নাশকতার মামলা: যুক্তরাষ্ট্রে আমীর খসরু-কারাগার থেকে সোহেল!

Pub: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৪, ২০১৮ ২:৪০ অপরাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৪, ২০১৮ ২:৪০ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

যুক্তরাষ্ট্র পাড়ি জমাতে গত ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা ত্যাগ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এখনো অবস্থান করছেন ট্রাম্পের দেশে। ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলীয় সমাবেশে তিনি ‘সরকারবিরোধী উসকানিমূলক’ বক্তব্য দিয়েছেন এমন অভিযোগ তুলেছে পুলিশ।

খসরুসহ বিএনপির শীর্ষ ১০ নেতার উসকানিতেই মগবাজারে পুলিশকে মারধর, গাড়ি ভাঙচুরসহ নাশকতা হয়েছে; এমন অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে হাতিরঝিল থানা পুলিশ। বিদেশে অবস্থানরত আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে ঢাকায় দেখানো এবং তাকে আসামি করে দায়ের করা আলোচিত এ মামলায় ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতারা।

ওই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলামের দায়েরকৃত মামলায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ দলটির ৫৫ নেতা এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়। এজাহারনামীয় অন্য আসামিরা ঢাকা, গাজীপুর, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকার বিএনপি নেতা।

এছাড়া গত রবিবার ১ অক্টোবর দিবাগত রাতে (এসআই) শরীফুল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিবুন নবী খান সোহেল, যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাসহ অর্ধশত নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলুল করিম এ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রবিবার বিএনপির সমাবেশে যাওয়ার পথে মগবাজার রেলগেট এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। এছাড়া সমাবেশ থেকে নাশকতার উস্কানিও ছড়ানো হয়। এ কারণেই মামলাটি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিএনপি নেতা সোহেলকে রাজধানীর গুলশান গোলচত্বর থেকে আটক করে পুলিশ। পরে শাহবাগ থানার একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরদিন বুধবার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

এর পর পুনরায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর বিএনপির (দক্ষিণ) সভাপতি হাবীব-উন-নবী খান সোহেলকে ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। ২৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম আহসান হাবীব এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সোহেলকে শাহবাগ থানার মামলার ৫ দিনের রিমান্ড শেষে রমনা থানার মামলায় নতুনভাবে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

মামলার বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, ‘গত নির্বাচনের পর সরকার পুলিশ দিয়ে তড়িঘড়ি করে ঢাকা মহানগর এলাকায় বসবাসকারী ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালাদের তথ্য সংগ্রহ করে। এখন সেই ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম দেখে দেখে পুলিশ দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দায়ের করছে। এতে আসামির তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে না বিদেশে অবস্থানরত এমনকি মৃত ব্যক্তিও।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের কাছে আষাঢ়ে গল্পের একটা ফরমেট সবসময় প্রস্তুত থাকে। সময়মতো নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে সেগুলো ব্যবহার করা হয়। এবারেও পুলিশ তাই করেছে।’

গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর লালবাগ থানায় একটি নাশকতার মামলা দায়ের করেন নবাবগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনিসুল ইসলাম। মামলায় ৩৮ জনকে আসামি করা হয়। তাতে অভিযোগ, ওইদিন বিকাল সোয়া ৫টার দিকে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফুর নেতৃত্বে কিছু নেতাকর্মী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সরকারবিরোধী স্লোগান দেয়। তারা বিজিবি ২ নম্বর গেট সংলগ্ন লালবাগ টাওয়ারের সামনে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে পথচারীরা বিভিন্ন দিকে ছোটাছুটি করে। তবে লালবাগ টাওয়ার এর পাশে বসবাসকারী ও স্থানীয় দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে এ ধরনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি জানতে এসআই আনিসুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে হাতিরঝিল থানায় করা নাশকতার মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ৭ কেন্দ্রীয় নেতা। বুধবার ৩ অক্টোবর তারা আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি কাশেফা হোসেনের বেঞ্চ তাদের আবেদন মঞ্জুর করে আগাম জামিনের এ আদেশ দেন।

জামিন প্রাপ্তরা হলেন- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।

আদালতের আদেশের পরে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো ঘটনাই ঘটেনি কিন্তু বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের নামে ভৌতিক মামলা দেয়া হচ্ছে। মৃত মানুষদের নামে মামলা দেয়া হচ্ছে, বিদেশে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীদের নামেও মামলা দেয়া হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘এরকম ভৌতিক মামলা পৃথিবীর আর কোথাও হয় না। এমনকি স্বৈরশাতান্ত্রিক দেশেও এ ধরনের মামলা দেয়া হয় না। বিএনপির বিশাল সমাবেশ দেখে সরকার ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে গেছে। এ কারণেই এসব মামলা দেয়া হচ্ছে।’


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1587 বার