শেখ হাসিনা ‘বাংলাদেশের ভণ্ড কবিরাজ’: রাজশাহীতে বুলবুল

Pub: বুধবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮ ৭:৪৭ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮ ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ‘বাংলাদেশের ভণ্ড কবিরাজ’ বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।

ক্ষমতাসীন দল ও প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘এই দেশ কারো বাবার নয়। এই দেশ কাউকে লিজ বা বিক্রি করা হয়নি। এই দেশ জনগণের। এই দেশ নিয়ে অনির্বাচিত এই সরকারকে ছিনিমিনি আর খেলতে দেয়া হবে না। আগামী সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়ার মুক্তি এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এদেশে কোনও নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। আর কাউকে ভোট ডাকাতি করতে দেয়া হবে না। প্রজাতন্ত্রের অর্থ খরচ করে পুলিশের নামে গুণ্ডাবাহিনী তৈরি আর ভোট জালিয়াতি এদেশের মানুষ সহ্য করবে না।’

মহানগর বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘জনগণের বিস্ফোরিত ভাবমূর্তি দেখে এই অবৈধ সরকার ভীত হয়ে এখন পাগলের প্রলাপ বকা শুরু করেছে। তারা মৃত্যু আতঙ্কে ভুগছে। কিন্তু বিএনপি কখনও মানুষ খুনের রাজনীতি করে না। মানষ খুন, গুম, নির্যাতন ও ধর্ষণের রাজনীতি আওয়ামী লীগের সৃষ্টি।’

বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা এবং তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজশাহী মহানগরীর ভূবন মোহন পার্কে কেন্দ্রঘোষিত প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালনকালে বুলবুল এসব কথা বলেন।

মহানগর বিএনপি’র আয়োজনে অনশনে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক, মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়ত শাহিন শওকত খালেদ।

শাহিন শওকত বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর জনগণের সাথে কোনও সম্পর্ক নেই। রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীর সাথে গভীর সম্পর্ক। এই সম্পর্ক করে দেশের স্বার্থ ও পরিবেশ ধ্বংস করে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে। এই সরকার প্রধান ভারতের দালালি করে আবারো ক্ষমতায় আসার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে গভীর সম্পর্ক তৈরি করেছে। কিন্তু এখন মোদীর গদি নিয়ে টানাটানি শুরু হয়েছে। তিনি এখন তার গদি ঠিক করবেন, না বাংলাদেশ নিয়ে নাক গলাবেন।’

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বেঈমান আখ্যা দিয়ে শাহিন বলেন, ‘স্বৈরাচার এরশাদ পতনের আন্দোলনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ একসাথে আন্দোলন শুরু করলেও ক্ষমতার লোভে তৎকালীন স্বৈরাচার প্রেসিডেন্ট এরশাদের সঙ্গে লং ড্রাইভে গিয়ে সেখানেও গভীর সম্পর্ক তৈরি করে দেশের জনগণের সাথে বেঈমানি করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এই বেঈমান ও অর্থপাচারকারী প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সরকারকে আর কেউ বিশ্বাস করে না।’

বর্তমান সরকার এখন বিশ্ব বেঈমান ও দুর্নীতিবাজ হিসেবে দেশে এবং বিদেশে আখ্যায়িত হয়েছেন বলে বক্তৃতায় উল্লেখ করেন শাহিন।

তিনি বলেন, ‘এখন থেকে সরকার পতন ও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। এই আন্দোলনে রাজপথ কাঁপবে এবং এই স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটানো হবে।’

বিএনপি নেতা মিলন বলেন, ‘বর্তমান ফ্যাসিস্ট, দুর্নীতিবাজ সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও আটক করছে। কয়েকদিন পূর্বে পুলিশ নিজে বোমা ফাটিয়ে চারঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান ও বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আবু সাইদ চাঁদকে গ্রেফতার করেছে। তিনি এখন জেল হাজতে রয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন থানা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার অব্যাহত রেখেছে। মিথ্যা মামলায় জেলহাজতে রেখে জামিন দিচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে সরকার ষড়যন্ত্র করছে এবং জামিন নিয়ে খেলা করছে। বেগম জিয়া গুরুত্বর অসুস্থ হলেও তার সুচিকিৎসা করা হচ্ছে না। তাঁকে কারাগারের মধ্যে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্রে এই সরকার লিপ্ত রয়েছে।’

তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সাহসিকতার সাথে রায় দিতে বিচারপতির নিকট দাবি জানান বুলবুল। সেইসঙ্গে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, বেগম জিয়ার মুক্তি ও হাসিনা সরকারের পতনের আন্দোলনে নেতাকর্মীদের রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়ে প্রতীকী অনশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। বক্তব্য শেষে সিনিয়র নেতাদের মুখে পানি ও জুস দিয়ে অনশন কর্মসূচি শেষ করা হয়।

অনশনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন ও বাগামারা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজপাড়া থানা বিএনপি’র সভাপতি শওকত আলী, বোয়ালিয়া থানা বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান পিন্টু, মতিহার থানা বিএনপির সভাপতি আনসার আলী, রাজপাড়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন, শাহ্ মখ্দুম থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, বোয়ালিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম মিলু, রাজপাড়া থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদ পারভেজ পিন্টু, কাউন্সিলর শাহজাহান আলী, বেলাল হোসেন ও টুটুল, রাজশাহী মহানগর যুবদলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট, জেলা যুবদলের সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানী সুমন, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম সমাপ্ত, মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হাসনাইল হিকল, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার রহমান ভুট্টো, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাকির হোসেন রিমন, সাধারণ সম্পাদক আবেদুর রেজা রিপন প্রমুখ।

এদিকে একই সময়ে নগরীর এক কমিউনিটি সেন্টার চত্বরে জেলা বিএনপি’র উদ্যোগে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালিত হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি অ্যাড. তোফাজ্জল হোসেন তপু ও সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন।

অনশনে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতৃবৃন্দ।

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1113 বার

আজকে

  • ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
  • ৮ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

 
 
 
 
 
সেপ্টেম্বর ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
 
 
 
 
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com