যে সিদ্ধান্তে অটল বিএনপি

Pub: সোমবার, মে ১৩, ২০১৯ ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, মে ১৩, ২০১৯ ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে বর্তমান সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএনপি। সেই সিদ্ধান্তে অটল থেকেই উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়নি দলটি। আগামী ২৪ জুন বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনেও অংশ নেয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানা গেছে। তবে দলীয় সিদ্ধান্তে সংরক্ষিত একটি নারী আসনে প্রার্থী দেয়া হতে পারে।

গত ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ‘ভোট ডাকাতির নির্বাচন’ অভিহিত করে তা প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি। একই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও। বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ছিল তাদের নির্বাচিত ৮ এমপি শপথ নেবেন না; কিন্তু ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত গণফোরামের দু’জন সুলতান মো: মনসুর ও মোকাব্বির খান জোটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ায় উল্টো দিকে ঘুরতে থাকে পরিস্থিতি।

এদের পথ ধরে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত জাহিদুর রহমান জাহিদও শপথ নেন। দল ও জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করায় এই তিনজনের দুইজনকে বহিষ্কার এবং একজনকে শোকজও করা হয়; কিন্তু শপথ নেয়ার নির্ধারিত সময়ের শেষদিনে নির্বাচিত পাঁচজনের মধ্যে চারজনের শপথ নেয়ার নাটকীয় সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। শুধু দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কৌশলগত কারণে শপথ নেয়া থেকে বিরত থাকেন।

শপথ নেয়ার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ায় গত ৩০ এপ্রিল মির্জা ফখরুলের বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এরপর নির্বাচন কমিশন আগামী ২৪ জুন এই আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ২৩ মে। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২৭ মে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৩ জুন। ২৪ জুন ভোট গ্রহণ করা হবে।

বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির পরবর্তী কৌশল কী হবে তা নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক কৌতূহল আছে। শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের মতো বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়েও বিএনপি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে এমন আলোচনাও রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপনির্বাচনে অংশ নেয়ার কোনো আগ্রহ নেই বিএনপির। নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার ন্যূনতম কোনো সম্ভাবনা নেই মনে করে উপজেলা নির্র্বাচনে অংশ নেয়নি তারা। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে উপজেলা নির্বাচনে যারা অংশ নিয়েছিল, তাদের সবাইকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

তবে মতামত উপেক্ষা করে শপথের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হওয়ায় বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা চুপচাপ আছেন। অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় তারা বলেছেন, এই সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী এক নেতা বলেন, ‘খুশি মনে সংসদে যায়নি বিএনপি।

ক্ষমতাসীনদের চাপ, নির্বাচিত এমপিদের চাপ, বিদেশীদের চাপ, ফ্রন্টের শরিকদের একটি অংশের চাপ এবং পরবর্তী নানা শঙ্কা থেকে সংসদে যেতে বিএনপি বাধ্য হয়েছে; কিন্তু ভোট ডাকাতির নির্বাচনের প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হয়েও শপথ নেননি। তবে এই আসনে উপনির্বাচনে বিএনপি যাবে না। কারণ এই আসনে নির্বাচনে গেলে প্রতীকী প্রতিবাদও আর থাকে না। এর বাইরে বর্তমান সরকারের অধীনে অন্য কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকেও বিএনপি সরে আসবে না।’

সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী দেয়ার বিষয়ে এই নেতা বলেন, সরাসরি নির্বাচনের বিষয় থাকলে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি প্রার্থী দিত না। যেহেতু এটা কোটার ভিত্তিতে হচ্ছে সেহেতু একজন নারী এমপিকে সংসদে পাঠাবে বিএনপি। অনেকের নাম আলোচনায় থাকলেও সিনিয়র নেত্রী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানকে নিয়েই ভাবা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

সংরক্ষিত নারী আসনটির নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদের ৪৯টি সংরক্ষিত আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির অনুকূলে বণ্টন করা অবশিষ্ট একটি সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন হবে। এ জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২০ মে, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ২১ মে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন ২৯ মে এবং ভোট গ্রহণ হবে ১৬ জুন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে সংরিক্ষত আসনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হবে।

বগুড়া-৬ আসনে নির্বাচন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী দেয়ার বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ ব্যাপারে দল এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ