমধ্যে নির্জন কারাগারের একমাত্র বন্দি হিসেবে খালেদা জিয়া ২৭ দিন অতিবাহিত করেছেন।

খালেদা জিয়া নিম্ন আদালতের দেয়া সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। একই সঙ্গে তার জামিন চেয়েও আবেদন করেছেন আইনজীবীরা।

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 2667 বার

আজকে

  • ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
  • ১১ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

 
 
 
 
 
মার্চ ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« ফেব্রুয়ারি   এপ্রিল »
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
 
 
 
 
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com