fbpx
 

নিখোঁজ ছেলের জন্য পিতার আহাজারি

Pub: মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৪, ২০১৮ ৯:০৮ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৪, ২০১৮ ৯:০৮ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমি কী নিয়ে বাঁচব। আল্লাহ তুমি আমারে কী করলা। এরশাদ আলী তিনটি মেয়ে ও বউ রেখে গেছেন। এদেরকে আমি কীভাবে লালন-পালন করব। আমি কি আর কখনও এরশাদ আলীকে ফিরে পাব না?’ মঙ্গলবার নিখোঁজ (গুম হওয়া) এরশাদ আলীর পিতা হাজী মাহবুব আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে এসব কথা বলেন। মাহবুব আলী বলেন, এরশাদ আলী ঢাকার বংশাল থানা এলাকায় বসবাস করতো। ২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর থেকে সে নিখোঁজ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এরশাদ আলী বিএনপির কর্মী ছিলেন।

প্রিয়জনের গুমের বিষয়ে স্বজনদের বিচার চাইতে আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, আমাদের দেশে যতগুলো গুমের ঘটনা ঘটেছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যারা সরকারবিরোধী রাজনীতি করেন, তারা শিকার হয়েছেন। গুম হত্যার চেয়ে জঘন্য। এটা যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধও।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত ‘গুম হওয়ার পাঁচ বছর শেষ আর অপেক্ষা কতদিন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।

আসিফ নজরুল বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন আইনে যে সংজ্ঞা দেয়া আছে, সেখানেও এটাকে চরম জঘন্য অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা আছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইনে বলা হয়েছে, গুম বা খুন যখন পরিকল্পিত ও ব্যাপক সংখ্যায় হয়, তখন সেটাকে আমরা মানবতাবিরোধী বলতে পারি। তিনি আরও বলেন,আমাদের দেশে যতগুলো গুমের ঘটনা ঘটেছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিকার হয়েছেন সরকারবিরোধী রাজনীতি যারা করেন। কাজেই আমাদের ভাববার কারণ হচ্ছে, গুম হয়েছে পরিকল্পিতভাবে এবং সংখ্যার দিক থেকেও এটা ব্যাপক। কাজেই আমি মনে করি, গুমের শিকার হওয়া যেসব পরিবার আছেন আপনারা যদি দেশে বিচার না পান, আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে এর বিচার পাওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে চেষ্টা করবেন।

আসিফ নজরুল বলেন, বহু বছর ধরে আমরা রাষ্ট্রের কাছে বিচার চাচ্ছি, কিন্তু কোনো বিচার হচ্ছে না। আমাদের সংবিধানে বলা আছে, যেকোন নাগরিকের আইন অনুযায়ী বিচার করতে হবে। আমি প্রশ্ন রাখতে চাই, বাংলাদেশের কোন আইনে আছে যে, একটা মানুষকে আপনি কোনো বিচার না করে, কোনো কথা না বলে গুম করে দেবেন। তাকে হত্যা করবেন বা নিখোঁজ করে দেবেন?

সরকারের কাছে গুম হওয়ার কারণ জানতে চাইতে হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আজ নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে আপনারা এই প্রশ্ন তোলেন। যারা ভোট চান তাদের প্রশ্ন করেন, আমাদের ভাইয়েরা, আমাদের সন্তানেরা কেন গুম হয়েছে? কারা গুম করেছে? এই প্রশ্নের উত্তর আমরা চাইবো সরকারের কাছে। একই সঙ্গে বিরোধী পক্ষ যারা আছেন, তাদের কাছে জানতে চাইবো যে, যারা গুম হয়েছেন তাদের ন্যায় বিচার কীভাবে করবেন? তিনি বলেন, যারা গুমের পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন বা গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত; আমি বিশ্বাস করি একদিন না একদিন তারা বিচারের সম্মুখীন হবেন। ওই সময় পর্যন্ত আপনাদের লড়াই অব্যাহত রাখুন।

পাঁচ বছর আগে গুমের শিকার সুমনের মা হাজেরা বেগমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, তাবিথ আউয়াল, নূর খান লিটন, ফয়জুল হাকিম লাল, নাসিরউদ্দিন এলান, মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা প্রমুখ।

গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন গুম হওয়া পিন্টুর বোন রেহানা বানু মুন্নি, নগরকান্দা ফরিদপুরের শহীদ মারুফের মেজ বোন রতœা, নিউমার্কেট থানা ছাত্রদলের সভাপতি (নিহত) মাহবুবুর রহমান বাপ্পির বোন ঝুমুর, সিলেট ছাত্রদলের কর্মী পঙ্গু বদরুল আলম, গুম নুর আলমের ছেলে প্লাবন, গুম সাজেদুল ইসলাম সুমনের মেয়ে হাফসা ইসলাম, গুম রামপুরা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেনের মা সালেহা বেগম, পিরোজপুরের নাসিরউদ্দিন মন্টুর ভাই আল আমিন মুন্সি, বংশালে গুম পারভেজ হোসেনের মেয়ে বিবি, গুম রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানের মেয়ে সাবিহা জামান, গুম মুকাদ্দেসের চাচা আব্দুল হাই, গুম সোহেলের মেয়ে সাফা প্রমুখ।

ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন সানজিদা ইসলাম তুলি এবং লিখিত বক্তব্য রাখেন সাজেদুল ইসলাম সুমনের বড় বোন মারুফা ইসলাম ফেরদৌস।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ