১০ বছরে নিবন্ধনের শর্ত পূরণ করতে পারেনি মহাজোটের ৫টি দল

Pub: সোমবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮ ১০:৪৫ অপরাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮ ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

মহাজোটের শরীক দলগুলোর এখনো বেহাল দশা কাটেনি। প্রায় ১০ বছর ক্ষমতায় থেকেও দল গোছানোতো দূরের কথা কেন্দ্রীয় কার্যালয়টাও ঠিকঠাক মতো নেই কোনো কোনো দলের। নেতাকর্মীদের চাঙা করার লক্ষ্যে একটি রুম ভাড়া নিয়ে কোনো মতে দলের বিশাল কর্মযজ্ঞ সারেন কেউ কেউ। আবার কেউ কেউ কেন্দ্রীয় কার্যালয় খোলেন কয়েকদিন পর পর। এক নেতা সর্বস্ব এসব দলের ভোটের মাঠের অবস্থাও সুখকর নয়। এখনো পর্যন্ত দলের নিবন্ধন পাওয়াতো দূরের কথা নির্বাচন কমিশনের দেওয়া শর্তগুলো পুরণ করার ধারে কাছেও নেই কোনো দলের। এমন ভঙ্গুর অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দুয়েকটি দলের নিবন্ধন হারানোরও আশংকা রয়েছে। দৈন্যদশার ফলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেয়ার চিন্তাতো নেইই, একই সঙ্গে জণাকীর্ণ দলগুলো জোটের মনোনয়ন পাওয়ার আত্মবিশ্বাসও হারিয়ে ফেলেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ক্ষমতাসীন জোট ১৪টি দল নিয়ে গঠিত হলেও এতে জোট প্রধান আওয়ামী লীগসহ মূলত দল রয়েছে ১৩টি। এরমধ্যে আওয়ামী লীগ, জাসদ (ইনু), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় পার্টি-জেপি (মঞ্জু), তরিকত ফেডারেশন, ন্যাপ (মোজাফফর), গণতন্ত্রী পার্টি ও সাম্যবাদী দল- এই আটটি দলের নিবন্ধন আছে। গণ আজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, বাসদ, কমিউনিস্ট কেন্দ্র এবং জাসদ (আম্বিয়া)- বাকি এই পাঁচটি দলের নিবন্ধন নেই।

সম্প্রতি এসব দলের নির্বাচন কমিশনের দেওয়া শর্ত পুরণ করতে না পারায় আবেদনও বাতিল হয়েছে অনেকের। সূত্র মতে, গত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বিহীন নির্বাচনে বর্তমান সরকারের দাপুটে মন্ত্রী-এমপির পদ বাগিয়ে নিতে সক্ষম হলেও ভোটের রাজনীতিতেও একেবারেই শূন্য অবস্থানে রয়েছে ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় থাকা এসব দলগুলো। ৫ জানুয়ারির পর থেকে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে হাতেগুনা নামেমাত্র দুয়েক জায়গায় প্রার্থী দিতে সক্ষম হয় শরীকদের দুয়েকটি দল। অধিকাংশ দলই কোনো প্রার্থী দেয়াতো দুরের কথা নির্বাচনের ধারে কাছেও নেই তারা। এদিকে একক ভাবে নির্বাচন করে জয়ের সুফল ঘরে তুলেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

সংশিøস্ট দলের একাধিক নেতা জানান, আর্থিক সংকট ও সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হওয়ার কারণে সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেয়নি ক্ষমতাসীনদের অধিকাংশ শরীকরা। দুয়েকটি দল প্রার্থী যা দিয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা শক্ত অবস্থানে থাকায় তাদের ভরাডুবি হয়েছে। আবার অনেক জায়গায় প্রার্থী দেয়ার মত নেতাকর্মী পর্যন্ত খুজে পায়নি শরিকদলগুলো। ভোটের রাজনীতিতে দুর্বল অবস্থার কারণে আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেয়াতো দূরের কথা অনেকেই জোটগত মনোনয়ন চাওয়ার আশাও তারা ছেড়ে দিয়েছেন।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শরীক ওয়ার্কার্স পার্টি। গত ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনসহ ৬টি এমপির পদ বাগিয়ে নিতে সক্ষম হয় দলটি। পাশাপাশি মন্ত্রীসভায়ও ঠাঁই পেয়েছেন দলের সভাপতি রাশেদ খান মেনন। তাদের সারাদেশের ৫৩টি জেলায় সাংগঠনিক কার্যক্রম রয়েছে। ক্ষমতাসীন জোটের অন্যতম শরীক জাসদ। স¤প্রতি অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দলটি ভেঙ্গে দুই অংশে বিভক্ত হয়েছে। সংরক্ষিত নারী আসনে এমপিসহ দুই অংশে সরকারের ৬ জন এমপি রয়েছেন। এক অংশের সভাপতি হাসানুল হক ইনু সরকারের প্রভাবশালী তথ্যমন্ত্রণালয়ের পদে আছেন। সারাদেশে তাদের ৫৮টি সাংগঠনিক জেলায় সক্রিয় কার্যক্রম রয়েছে। তবে বিভক্ত হওয়ার পরে দলটি আগের থেকে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

এ প্রসঙ্গে জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল ইসলাম  বলেন, শরীকদের যথাযথভাবে মূল্যায়ণ না করার কারণে বিক্ষুদ্ধ হয়ে আছে। যদি মূল্যায়ণ করতো তাহলে শরীকদলগুলোর মধ্যে এই ক্ষোভ বিরাজ করতো না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের উচিত হবে আগামীতে শরীকদের মূল্যায়ণ করে তাদের অবস্থান আরো শক্ত করা। এতে জোটও শক্তিশালী হবে।

ক্ষমতাসীন জোটের আরেক শরীক সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়–য়ার সাম্যবাদী দল। এখান থেকে একটি অংশ বের হয়ে বিএনপি জোটে ভিড়েছে। যারফলে এদের সাংগঠনিক অবস্থা আরো নাজুক। তবে মহাজোট সরকারের আমলে লোকবল বিহীন এ দলটি শিল্পমন্ত্রীর পদটি বাগিয়ে নিতে সক্ষম হলেও নানা বিতর্কের জালে পড়ে এবার মন্ত্রীসভা থেকে ছিটকে পড়েছেন তিনি। অন্যতম প্রাচীনতম দল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির ৩৪টি জেলায় পূর্ণাঙ্গ ও ২৬টি জেলায় আহবায়ক কমিটি রয়েছে। ঢিমেতালে চলা এ দলটির নির্বাচনে অংশগ্রহণ হাতেগোনা। শক্তিশালী প্রার্থী না থাকায় সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ নামেমাত্র।

এ প্রসঙ্গে ন্যাপের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক ইসমাঈল হোসেন বলেন, দুইটি কারণে শরীকদলগুলোর সাংগঠনিক অবস্থা বেশি ভাল নয়। প্রথমত: নিজেদের উদ্যোগের অভাব। দ্বিতীয়ত: সরকারী জোটে থাকলেও সরকারের সহযোগিতার অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বহুবার আলোচনা হয়েছে। কিন্তু শরীকদলগুলোকে শক্তিশালী করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

একইভাবে সারাদেশে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে বাসদ, গণতন্ত্রী পার্টি, তরিকত ফেডারেশন, গণ আজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি ও কমিউনিস্ট কেন্দ্রসহ শরীকদের অন্যদলগুলো। এ প্রসঙ্গে গণ আজাদী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এসকে সিকদার বলেন, দলকে সংগঠিত করতে সময় লাগছে। ৩২টি জেলায় সাংগঠনিক কমিটি রয়েছে। উপজেলাগুলোতে এখনো হাত দিতে পারেনি। চেষ্টা চলছে দলকে গুছিয়ে আনতে।

জোটের শরীকদের এ অবস্থান তুলে ধরলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা মনে করি শরীকদলগুলো জোটগতভাবে ভাল আছে। শক্তিশালী অবস্থানে আছে। আওয়ামী লীগ সব সময় শরীকদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকে।

বিশিষ্ট রাজনীতি বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি এ প্রসঙ্গে বলেন, দুইটি কারণে ক্ষমতাসীন জোটের শরীকদলগুলোর করুণ দশা বিদ্যমান। প্রথমত: শরীকদের মধ্যে এমন দল আছে যারা মন্ত্রী-এমপি হওয়ার পরে তাদের মধ্যে অনৈক্য তৈরি হয়েছে। এক পর্যায়ে দল ভেঙে গেছে। জাসদ ভেঙ্গে দুইভাগ হয়েছে। ওয়ার্কার্স পার্টির মধ্যে ভাঙনের সুর আছে। দ্বিতীয়ত: শরীকদের মধ্যে ক্ষমতার অংশীদার হতে পারেনি এমন দলগুলোর মধ্যে কিছু ক্ষোভ আছে।

ওই দলগুলোর যেসব নেতা দলীয়ভাবে সরকারের কাছে আসতে পেরেছেন, তারা কিছু সুযোগ সুবিধা পেয়েছেন। ওইদলগুলোর বাকি নেতারা বঞ্চিত রয়েছেন। ফলে দল গোছানোর ব্যাপারে কেউই মনোযোগ দিতে পারেনি। উদার মন মানসিকতা নিয়ে রাজনীতি করা তৃতীয় বিশ্বে এখনো হয়ে উঠেনি।

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1058 বার

আজকে

  • ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
  • ৯ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

 
 
 
 
 
সেপ্টেম্বর ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
 
 
 
 
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com