কূটনীতিকদের ‘আশ্বাস পেল’ ঐক্যফ্রন্ট

Pub: রবিবার, জানুয়ারি ৬, ২০১৯ ১০:৪৭ অপরাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, জানুয়ারি ৬, ২০১৯ ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

একাদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে অনিয়ম ও কারচুপির যে অভিযোগ করে আসছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তা কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। লিখিত ও ভিডিওসহ এসব অভিযোগের তথ্য বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের হাতে তুলে দেন জোটের শীর্ষ নেতারা।

ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি কূটনৈতিকদের এটা আমরা বুঝাতে সক্ষম হয়েছি। তারাও (কূটনীতিকরা) আমাদের কথা বুঝেছেন এবং আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন।’

শনিবার বিকালে গুলশানের একটি হোটেলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষ হয় সন্ধ্যা ছয়টায়।

বৈঠক শেষে ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভালো হয়নি এমন অভিযোগের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেননি ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকরা।’

‘বাংলাদেশের ৫০ বছর উদযাপন করব সবাই মিলে। কিন্তু দুঃখের বিষয় নির্বাচনে তা কীভাবে ধ্বংস হয়ে গেল! আমাদের আকাক্সিক্ষত নির্বাচন হয়নি তাই আমরা পুনর্র্নিবাচন দাবি করছি।’

কূটনীতিকরা কী বলল-জানতে চাইলে ঐক্যফ্রন্ট নেতা বলেন, ‘আমার তো মনে হয় তারাও একই বিষয় দেখেছেন। আমরা যেটা দেখেছি তারাও সেটা মনে করছেন।’

পুুুনর্নির্বাচনের বিষয়ে কূটনীতিকরা কোনো ধরনের চাপ দেবে কি না, জানতে চাইলে কামাল হোসেন বলেন, ‘যা হওয়ার হয়ে গেছে, এখন একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হোক। সরকারকে চাপ দিয়ে নয়, যুক্তি দিয়ে বোঝাক তারা।’
‘যারা এসেছিল তারা বন্ধুরাষ্ট্রের। তারা আমাদের বন্ধু, জনগণের বন্ধু এবং সরকারেরও বন্ধু। আমরা নির্বাচনের অনিয়মের বিষয়গুলো তাদের কাছে তুলে ধরেছি। তারা এ নিয়ে কোনো বিতর্ক করেনি। আমরা যা দেখেছি, তারাও তাই দেখেছে। তারা আমাদের কথা শুনেছেন এবং বলেছেন গণতন্ত্রের গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত থাক তারাও সেটা চান। তারাও চান এদেশের মানুষ স্বস্তিতে, শান্তিতে থাক।’

বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব ও ফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ধানের শীষের প্রার্থী আফরোজা আব্বাস, গোলাম মাওলা রনি, রুমানা মোর্শেদ কনক চাঁপা উপস্থিত ছিলেন।

কূটনীতিকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, নরওয়ে, সুইডেন, স্পেন, ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত, পাকিস্তান ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার, কানাডা-জার্মানি-তুরস্ক-মরক্কোর উপ রাষ্ট্রদূত, রাশিয়া-জাপান-অস্ট্রেলিয়ার পলিটিক্যাল ডেস্কের ফার্স্ট সেক্রেটারি, জাতিসংঘের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা তাদের কাছে কিছু ডকুমেন্ট দিয়েছে যে নির্বাচনের আগের দিন কি হয়েছে এবং নির্বাচনের পরের দিন কী হয়েছে। সেই সঙ্গে ডকুমেন্ট অনুসারে আমরা তাদেরকে একটা পেন ড্রাইভ দিয়েছি, যাতে তারা দেখতে পারে নির্বাচনের আগের দিন এবং পরের দিন কী হয়েছিল। ’

‘কূটনৈতিকরা সবাই ধৈর্য ধরে আমাদের কথা শুনেছেন এবং শুনার পরে তারা আমাদের একটা প্রশ্ন করেছেন এখন কী করবেন নিবার্চন তো হয়ে গিয়েছে।’

জাফরউল্লাহ বলেন, ‘আমরা তাদের এই প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছি আমরা পুনরায় একটা ফেয়ার নিবার্চন চাই যে নিবার্চনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে তারা এতটুকু বুঝেছে যে বাংলাদেশের একাদশ সংসদ নিবার্চন সুষ্ঠ হয়নি।’

নির্বাচনের বিষয়ে আপনারা কী কী তুলে ধরেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে জাফরুল্লাহ বলেন, ‘নিবার্চনে যা ঘটেছে আমরা সেটায় তাদের সামনে তুলে ধরেছি। তারা আমাদের জানিয়েছেন যে এই বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিকরা তাদের দেশের সঙ্গে আলোচনা করবে।’

ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ীদের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘এটা প্রাইভেটভাবে একজন অ্যাম্বাসেডর জিজ্ঞাসা করেছেন।’


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ