চট্টগ্রামের ১৬টি আসন: ভাগাভাগিতে চাপে দুই জোট

Pub: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১১, ২০১৮ ১:৪২ অপরাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১১, ২০১৮ ১:৪২ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

চট্টগ্রামে আসন ভাগাভাগি নিয়ে শরীকদের চাপে রয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। জোটবদ্ধ নির্বাচন হলে দু’দলকেই ছাড়তে হবে বেশক’টি আসন। এ নিয়ে তুলনামূলক বেশি বেকায়দায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

কারণ তাদের কাছে শরীকদের দাবিও বেশি। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের কাছে শরীকরা চায় ১১টি। এরমধ্যে জাতীয় পার্টি পাঁচটি, জাসদের দুই পক্ষ দুটি, ওয়ার্কার্স পার্টি ১টি, তরিকত ফেডারেশন একটি ও ইসলামী ফ্রন্ট ২টি আসন চায়।

শরীক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কেউ কেউ নিজের অবস্থান জানান দিতে নেমে পড়েছেন মাঠে। অপরদিকে সব ক’টি আসনে সক্রিয় রয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও। তাই মহাজোটের ভেতরেই মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগ ও শরীক দলের প্রার্থীদের মধ্যে শুরু হয়ে গেছে লড়াই। গতবার শরীকদের জন্য চারটি আসন ছেড়ে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ।

বাকি থাকা ১২টির মধ্যে তারা প্রার্থী দিয়ে জিতেছিল ১১টিতে। ১টি আসনে জয়ী হয়েছিলেন এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম।

অপরদিকে স্বস্তিতে নেই বিএনপিও। তাদের কাছে শরীকদের চাওয়া ৩টি আসন। এর মধ্যে জামায়াত দুটি ও কল্যাণ পার্টি একটি আসন চায়। গতবার বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তবে ২০০৮ সালে তারা একটি আসন জামায়াতকে ছেড়ে দিয়েছিল।

চট্টগ্রামের সবক’টি আসনে আলাদাভাবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি রয়েছে জাতীয় পার্টির। তবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটে গেলে ৫টি আসন জোটের কাছে চাইতে পারে তারা। বর্তমানে চট্টগ্রামে জাতীয় পার্টির নির্বাচিত সংসদ সদস্য রয়েছেন দু’জন। তারা হলেন চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে জাতীয় পার্টির তৎকালীন মহাসচিব (বর্তমানে প্রেসিডিয়াম সদস্য) জিয়া উদ্দীন আহমেদ বাবলু ও চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারী আসনে তিনি প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যরিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। বর্তমানে বন ও পরিবেশমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মহাসচিব জিয়া উদ্দীন আহমেদ বাবলু যুগান্তরকে বলেন, ‘জাতীয় পার্টি আলাদাভাবে নির্বাচন করলে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের সব ক’টিতেই প্রার্থী থাকবে। আর মহাজোটের শরীক হলে সেক্ষেত্রে কয়েকটি আসন চাওয়া হবে। তবে কয়টি আসন চাওয়া হতে পারে তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না কারণ এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।’

জাতীয় পার্টির একাধিক সূত্র জানায়, এবার চট্টগ্রামে তারা মহাজোটের কাছে ৫টি আসন চাইতে পারে। এর মধ্যে বর্তমান এমপি হিসেবে জিয়া উদ্দীন আহমেদ বাবলু ও ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরী মনোনয়নের দিক থেকে এগিয়ে। এছাড়া চট্টগ্রাম-১৫ (বাঁশখালী) থেকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১০ থেকে মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম, চট্টগ্রাম-১১ থেকে সোলায়মান আলম শেঠের নাম আলোচনায় রয়েছে।

অন্য শরীক দলের মধ্যে বর্তমান দুই এমপি জাসদের একাংশের কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল এবং তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীও মহাজোটের মনোনয়ন প্রত্যাশী। নজিবুল বর্তমানে ফটিকছড়ি এবং বাদল চান্দগাঁও-বোয়ালখালী আসনের এমপি। এছাড়া জাতীয় পার্টির সঙ্গে সম্মিলিত জাতীয় জোটে আছে ইসলামী ফ্রন্ট। এই দলের মহাসচিব এমএ মতিন ও যুগ্ম মহাসচিব সউম আবদুস সামাদ যথাক্রমে পটিয়া ও চন্দনাইশ থেকে মনোনয়ন চান। যেহেতু ইসলামী ফ্রন্ট জাতীয় পার্টির শরীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে সেহেতু জাতীয় পার্টিকে যে ক’টি আসন চট্টগ্রামে ছাড়বে এর মধ্যে ইসলামী ফ্রন্টের আসনও থাকবে।

অপরদিকে বিএনপি জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করলে এবার চট্টগ্রামে তাদের ৩টি আসন ছাড়তে হতে পারে। কেন্দ্রীয় দুই নেতা আ ন ম শামসুল ইসলাম ও শাহজাহান চৌধুরীকে প্রার্থী হিসেবে চায় বিএনপির শরীক জাময়াত। এর মধ্যে একজন সাতকানিয়া থেকে প্রার্থী হলে অন্যজন নগরীর যে কোনো একটি আসন থেকে প্রার্থী হতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। অপরদিকে বিএনপির শরীক হিসেবে হাটহাজারী থেকে মনোনয়ন চাইবেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীরপ্রতীক। এই আসন থেকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, তার ছেলে ব্যারিস্টার মীর হেলাল, কেন্দ্রীয় নেতা এসএম ফজলুল হক ও বিএনপির সাবেক হুইপ মরহুম সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা। আসনটি কল্যাণ পার্টিকে ছেড়ে দিলে মনোনয়ন বঞ্চিত হতে পারেন তারা।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1087 বার