নিরীহ শিক্ষার্থীরাও নির্যাতন-মামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না

Pub: শুক্রবার, আগস্ট ১০, ২০১৮ ২:৩৩ অপরাহ্ণ   |   Upd: শুক্রবার, আগস্ট ১০, ২০১৮ ২:৩৩ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিরীহ অরাজনৈতিক শিক্ষার্থীরাও নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সরকারি দলের সিদ্ধান্তেই সরকারি দল ও ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগের নেতাকর্মীরা পুলিশের ছত্রছায়ায় হেলমেট ও মুখোশ পরে আগ্নেয়াস্ত্র, লাঠি, কিরিচ, রামদা ইত্যাদি নিয়ে আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর অমানবিক ও বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিতরে ঢুকে ছাত্র-ছাত্রীদের মারপিট করেছে। দলবদ্ধভাবে বিভিন্ন হোস্টেলে ও আবাসস্থলে গিয়ে ছাত্রদের মারপিট করে পুলিশে হস্তান্তর করেছে। এ সব কিছুই ঘটেছে পুলিশের চোখের সামনে এবং তাদের সহযোগিতায়।’

শুক্রবার (১০ আগস্ট) সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমন নাকি বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা করেছে। যা এদেশের এমন কোনো পাগলও নেই যে তারা বিশ্বাস করবে। পুলিশের সহায়তায় এবং তাদের সামনে বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র, লাঠি-সোটা নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের মারপিট করবে, দায়িত্বপালনরত সাংবাদিকদের কোপাবে, ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ অফিস আক্রমণ করবে, আর তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে না?’

তিনি বলেন, ‘হেলমেট পড়া ও মুখোশধারী আক্রমণকারীরা ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মী ছিল, এটা আহত সব সাংবাদিক এবং ছাত্র-ছাত্রীরা বলার পরেও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাদের বিচার করার জন্য নাম চান। এমন বাজে রসিকতায় তিনি আনন্দ পেতে পারেন কিন্তু দেশবাসী লজ্জিত হয়। তারাই পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করেন এবং সেই পুলিশ তাদেরই নির্দেশে হেলমেট ও মুখোশধারীদের মানুষ কোপানোর এবং অতঃপর নির্বিঘ্নে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার পর হামলায় আহতদের কাছে নাম চাওয়া একটা নোংরা রসিকতা ছাড়া আর কিছু হতে পারে না।’

মন্ত্রীসভায় সড়ক পরিবহন আইনের যে সংশোধনী অনুমোদন করেছে তা ইতোমধ্যেই পরিবহন মালিক সমিতি ছাড়া সবাই প্রত্যাখ্যান করেছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘সংশোধিত এই আইনে ছাত্র-ছাত্রীদের দাবিকৃত নিরাপদ সড়ক অর্জিত হবে না। কারণ, এই আইনে সড়ক পরিবহন খাতে মানুষ হত্যা ও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানোর স্পষ্ট দিক নির্দেশনা কিংবা কঠোর শাস্তির বিধান নেই। ’

তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলা হবে কিনা এটা নির্ধারণের দায়িত্ব নিরপেক্ষ যোগ্য, সংশ্লিষ্ট কাউকে রাখা হয়নি। এ ব্যাপারে হাইকোর্টের মতামতেরও গুরুত্ব দেয়া হয়নি। আমরা এই আন্দোলন এবং দীর্ঘদিন ধরে যারা নিরাপদ সড়কের জন্য কাজ করছেন তাদের সাথে অর্থবহ আলোচনা করে প্রস্তাবিত আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনীর দাবি জানাচ্ছি।’

‘আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই যে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সহিংস কোনো কর্মকাণ্ডে বিএনপি কখনো জড়িত ছিল না। যারা পুলিশের সামনে হেলমেট ও মুখোশ পড়ে সহিংসতা করেছে সাংবাদিকসহ আন্দোলনকারীদের ওপর নির্মম হামলা চালিয়েছে। আওয়ামী লীগের সেই সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে চিহ্নিত ও গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ করে রেখেছে সরকার এমন অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার চিকিৎসা পর্যন্ত করা হচ্ছে না। নানা বাহানায় তাঁর মুক্তি বিলম্বিত করা হচ্ছে। অন্যদিকে সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা-মামলা চালিয়েও সরকার নিজেদের নিরাপদবোধ করছেন। তারা দলের সিনিয়র নেতাদের সম্পর্কে হাস্যকর ও বানোয়াট গল্প প্রচার করে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে। এ সব কিছুর উদ্দেশ্য একটাই এক দলীয় স্বৈরাশাসন কায়েমের সরকারি নীল নকশা বাস্তবায়ন করা।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম প্রমুখ।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1059 বার