সংসদে যাওয়া না যাওয়া প্রশ্নে বিএনপির সিদ্ধান্ত বদলের আশায় নির্বাচিতদের অনেকে

Pub: মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৩, ২০১৯ ১১:০২ অপরাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫, ২০১৯ ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলটির নির্বাচিতদের শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমে এই বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন।
বাংলাদেশে বিরোধীদল বিএনপি নির্বাচিত কয়েকজন সংসদ সদস্য বলেছেন, শপথ নেয়ার প্রশ্নে বিএনপি সিদ্ধান্ত বদলায় কিনা, তারা এখন সেজন্য অপেক্ষা করছেন।

দলটির নীতি নির্ধারকরা ইতিমধ্যেই তাদের নির্বাচিত ছয় জনের শপথ না নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যদিও সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে ৩০শে এপ্রিল।

শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে দলটির নেতারা রাজনৈতিক অনেক হিসাব নিকাশ করার কথা বলছেন।

এমন সিদ্ধান্ত দলটিতে কি কোনো প্রভাব ফেলবে-এনিয়েও আলোচনা রয়েছে দলটিতে।

বিএনপি গত ৩০শে এপ্রিলের নির্বাচন এবং ফলাফল প্রত্যাখ্যান করার পর থেকেই তাদের নির্বাচিতদের শপথ না নেয়ার কথা বলে আসছিল।

কিন্তু শপথ নেয়া না নেয়ার প্রশ্নে দলটিতে নানা আলোচনা ছিল।

তাদের নেতা-কর্মীদের মাঝে শপথ নেয়ার পক্ষ-বিপক্ষে মত থাকার কথাও বিভিন্ন সময় প্রকাশ হয়েছে।বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিও সেই আলোচনায় ছিল।

এছাড়া নির্বাচিতদের দিক থেকেও শপথ নেয়ার পক্ষে সিদ্ধান্তের জন্য দলে একটা চাপ সৃষ্টির চেষ্টা ছিল।

নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের দিন থেকে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে শপথ নেয়ার যে বিধান রয়েছে, সেই সময় শেষ হচ্ছে ৩০শে এপ্রিল।

শেষ পর্যন্ত শপথ নেয়ার সময় যখন শেষের পথে, তখন এসে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা তাদের নির্বাচিতদের শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।

শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে শুধু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জয়লাভ করায় তার সাথেও অন্য নেতাদের সম্পর্কের একটা টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল এবং তা এখনও রয়েছে
দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, তাদের এই সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণ বা ব্যাখ্যা নির্বাচিতদের ইতিমধ্যে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

“আমরা তো বললামই যে এটা নির্বাচন হয় নাই। আমরা নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করলাম। যেখানে আমরা নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করলাম, স্বাভাবিকভাবেই আমাদের সিদ্ধান্ত হলো যে, আমাদের নির্বাচিতদের সংসদে যাওয়াটা সঠিক হবে না। আমরা এই সংসদ নির্বাচনকে বৈধতা দেয়ার জন্য সংসদে যেতে পারি না।” বলছেন মি. আহমেদ।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া দলটির নীতি নির্ধারক বা হেভিওয়েটদের কেউই ৩০শে এপ্রিলের নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি। ফলে নীতিনির্ধারকরা দলকে শপথ নেয়ার বিপক্ষে দলকে নিয়ে গেছেন বলে নির্বাচিতদের অনেকে মনে করছেন।

অন্যদিকে, নির্বাচিতদের মধ্যে মি: আলমগীর ছাড়া বাকি পাঁচজনই মাঠ পর্যায়ের নেতা। এই পাঁচজনের সাথে কথা বলে মনে হয়েছে, তারা শপথ নিয়ে সংসদে যাওয়ার জন্য দলের নেতৃত্বের ওপর এখনও চাপ সৃষ্টি করতে চাইছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ বলছিলেন, দলের সিদ্ধান্ত বদলায় কিনা, তারা এখনও সেই অপেক্ষায় আছেন।

“আমাদের নির্বাচনী এলাকা থেকে জনগণের পক্ষ থেকে আমাদের প্রতি যে দাবিটা রয়েছে যে, আমরা যেনও সংসদে যাই। সেটা আমরা দলের নেতাদের জানিয়েছি। ৩০শে এপ্রিলের মধ্যে আমাদের শপথ নেয়ার পক্ষে মতামত যেনও দেয়া হয়, সেটাও আমরা জানিয়েছি। এখন আমরা দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।”

বিএনপি নেতাদের অনেকে বলেছেন, নির্বাচিতদের কেউ কেউ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নিতে পারেন, এমন সন্দেহ দলটিতে তৈরি হয়েছে।

এমনকি শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে শুধু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জয়লাভ করায় তার সাথেও অন্য নেতাদের সম্পর্কের একটা টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল এবং তা এখনও রয়েছে।

এই পরিস্থিতি দলটির বিপর্যয় কাটানোর ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে ঐ নেতারা মনে করেন।

শপথ না নিলে বিএনপি টানা দ্বিতীয়বারের মতো সংসদের বাইরে থাকবে।

তবে বিএনপি দলীয় একজন সাবেক সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী বলছিলেন, সংসদে না গেলে তাদের দলের এখনকার পরিস্থিতিতে লাভ ক্ষতির কিছু নেই।কারণ তারা বিপর্যয় পরিস্থিতির মদ্যেই রয়েছেন।

তিনি বলছিলেন, “আর কত সমস্যা হবে। বিএনপি চেয়ারপার্সনকে অন্যায়ভাবে দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলে রাখা হয়েছে। দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এক যুগ ধরে দেশের বাইরে আছেন। লাখ লাখ বিএনপির নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে।”

“ঐ যে শরৎ চন্দ্র বলেছিলেন, মরার আবার জাত কি? আপনি যখন মেরেই ফেলবেন, একটা লাশ আপনি নদীতে ফেলেন বা পুকুরে ফেলেন বা যাই করেন না কেন, লাভ ক্ষতির কি আছে? এখন বিএনপির ওপর যে অত্যাচার চালানো হচ্ছে, তাতের সংসদে গেলে কি সে সব বন্ধ হবে?”

তিনি মনে করেন, সংসদে না গেলে তাদের দলে এর কোনো প্রভাবই পড়বে না।

দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীদেরও একটা বড় অংশ একই মত পোষণ করেন।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিএনপির একজন নেত্রী নাসিমা আকতার চৌধুরী বলেছেন, তাদের নেত্রী খালেদা জিয়া মুক্তির দাবির ব্যাপারে সরকারের কোনো সাড়া নেই।ফলে দল সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

বিএনপি নেতাদের অনেকে মনে করেন, তারা সংসদে গেলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং দেশে ভোটারদের কাছে সরকার বৈধতা পাবে। সেটা সরকারের জন্য লাভ হবে।

তারা আরও বলেছেন, বিএনপি সংসদে না গেলে দলটি আপোষহীন একটা অবস্থানও তুলে ধরতে পারবে।

এসব রাজনৈতিক হিসাবনিকাশের পাশাপাশি খালেদা জিয়ার মুক্তির ইস্যুও তাদের সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে বড় বিষয় ছিল বলে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের অনেকে বলছেন।

তবে সংসদের বাইরে থেকে বিএনপি সহসাই কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারবে কিনা এ নিয়ে দলটির নেতা কর্মীদের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে।বিবিসি বাংলা


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ