এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে চার নেতার সরকার পতনের ডাক

সরকার পতনের আন্দোলন গড়ে তুলতে একমঞ্চে ঐকমত্য প্রকাশ করেছেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘ইভিএম বর্জন জাতীয় নির্বাচন ও রাজনৈতিক জোট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় যোগ দিয়ে সরকারের পতনের লক্ষে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ব্ক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আসুন, দেশ ও জাতির প্রয়োজনে ন্যূনতম কর্মসূচির মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হই। দেশকে বাঁচাতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজ ফ্যাসিস্ট সরকার গণতন্ত্রের ওপর হামলা করেছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে ভৌতিক মামলা করেছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের নির্মমতা দেখেছি। বর্তমান সরকার কি এখন কম নির্যাতন করছে? আসুন, আমরা দলমত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলি।

ফখরুল বলেন, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আটকে রাখার জন্য জেলখানায় আদালত বসানো হয়েছে। সরকার আইনের লঙ্ঘন করেছে। স্বাধীন বাংলাদেশে এরকম কোনো নজির নেই।যেখানে আদালত করা হয়েছে, সেটি ছোট একটি রুম। অন্ধকার। হুইল চেয়ারে করে আমাদের নেত্রী তারা প্রহসনের আদালতে নিয়ে এসেছেন।

অনুষ্ঠানে ড. কামাল হোসেন বলেন, বাংলাদেশ গড়তে, স্বৈরাচার হঠাতে জনগণের ঐক্য হয়েছিল। আজও সেইরকম একটি বৃহত্তর ঐক্য হতে যাচ্ছে। অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করুন। জনগণ দেশের মালিক। সংবিধানেও সে কথা বলা হয়েছে।। কেবল অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন করতের পারলেই জনগন যে, সকল ক্ষমতার মালিক এটা নিশ্চিত করা যায়। দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে সর্বোপরি জাতির স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, দেশ এখন সংকটের মধ্যে আছে। দেশে এক ব্যক্তি, এক দলীয় শাসন চলছে। দেশের উন্নয়ন করছেন, ভালো কথা। আমরাও উন্নয়ন চাই। উন্নয়নের নামে গণতন্ত্রকে ধাক্কা দেবেন, তা হবে না। জনগণ আর সহ্য করবে না।গণতন্ত্রহীনতা আর সহ্য করা যায় না। আমরা উন্নয়ন চাই সঙ্গে গণতন্ত্রও থাকতে হবে। নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র হয় না। গণতন্ত্রের নামে স্বৈরতন্ত্র চালাবেন, তা বাংলার মানুষ মেনে নেবে না। হাতুড়ি দিয়ে, বন্দুক দিয়ে জনগণের ওপর হামলা করবেন আর জনগণ সহ্য করবে, তা ভাববেন না।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি’র সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, প্রধানমন্ত্রী ১০০ বছরের পরিকল্পনা করছেন। আমার প্রশ্ন, আপনি কত বছর বাঁচবেন? আমাদের এবং জনগণকে বোকা বানাবেন না। এ সরকার ১৬ কোটি মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এই সরকারের আমলে অনেক মামলা হয়েছে, যা পাকিস্তান আমলেও হয়নি। সংবিধানের প্রতি শেখ হাসিনার শ্রদ্ধা থাকলে খালেদা জিয়ার মামলার কার্যক্রম জেলখানায় হতো না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিহিংসার আচরণ করছেন।

এ সরকারকে জনগণ ‘চায় না’ এই সরকারকে বিদায় করতে হবে উল্লেখ করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) আ স ম আবদুর রব বলেন, আসুন, এক মঞ্চে উঠে এই স্বৈরাচার সরকারকে বিদায় করি।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, এই সরকার চোর। এই সরকারকে জনগণকে আর চায় না। আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাতে হবে।

উল্লেখ্য, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন জোট হিসেবে কিছুদিন আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি বি. চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা বাংলাদেশ, আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ে আত্মপ্রকাশ করে যুক্তফ্রন্ট। বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরবর্তীতে এই জোটে যুক্ত হয় ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম। জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার জন্য বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলকেও পাশে নবগঠিত জোট যুক্তফ্রন্ট।


ফোনঃ +৪৪-৭৫৩৬-৫৭৪৪৪১
Email: info.skhobor@gmail.com
স্বত্বাধিকারী কর্তৃক sheershakhobor.com এর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত