fbpx
 

খালেদা জিয়ার জামিনে ছাড় নয়, প্যারোল বিবেচনা করবে সরকার

Pub: Thursday, May 9, 2019 10:32 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ডেস্ক নিউজ:বিএনপির চেয়ারপারসন কারাবন্দী খালেদা জিয়ার মুক্তি পাওয়া না–পাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে আলোচনা। কোন প্রক্রিয়ায় তিনি মুক্তি পেতে পারেন, তা নিয়েও আসছে নানা মত। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা এ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন। তবে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে আওয়ামী লীগের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র বলছে, জামিনে মুক্তি নিয়ে বেরিয়ে আসার মতো কোনো ধরনের সমঝোতা বিএনপির চেয়ারপারসন বা তাঁর দলের নেতাদের সঙ্গে সরকারের হয়নি। তবে খালেদা জিয়া কোনো কারণ দেখিয়ে প্যারোলে মুক্তি চাইলে সরকার বিবেচনা করে দেখবে।

আওয়ামী লীগের দুজন নেতা ও দলটির সমর্থক একজন আইনজীবী বলেছেন, দুটি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসনের কারাদণ্ডের পেছনে আওয়ামী লীগের কোনো হাত নেই। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় হওয়া এ দুটি মামলা আওয়ামী লীগের আমলে পরিচালিত হয়েছে। মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হয়েছে। রাষ্ট্র ও দুদক শুরু থেকেই এই সাজার পর খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের বিরোধিতা করছে। আদালত কখনো জামিন দিচ্ছেন। আবার অন্য মামলায় জামিন না হওয়ায় খালেদা জিয়া কারারুদ্ধই থেকেছেন। সাধারণ মানুষকে আওয়ামী লীগ ও সরকার এটাই বলে আসছে। এখন হঠাৎ করে জামিন বিষয়ে সরকার অবস্থান পরিবর্তন করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বার্তা যাবে যে খালেদা জিয়াকে এত দিন জামিন না দেওয়াটা সরকারের কারণেই হয়েছে। ধীরে মানুষের মধ্যে এই ধারণা জন্মাবে যে বিএনপির চেয়ারপারসনের জেল হওয়াটাও সরকারের ইচ্ছায় হয়েছে। এটা সরকারের জন্য বিব্রতকর হবে।

আওয়ামী লীগের ওই দুই নেতা বলেন, এই মুহূর্তে সরকার বা দল এমন কোনো চাপে পড়েনি যে খালেদা জিয়ার জামিনের ব্যাপারে ছাড় দেবে। সরকার জামিনের ব্যাপারে বিরোধিতা করেই যাবে। এখন আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন, সেটা অন্য ব্যাপার। তাঁরা বলেন, তাঁদের জানা মতে, বিএনপি চেয়ারপারসনকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার কোনো চিন্তা এখনই সরকারের মধ্যে নেই। তবে প্যারোলের ব্যাপারে সরকার কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। ওই দুই নেতা বলেন, প্যারোলের ব্যাপারে সরকারের অনমনীয় অবস্থান এবং জামিনের ব্যাপারে সরকারের ‘কিছু সীমাবদ্ধতার’ বিষয়টি বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতাদের মৌখিকভাবে জানানোও হয়েছে।


অবশ্য বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা চান খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পান, অন্য কোনোভাবে নয়। যে মামলায় যেভাবে তাঁকে বন্দী করে রাখা হয়েছে, সেটা অন্যায়। জামিন পাওয়াটা তাঁর অধিকার। তিনি এর আগে গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, প্যারোলে মুক্তি চাওয়ার বিষয়টি খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এর সঙ্গে দলের সিদ্ধান্তের সম্পর্ক নেই।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সচিবালয়ে বিএনপির নেতাদের দুই দফা বৈঠকে জামিন ও প্যারোলের প্রসঙ্গ ওঠে। সেখানে জামিনের বিষয়টিকে আদালতের ব্যাপার বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়। আর প্যারোলে মুক্তি চাইলে আবেদন করতে পরামর্শ দেওয়া হয়। ওই বৈঠকে থাকা বিএনপির এক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বলতে চেয়েছি, সরকারের বিরোধিতার কারণে খালেদা জিয়া জামিন পাচ্ছেন না। সরকার যেন জামিনের বিরোধিতা না করে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কখনোই কোনো সাড়া পাইনি। তবে প্যারোলে বিএনপির চেয়ারপারসন মুক্তি চাইলে সরকার নমনীয় হবে বলেই আমাদের মনে হয়েছে।’



এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির নেতারা খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবিতে তাঁর সঙ্গে দুবার দেখা করেছেন। সেই আশ্বাস তাঁদের দেওয়া হয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসনের চিকিৎসার বিষয়ে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বিএনপির নেতারা জানেন, জামিন হওয়া না–হওয়া আদালতের বিষয়। আর প্যারোলের ব্যাপারে তো বলছি, আবেদন পেলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে। কিন্তু বিএনপির চেয়ারপারসন বা তাঁর পরিবারের কেউ তো আবেদন করেননি।’

অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের ভর্তির আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘আমরা সরকারকে বলছি, আপনারা আদালতে খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধিতা করবেন না। তাহলেই খালেদা জিয়া জামিন পাবেন। কেননা, এটা তাঁর অধিকার। কিন্তু এ ব্যাপারে সরকারের অবস্থান কঠোর।’

বিভিন্ন সময়ে বিএনপির চেয়ারপারসন মামলা পরিচালনাকারী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন মনে করেন, সরকারের খালেদা জিয়াকে জামিন পেতে দেবে না। নিত্যনতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আটক রাখবে। বিএনপির এই নেতা খালেদার প্যারোলে মুক্তির কথা বলে বিএনপিতে সমালোচনার মুখে পড়েন।

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দীন রোডের কারাগারে আছেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ৫ বছরের সাজার রায় হয় তাঁর। পরে হাইকোর্টের রায়ে এই মামলায় সাজার মেয়াদ বেড়ে ১০ বছর হয়। এরপর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায়ও তাঁর ৭ বছরের কারাদণ্ড হয়।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তি দাবিতে তাঁর দল তখন থেকেই আন্দোলন করে আসছে। নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেও এই দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করছে দলটি। কিন্তু খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে সরকারকে চাপে ফেলতে পারেনি তারা। প্রথম আলো


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ