জামায়াত ছাড়া সবাই আসতে পারে ঐক্যে: ড. কামাল

Pub: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮ ৬:৫৬ অপরাহ্ণ   |   Upd: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮ ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

সম্প্রতি কয়েকজন শীর্ষ নেতার উদ্যোগে জাতীয় ঐক্য গড়ার যে তৎপরতা চলছে তাতে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী ছাড়া যে কেউ আসতে পারে বলে জানিয়েছেন এর অন্যতম উদ্যোক্তা ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘এখানে জামায়াত ছাড়া সব দলই আসতে পারে। এখানে দলীয় রাজনীতির বিধান হচ্ছে না, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের সব বিধান প্রতিষ্ঠার করার জন্যই এই জোট। সবকিছু ঠিক থাকলে বিএনপির সঙ্গেও আমাদের জাতীয় ঐক্য হতে পারে।’

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের একটি টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে তৃতীয় মাত্রা নামের টক শোতে একমাত্র অতিথি ছিলেন ড. কামাল হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জিল্লুর রহমান।

সম্প্রতি দেশের রাজনীতিতে যুক্তফ্রন্ট নামে তৃতীয় একটি জোট গঠন হয়। এর নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারার সভাপতি এ কে এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। এই জোটে আরও আছেন আ স ম আবদুর রব ও মাহমুদুর রহমান মান্না। ড. কামাল হোসেন ও কাদের সিদ্দিকীরও এ জোটে যোগদানের আলোচনা চলছে।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলের সঙ্গে নতুন এই জোটের নির্বাচনী সমঝোতা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ২০ দলের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে আপত্তি রয়েছে এই জোটের নেতাদের। জামায়াতকে বাদ দিয়ে ২০ দলের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে বলে জানা গেছে।

নতুন জোটের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানাতে গিয়ে ড. কামাল বলেন, ‘গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করা দরকার বলে মনে করি। সংবিধানের কিছু সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে, এছাড়াও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্যও সংস্কার প্রয়োজন।’

‘এদেশে গণতন্ত্রের পক্ষে মানুষের ঐকমত্য রয়েছে, যা আমাদের জন্য প্লাস পয়েন্ট। যখন গণতন্ত্র থাকে না, তখন যেসব ক্ষতি হয় সেটা আমরা হাড়েহাড়ে উপলব্ধি করেছি এবং করছি।’

আপনি নির্বাচন চান কি না এ ব্যাপারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রশ্ন উঠেছে-সঞ্চালকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার বয়স আশির কাছাকাছি। এখন আমি ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচন করবো না হয়তো, কিন্তু যাদের বয়স ৬০ হয়ে গেছে, তারা অনেক পরিপক্ষ হয়েছে, তাদের এখন এগিয়ে এসে নেতৃত্ব দেয়া উচিত। এখন ছাত্ররা যে দাবির জন্য আন্দোলন করছে, তা আমার ভালো লেগেছে। সবাই স্বীকার করছেন যে, ছাত্ররা যুক্তিসঙ্গত দাবি আদায়ে আন্দোলন করছে। এটা কেন্দ্র করে আগামীর আশার আলো দেখা যাচ্ছে।’

কামাল হোসেন বলেন, ‘জনগণের ওপর আস্থা নিয়ে আমরা যুক্তফ্রন্টের উদ্যোগ নিয়েছি। কারণ দেশে যেকোনো সংকট হলেই জনগণ তা মোকাবেলা করেছে সফলভাবে। সেটা ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধের সফলতার মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে। বাঙালি কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে না, ঐক্যবদ্ধভাবে তা মোকাবেলা করে এবং সফল হয়।’

‘সুস্থ রাজনীতির কোনো বিকল্প নাই। দুঃখজনক হলেও সত্য দেশে সুস্থ রাজনীতিকে ঠেলে সরানো হয়েছে, অন্যদিকে রুগ্ন রাজনীতিকে সামনে আনা হয়েছে, যার প্রমাণ হলো গত পাঁচ বছর দেশে কোনো নির্বাচন হয়নি। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে ঘিরে আমাকে কোর্টে ডাকা হয়েছিল। তখন আমি বলেছিলাম সরকারতো নিজেরাই বলেছেন একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্বাচন হয়েছে, সবার সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে খুব দ্রুতই আরেকটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেবে, তাই এই বিষয়টা নোট করে মামলা ডিসপল করে দিতে পরামর্শ দিয়েছিলাম। তখন আমি সরল মনে কোর্টকে বলেছিলাম, হয়তো অনেক বেশি সরল হয়ে গিয়েছিলাম তখন। কিন্তু তারা এক বছর করে পুরো পাঁচ বছর কাটিয়ে দিলো। আগামী ডিসেম্বরে হয়ত একটা নির্বাচন হতে পারে।’

কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি চাইবো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি নির্বাচন হোক, সেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই তাদের ক্ষমতা গ্রহণ করবে। যেটা সংবিধানে রয়েছে। তবে আশঙ্কার কথা হলো, পাঁচ বছরে বিধানগুলো থাকা সত্ত্বেও আসলে কী হলো? জনগণ কেন নীরব রয়েছে এটাও বড় আশঙ্কার কারণ।’

‘আমি নিজে কিছু হবো এই চিন্তাটা আমরা নাই। কারণ আমারতো বয়স হয়ে গেছে। আমি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য সহায়তা করতে চাই।’

সম্প্রতি নেপাল সফর থেকে ফিরে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ড. কামালসহ যুক্তফ্রন্ট নেতাদের নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করেন। এ প্রসঙ্গে কামাল হোসেন বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনের ফলাফলের বিষয়টা যদি প্রধানমন্ত্রীর মাথায় থাকতো তাহলে তিনি ওইদিন সংবাদ সম্মেলনে আমাদের নিয়ে কথা বলতেন না। কারণ ২০০৮ সালে এক কোটি ৩৪ লাখ ভুয়া ভোটার বাতিলে মামলায় ওকালতনামায় তার স্বাক্ষর নিয়ে মামলায় লড়েছিলাম এবং বাদ দেয়া হলো। ভুয়া ভোটার বাদ দেয়া না হলে তিনি এই ফল পেতেন না। ওই সময় আমাদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা হয়েছিল, যা থেকে আমরা ২০১০ সালে খালাস পেয়েছিলাম।’

ড. কামাল বলেন, ‘যখন আমার দেশের বাহিরে যাওয়া নিয়ে কথা উঠেছে তখন আমি নিজেই চাচ্ছি যে, বাহিরে যাওয়া একদম জিরো করে দিতে। এমনিতো যাওয়া আসাতে একটু ক্লান্তি হয়, তাই এখন আমার তেমন আগ্রহও নাই।’

২০০৮ সালে যখন মহাজোট গঠন হয় তখন ড. কামালও তাতে ছিলেন। তবে সেখান থেকে সরে যাওয়ার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালে ১৪ দল নামে মাঠে রাজনৈতিক আন্দোলন করেছি। পরে মহাজোট হলো, যখন এরশাদ মঞ্চে উঠলো তখন আমি মঞ্চ থেকে নেমে গেলাম। ওই সময় আমি মঞ্চ থেকে নেমে রাজশাহী চলে গেলাম। যাওয়ার আগে পঙ্কজ ভট্টাচার্যের কাছে এমপি প্রার্থীর একটা তালিকা দিয়ে গিয়েছিলাম। তাদের সবাই যোগ্য ছিল, কিন্তু ফিরে এসে দেখলাম তাদের একজনকেও মূল্যায়ন করা হয়নি।’

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1129 বার

আজকে

  • ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
  • ১৩ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

 
 
 
 
 
সেপ্টেম্বর ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
 
 
 
 
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com