fbpx
 

জাতীয় ঐক্যের সমাবেশ এ যেন ছিল “মা” এর মুক্তির মিছিল!

Pub: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮ ৮:৩৭ অপরাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮ ১১:১৮ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিনিধি শীর্ষ খবর :জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ‘নাগরিক সমাবেশে’ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মুহুর্মুহু স্লোগান দিতে দেখা গেছে। এসময় সমাবেশ স্থলে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ব্যানার নিয়ে অবস্থান নেয় ২০-দলীয় জোটের শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার নেতাকর্মীরা।

গত শনিবার বিকাল ৩টার দিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও ড. আবদুল মঈন খান সমাবেশস্থলে পৌঁছান।

এসময় বিএনপির নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে প্রবেশ করতে থাকেন মহানগর নাট্যমঞ্চে।

তবে আগে থেকেই সমাবেশস্থলে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। সমাবেশস্থলে যেমন ছিল বিএনপির নেতাকর্মীদের ভিড়, তেমনি বাইরেও ছিল বিএনপির নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি।

বিকাল ৩টায় মহানগর নাট্যমঞ্চে যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার এই নাগরিক সমাবেশ শুরু হয়। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে সভাপতির আসন গ্রহণ করেন।

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডি সভাপতি আ স ম রর মিলে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন।

বিএনপির সাথে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়তে বেশ কয়েকটি শর্ত দিয়েছিলেন যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। তবে নাগরিক সমাবেশে দলের নেতাকর্মীদের সমাগমের মধ্যে দিয়ে তাদের সেসব শর্তকে পিছনে রেখে বিএনপি জানান দিয়েছে সর্বাগ্রে “মা” এর মুক্তি । স্পষ্টভাবে নেতারা মুখে না বললেও মহানগর নাট্য মঞ্চে দৃশ্যপটে বি. চৌধুরী ও কামাল হোসেনকে বিএনপি দেখিয়ে দিয়েছে যে, তাদের ছাড়া বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া গঠন সফল হবে না।

শনিবার ‘কার্যকর গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলুন’ স্লোগানে এ সমাবেশের আয়োজন করে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া।

বিএনপির সাথে ঐক্য গড়তে যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার যেসব শর্ত ছিল, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য কোনোভাবেই জোট করব না, জোটগতভাবে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করা যাবে না, জোটগতভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া যাবে না এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেড়’শ আসন দিতে হবে।

সমাবেশে আবারও বি. চৌধুরী বলেন, আমার পবিত্র স্বাধীনতার বিরুদ্ধে, আমার পবিত্র পতাকার বিরুদ্ধে, লাখ লাখ মানুষের রক্তে ভেজা, লাখ মানুষের চোখের পানিতে ভেজা এই মাটির বিরুদ্ধে যারা ছিল, যারা আছে; তাদের সাথে ঐক্য করবো না। একটি স্বেচ্ছাচারী, গণতন্ত্রবিরোধী সরকার গত ১০ বছরে যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে, এমনি আবারো একটি অনুরূপ সরকারের ঝুঁকি আমরা নিতে পারি কি- বলেও প্রশ্ন রাখেন তিনি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি এক সিনিয়র নেতা এই প্রতিবেদককে বলেন, শর্তগুলো মাথায় রেখেই বিএনপি পরিকল্পনা করেছে। আমাদের উপস্থিতির মাধ্যমে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদেরকে বার্তা দিতে চেয়েছিলাম যে, বিএনপিকে ছাড়া ঐক্য সফল হবে না। আর দলের হাই-কমান্ড থেকে আমাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, নাগরিক সমাবেশ দেখে যেন মনে হয়- এটা বিএনপির অনুষ্ঠান। সেই অনুযায়ি আমাদের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছিল। আমরা সম্পূর্ণভাবে সেই পরিকল্পনায় সফল হয়েছি।

দেখা গেছে, নাগরিক সমাবেশ শুরু হয় বিকেল ৩ টায়। শেষ হয় ৬ সন্ধ্যা টায়। শুরু হওয়ার প্রায় ১ ঘন্টা আগে থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হতে থাকে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, কৃষকদল ও ২০ দলীয় জোটসহ মহাজোটের বাইয়ে থানা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। সমাবেশে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কর্মীরা থাকলেও বিএনপির নেতাকর্মীদের সমাগমে তাদের উপস্থিতি ম্লান হয়ে যায়। সুতরাং এক কথায় বলা যায় যে, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশ বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের দখলে ছিল।

এসময় দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিলে ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’, ‘এক দফা এক দাবি শেখ হাসিনা কবে যাবি’ সহ শহীদ জিয়াকে নিয়ে দেওয়া বিভিন্ন স্লোগানে ঢাকা মহানগর নাট্য মঞ্চের প্রাঙ্গণ জাতীয়তাবাদেরই ধ্বনি উচ্চারিত হয় সমাবেশের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।

এদিকে সমাবেশে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না তার বক্তব্যের এক পর্যায়ে বলেন, বর্তমান স্বৈরাচারের দুঃশাসনের কারণে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন। এই বক্তব্যের পরে অন্য ইস্যুতে কথা শুরু করলে মিলনায়তনের ভিতরে বিএনপির প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়ে উঠেন ‘মুক্তি চাই বলতে হবে’, ‘মুক্তি চাই বলতে হবে’। স্লোগান একাধিকবার দেওয়ার পরে মান্না হতভম্ভ হয়ে বলেন, ‘আমি তো বলছি, খালেদা জিয়াসহ সকল রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মুক্তি চাই’। এরপরও নেতাকর্মীরা স্লোগান দিলে তিনি একাধিকবার বেগম জিয়ার মুক্তি চাওয়ার কথা বলেন।

তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এটা উন্মুক্ত নাগরিক সমাবেশ ডাকা হয়েছিল। তাই সমাবেশে যে কেউ যেতে পারে। সুতরাং এখানে বার্তা দেওয়ার কিছু নাই। আর আমাদের ডাকা হয়েছিল। এছাড়া তাদের সাথে সিদ্ধান্ত নিয়েই আমরা সেখানে গিয়েছি।’


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ