fbpx
 

দেশে আইন আছে, প্রয়োগে নিরপেক্ষতা নেই: মওদুদ আহমদ

Pub: বৃহস্পতিবার, মে ২, ২০১৯ ৮:৩৩ অপরাহ্ণ   |   Upd: শুক্রবার, মে ৩, ২০১৯ ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ‘দেশে আইন আছে ঠিকই, কিন্তু সেটার প্রয়োগ বিএনপির ক্ষেত্রে এক রকম এবং সরকারের লোকদের ক্ষেত্রে অন্যরকম। যদি আইনকে স্বতন্তভাবে চলতে দেয়া হতো এবং সেটার সঠিক প্রয়োগ থাকতো তাহলে বেগম জিয়া অনেক আগেই মুক্তি পেতেন।’

বৃহস্পতিবার (২ মে) সুপ্রিম কোর্টের বার কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, শারীরিক সুস্থতা ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়ার আশু রোগ মুক্তি কামনায় আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়া যে মামলায় কারাবন্দি এটা সম্পূর্ণ একটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলা। তার সাথে যা কিছু করা হচ্ছে যত প্রকার অবিচার করা হচ্ছে সেগুলো সবই রাজনৈতিক। রাজনৈতিক কারণেই বেগম জিয়ার মুক্তি হচ্ছে না। বেগম জিয়া সরকারের সাথে কোনো ধরনের মিথ্যার বিরুদ্ধে আপোষ করবেন না। বেগম জিয়া অসুস্থ ঠিকই কিন্তু তিনি মানুষিক ভাবে খুবই শক্ত আছেন। আইনি প্রক্রিয়ায় যদি বেগম জিয়ার জামিন না হয় এবং তাকে মুক্তি করতে না পারি  তাহলে অবশ্যই আমাদের আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করা হয়ে ইনশাল্লাহ!’

ব্যারিস্টার মওদুদ খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘সানাউল্লাহ মিয়ার মননোয়নের ব্যাপারে আমরা খুব মর্মাহত আমরা স্থায়ী কমিটির মননোয়ন বোর্ডে যারা ছিলাম তারা তাকে মননোয়ন দিয়েছিলাম। কিন্তু কেন জানি সেটা পরিবর্তন করে দেয়া হলো। সানাউল্লাহ দলের জন্য অনেক কিছু করেছেন। তার অনেক অবদান রয়েছে যেটা লক্ষণীয়। কিন্তু তার সাথে দলের পক্ষ থেকে নিষ্ঠুর অবিচার করা হয়েছে।’ 

দোয়া মাহফিলে বক্তব্যের শুরুতে মওদুদ সাবেক স্পিকার এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘মাননীয় স্পীকার যদি অনুমতি দেন তাহলে আমি কিছু বলি।’

দোয়া মাহফিলে জমির উদ্দিন সরকার তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, ‘বেগম জিয়া তিনবার রাষ্ট্রপরিচালনা করেছেন এবং তিনি সঠিকভাবেই গণতন্ত্রের চর্চা করেছেন। তিনি দেশের সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একজন নেত্রী। কিন্তু বর্তমানে দেশের সংবিধান এবং গণতন্ত্র দুটোই বিপন্ন।’

তিনি বলেন, ‘তাঁকে যেসব মামলায় জড়িয়ে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এগুলো জামিন যোগ্য মামলা। সুতরাং সরকার রাজনৈতিকভাবে যদি তাঁকে আটকে না রাখে তাহলে তার মুক্তির কোন বাধা থাকবে না।’ 

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বার কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন।

এসময় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গণমানুষের নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৭ টি মামলা। ১/১১ এর সময় বেগম জিয়া এবং শেখ হাসিনা দুজনের বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছিল কিন্তু সেটা তাঁর (শেখ হাসিনা) নিজস্ব ক্ষমতা বলে প্রত্যাহার করে নেয়া হলো আর বেগম খালেদা জিয়ার মামলায় তিনি আজ জেলে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংসদ যাওয়া না যাওয়ার সাথে বেগম জিয়ার মুক্তির কোন সম্পৃক্ততা নেই। যেটা মানুষ বলেছে সেটা সরকারের কোন মহল থেকে সৃষ্টি একটা গুজব। বেগম জিয়া যদি সুস্থ হয় এবং বাঁচেন তাহলে দেশ বাঁচবে আর যদি তিনি সুস্থ না হন এবং মুক্তি না পান তাহলে অসুস্থ দেশ অসুস্থই থেকে যাবে।’

সানাউল্লাহ মিয়া প্রসঙ্গে জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘কেন আজ সানাউল্লাহ মিয়ার এই অবস্থা? ভবিৎষতে যেন আর কারো সানাউল্লাহ মিয়ার মত না হতে হয় সেজন্য বিএনপির নীতিনির্ধারকের প্রতি দৃষ্টি আকর্শন করছি।’

সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, ‘সরকার বেগম জিয়ার সাথে একটা অমানবিক অচরণ করেছেন। ৭০ বছর বয়সী এমন একজন অসুস্থ মানুষকে সরকার মেরে ফেলার জন্য বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেলে আটকিয়ে স্বৈরাচারীভাবে ক্ষমতায় টিকে রয়েছে। জনগনকে বাঁচাতে হলে এবং দেশকে বাঁচাতে হলে দুর্বার আন্দোলন করে বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। এজন্য দেশের মানুষকে আমাদের সঙ্গে থাকতে হবে। সরকার বেগম জিয়াকে ভয় পায় বলেই কারারুদ্ধ করে রেখেছে।’

দোয়া মাহফিলে অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য খোরশেদুল আলমগির, নারায়ণগঞ্জ বার এসোসিয়েশনের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন, জুলফিকার আলী ঝুনু, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির  সাবেক সহ-সম্পাদক এডভোকেট সাইফুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ নাসরিন আক্তারসহ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ