fbpx
 

জিএম কাদেরের ঘোষণা এরশাদের নির্দেশেই চলবে জাতীয় পার্টি

Pub: মঙ্গলবার, মে ৭, ২০১৯ ১০:১০ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নতুন দায়িত্ব পেয়েই দলকে আগের মতো সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছেন জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের। দলকে এগিয়ে নিতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন তিনি। এসব পরিকল্পনার মধ্যে আছে- জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের আয়োজন করা।

তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে নয়া মেলবন্ধন তৈরির মধ্য দিয়ে দলকে সক্রিয় এবং শক্তিশালী করা। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলায় সম্মেলন, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে সক্রিয় করা, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে দলকে ঢেলে সাজানো এবং গণমুখী কর্মসূচি দিয়ে সংসদ ও রাজপথে সরব থাকা।

রোববার জিএম কাদের যুগান্তরকে জাতীয় পার্টিকে নিয়ে তার নয়া এ পরিকল্পনার কথা জানান।

একইদিন দুপুরে পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী অফিসে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন জিএম কাদের। সেখানে তিনি বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদই আমাদের নেতা। তিনি যতদিন বেঁচে আছেন, তার নির্দেশনা অনুযায়ীই জাতীয় পার্টি চলবে।’ এখানে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেন।

শনিবার রাতে দলটির চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সংবাদ সম্মেলন করে জিএম কাদেরের হাতে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব অর্পণ করেন। দলটির বেশিরভাগ নেতাকর্মী হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের এ সিদ্ধান্তে খুশি।

তাদের মতে, পার্টি চেয়ারম্যানের অসুস্থতার কারণে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড অনেকটা থেমে ছিল। বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদও অনেকটা অসুস্থ। এ অবস্থায় দলের ঐক্য বজায় রাখার পাশাপাশি জাতীয় পার্টিকে এগিয়ে নিতে জিএম কাদেরই শেষ ভরসার জায়গা। তাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়ে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ঠিক কাজটিই করেছেন বলে মনে করেন দলের নেতাকর্মীরা।

রাজনীতিতে ‘ক্লিনম্যান’ হিসেবে পরিচিত জিএম কাদেরকে বিভিন্ন সময়ে নিজের এবং দলের উত্তরসূরি বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন বড় ভাই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই তিনি বিবৃতি দিয়ে জানান, ছোটভাই জিএম কাদেরই তার রাজনৈতিক উত্তরসূরি। এর অংশ হিসেবে তাকে সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতাও নির্বাচিত করেন।

পরে তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিতে যান। সেখান থেকে ফিরে ২২ মার্চ দলে ‘বিভেদ’ তৈরি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে ‘ব্যর্থতা’র অভিযোগ তুলে জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পরদিন সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতার পদ থেকেও তাকে সরিয়ে দেয়া হয়। সংসদের উপনেতা করা হয় স্ত্রী রওশন এরশাদকে।

বিষয়টি সহজভাবে নেননি জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। তাদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ এবং দাবির মুখে জিএম কাদেরকে ৪ মে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

শনিবার মধ্যরাতে সাংবাদিকদের বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসায় ডেকে নিয়ে ছোটভাই জিএম কাদেরকে দলের ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে তার অসুস্থতাকালীন সময়ের জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন তিনি। দলের নেতাকর্মীরা মনে করেন, জিএম কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করায় জাতীয় পার্টিতে যে স্থবিরতা চলছে, তা কেটে যাবে। পাশাপাশি দলটি নতুন করে ঘুরে দাঁড়াবে।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইসাহাক ভূঁইয়া এ প্রসঙ্গে কে বলেন, মিস্টার ক্লিনম্যান খ্যাত জিএম কাদেরের মতো পরিচ্ছন্ন মানুষকে জাতীয় পার্টির সর্বোচ্চ দায়িত্বে দেয়ায় দল উপকৃত হবে।

তিনি আরও বলেন, দলের দুঃসময়ে এরশাদ জেলে গেলে কাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়ে নেতাকর্মীদের ছায়া হয়ে পাশে এসে দাঁড়ান। পরে শেখ হাসিনার মহাজোট আমলে মন্ত্রী হয়েও তিনি অতি সাধারণ জীবনযাপন করেছেন। নীতি আদর্শে সফলতার সঙ্গে রাষ্ট্রের দায়িত্বও পালন করেছেন। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা রয়েছে। দশম জাতীয় সংসদে দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশক্রমে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। দীর্ঘ সময় সরকারের মন্ত্রী ছিলেন জিএম কাদের। কিন্তু দুর্নীতির কালিমা তাকে স্পর্শ করেনি।

আরেক নেতা বলেন, জিএম কাদেরকে সফল রাজনীতিবিদ বলছি এ কারণে যে, তার আচার-আচরণে সরলতা আছে। নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে সবাইকে তিনি তার পরিবারের সদস্য মনে করেন। জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীর জন্য তার দরজা ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে। সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখরিত থাকে তার বাড়ির আঙ্গিনা। তিনি নেতাকর্মীদের মুখের দিকে তাকালেই বুঝতে পারেন কার কি সমস্যা।

নতুন দায়িত্ব নেয়ার পর রোববার দুপুরে পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী অফিসে জিএম কাদের গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, ‘পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদই আমাদের নেতা। তিনি যতদিন বেঁচে আছেন, তার নির্দেশনা অনুযায়ীই জাতীয় পার্টি চলবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শারীরিকভাবে অসুস্থ। এ কারণে তিনি পার্টির কাজকর্ম করতে পারছেন না, এতে পার্টির স্বাভাবিক গতিতে স্থবিরতা এসেছে। তাই তিনি আমাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়েছেন। যাতে তার অবর্তমানে দলের মধ্যে কোনও বিভ্রান্তি না আসে। এতে নেতাকর্মীদের প্রত্যাশাও পূরণ হয়েছে’।

জিএম কাদের বলেন, ‘কাউন্সিল আয়োজন করাটাই এখন আমাদের মূল কাজ। এ কারণেই আমাদের অনেক কাজ করতে হবে। দলকে আরও শক্তিশালী এবং ঐক্যবদ্ধ করতে আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব।’

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান তার ক্ষমতা বলে পার্টি পরিচালনায় নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। এটা বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যারা সমালোচনা করেন, তারা সমালোচনার জন্যই নানা কথা বলতে পারেন’।

সিনিয়র নেতারা ফোন করে অনেকেই অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং সবাই তার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন বলেও জানান জিএম কাদের। তিনি বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যে ঘোষণা দিয়েছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার তেমন সুযোগ নেই। তাকে এ দায়িত্ব দেয়া নিয়ে জাতীয় পার্টিতে ‘অস্থিরতার’ কথা স্বীকারও করেছেন জিএম কাদের। তবে তা ‘ততটা গুরুতর’ নয় বলেই মনে করছেন তিনি।

জিএম কাদের বলেন, ‘যারা আমাদের দলের অস্থিরতার কথা বলছেন, তাদের আমি একেবারে নাকচ করে দেব না। অস্থিরতা জীবিত মানুষের স্বাভাবিক হ্যাবিট। অস্থিরতা সব দলেরই থাকে। তবে আমাদের দলে তা অস্বাভাবিক ব্যাপার বা অস্বাভাবিক পর্যায়ে গেছে বলে আমি মনে করি না’।

কেউ দলের চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলে তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলেও হুশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

জিএম কাদের বলেন, ‘আমাদের পার্টির নিয়মনীতি অনুযায়ী যেমন ব্যবস্থা নেয়া দরকার তেমন ব্যবস্থা নেয়া হবে পার্টির শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য।’


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ